
মিস্টার থমাস গাড়ির পেছনের সিটে বসে আছে। ড্রাইভার জ্যাক শান্ত ভাবেই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।
গাড়িটা আকস্মিকভাবে বাঁক নেওয়ায় গাড়ির দরজার ওপর প্রায় হেলে পড়েছিল থমাস। থমাস বলল, “এত তাড়াহুড়া করো না।ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে যাও।দেখছোই তো বৃষ্টি হচ্ছে।এই প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ী রাস্তা গাড়ি চালাতে হবে সাবধানে।”
জ্যাক কোন কথার উত্তর দিল না।দুই ঘন্টা পর বড় বড় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া গাছের ছায়ায় ঢাকা ড্রাইভওয়েতে গাড়ি ঢুকে পড়লেন।জায়গাটা দেখেই কেন জানি থমাসের ভালো লাগল না। ম্যাপল,ওক,পাইন অন্যান্য নানারকম জংলা গাছের জটলায় ভর্তি বাড়িটার আশপাশ।বোঝাই যাচ্ছে বাগান পরিচর্যার জন্য কোনো মালী নেই। অনেক দিন ধরে ঘরের সামনের উঠোন পরিষ্কার করা হয়নি। ইঁদুর পোকা মাকড় মরে পড়ে আছে।গাড়ি থেকে নামতেই একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এসে পড়লো। থমাস নাকে রুমাল চেপে ধরলেন।বহুদিন এসব গাছ ছাঁটাই করা হয় না। ফলে যত্রতত্রভাবে আর যেমন খুশিমতো গাছগাছালি বেড়ে উঠেছে। কিন্তু তার বাড়িটা এমন পুরনো লাগছে কেন?ফোনে মিটসুকো বলেছে দু বছর হলো না নতুন বাড়িটা তৈরি করেছে।তার মধ্যে এইরকম হলো কীভাবে? থমাসের মনে হচ্ছে কোন শতবর্ষ পুরনো ভাঙ্গা পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। থমাস বাড়ির এই অবস্থা দেখে অবাক না হয়ে পারে না। ছোট বেলা থেকেই মিটসুকো বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে।ঘরের মধ্যে কোথাও নোংরা দেখা যায় না। সেখানে বাড়ির এই হাল দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই।মিটসুকোর বিশাল বড় হোটেল আছে। থমাস গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে ড্রাইভার কে বিদায় করে দিল।ড্রাইভার কে বিদায় করে বাড়িতে প্রবেশ করতেই ইচিরো পেছন থেকে ডাক দিল।বলল, “কোথায় যাচ্ছেন?”
থমাস বলল, “মিটসুকোর বাড়িতে।এটা তো ওরই বাড়ি তাই না?”
ইচিরো বলল, “হ্যা কিন্তু ওদের হোটেল অনেক দিন ধরে বন্ধ পড়ে আছে।আমি তো প্রায় কয়েক দিন এসে হোটেল থেকে ঘুরে গেলাম।আজ প্রায় একমাস হলো হোটেল বন্ধ। আমি বুঝতে পারছি না হঠাৎ করেই হোটেল বন্ধ করে দিল কেন। হোটেল বেশ ভালোই চলছিল”
থমাস একটু অবাক হলেও কোন জবাব দিল না। সোজা হোটেলের ভেতর প্রবেশ করলো। হোটেলের ভেতর প্রবেশ করতেই আরো অবাক হওয়ার পালা। বাইরে থেকে অপরিষ্কার মনে হলেও ভেতরটা একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।থমাস কে দেখে মিটসুকো এগিয়ে এলো।হোটেলে কেবল মাত্র দুইজন চুপচাপ বসে আছে।মিটসুকো ও তার সহকারী ন্যান্সি। থমাস বলল, “কী ব্যাপার বলো তো? হঠাৎ করেই এইরকম দেখা করতে চাওয়ার কারণ কি?”
মিটসুকো কোন ভনিতা ছাড়াই বলল, “শুনলাম তুমি নাকি অলৌকিক বিষয় নিয়ে কাজ করছো। আমার তোমার সাহায্য চাই। আমার হোটেলে হঠাৎ করেই মানুষ আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক মানুষ জানতে চাইছে আমার হোটেল বন্ধ করেছি কেন?”
থমাস বলল, “বেদিতে কার জন্য খাবার রেখেছ?কোন অপশক্তির জন্য নাকি অন্য কিছু”
মিটসুকো বলল, “এইগুলো বিশেষ কারোর জন্য রাখা”
থমাস বলল,”বুঝতে পেরেছি। তবে একটা কথা হয়তো তোমার জানা নেই। তোমার হোটেল বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় কোন ডাস্টবিন । এছাড়া জংলি গাছ পালা তো আছেই। মানুষ হোটেলের সামনে দিয়ে গেলে মুখের মধ্যে কাপড় দিয়ে যেতে হয় এত বিশ্রী দুর্গন্ধ। বাইরের থেকে দেখলে মনে হয় অনেক দিন দোকান বন্ধ হয়ে আছে। একজন বলল প্রায় একমাসের মতো।ভেতরে আসার পর আমার ধারণা বদলে গেল। আমার কাছে সত্যি এর কোন ব্যাথা নেই। তবে তুমি যদি সব খুলে বলবো তাহলে হয়তো আমি কোন সমাধান খুজে বের করতে পারবো”
ন্যান্সি বলল, “সে নাহয় পরে হবে। আপনি অনেক দূর থেকে এসেছেন।একটু হালকা খাবার খেয়ে নিন। এরপর অন্য সব কথা হবে”
থমাস বলল, “হ্যা খাবার নিয়ে এসো। অনেক দূর থেকে জার্নি করে এসেছি। আমি খুব ক্ষুধার্ত”
থমাস একটা চেয়ার টেনে বসল।মিটসুকো খাবার বেড়ে নিয়ে এল। থমাস চামচ দিয়ে ভাত নাড়া দিতেই দেখল ভেতরে অসংখ্য পোকা কিলবিল করছে। থমাস বেশ অবাক হয়ে যায়। খাবার একবারে গরম আছে। এখন ও খাবার থেকে ধোঁয়া উড়ছে তাহলে এত তাড়াতাড়ি খাবার নষ্ট হলো কীভাবে। খাবার থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে। থমাস মিটসুকোকে বলল খাবার গুলো ফেলে দিতে।
মিটসুকো খাবার গুলো ফেলে দিয়ে বলল, “আজ অনেক দিন ধরে এমন হচ্ছে। কয়দিন আগের কথা কোন কাস্টমার না আসায় বাইরে থেকে এক কাস্টমার কে জোর করেই ডেকে নিয়ে আসি।সে খাবার পার্সেল করে নিয়ে যায় ।পাঁচ মিনিট পর আবার ফিরে আসে।বলছে আমরা তাকে পচা খাবার দিয়েছি। এরপর আমরা তাকে টাকা ফেরত দিয়ে দেই।গরম খাবার এত তাড়াতাড়ি কি ভাবে নষ্ট হয়ে যায় বুঝতে পারছি না। আমার স্বামী আলফ্রেড এই হোটেল টা পরিচালনা করতো।সে অনেক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে”
থমাস বলল, “একমাসের কম?”
মিটসুকো বলল, “হ্যা”
থমাস বলল, “তুমি সবকিছু খুলে বলতেই পারো তাহলে আমার সুবিধা হবে। আমার মনে হয় তোমাদের উপর কোন অপশক্তির নজর পড়েছে”
মিটসুকো বলল, “ছয় মাস আগে আমাদের ছেলে ইথান মারা গেল।ইথানের মৃত্যুর পর আমরা খুব ভেঙে পড়ি। এরপর আমি এই পুতুলের সন্ধান পাই।এক অভিশপ্ত পুতুল।সে হলো ক্রিয়ান্থ থাও ।ক্রিয়ান্থ থাও হলো এক ধরনের অভিশপ্ত মূর্তি বা পুতুল।এই পুতুল যেই ঘরে রাখা হয় সে ঘরের মৃত সন্তানের আত্মা ধারন করে। শুধু তাই না এই পুতুল কে সঠিক ভাবে যত্ন নিতে হবে। তাহলে এই মূর্তি সৌভাগ্য আনতে পারে, তবে যদি সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়া হয়, তবে এটি বিপদ আনতে পারে। আমার কবিরাজের কাছ থেকে তার কথা মতো এই পুতুল কে আমার ঘরে নিয়ে আসি। পুতুল কে একদম নিজের সন্তানের মতো করে যত্ন করতে লাগলাম। ফলস্বরূপ প্রতিদিন বিছানার নিচে একটা করে স্বর্ন মুদ্রা পেতে শুরু করলাম।দিনে দিনে আমরা ধনী হতে শুরু করলাম।আগে অন্যের হোটেলে কাজ করতাম এখন নিজের হোটেল হলো।বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করলাম। কিন্তু আলফ্রেড এর মনে লোভ জন্ম নিল।সে পুতুল কে অবহেলা করতে শুরু করলো।একটা সময় ক্রিয়ান্থ থাও কে খাবার দিতে ভুলে যাওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করা শুরু হলো।একসময় আলফ্রেড পুতুল কে ডাস্টবিনের মধ্যে ফেলে দেয়। এরপর থেকে শুরু হয় এইসব ।হোটেলে মানুষ আসা বন্ধ হয়ে যায়। আলফ্রেড অসুস্থ হয়ে পড়ে।পুরো শরীর মনে হচ্ছে কেউ এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে।তাই তোমাকে খবর দেয়া। তুমি প্লীজ আমাকে সাহায্য করো”
থমাস বলল, “সত্যি করে বলো তো তোমাদের আসলে কোনটার দরকার ছিল।অর্থ সম্পদ নাকি সন্তান?”
মিটসুকো বলল, “আমার দরকার সন্তান আর আলফ্রেড চায় টাকা পয়সা”
ন্যান্সি বলল, “আচ্ছা চলুন।বাড়ি ফিরে যাবেন।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো বলে।”
থমাস বলল, “হ্যা চলো। তোমরা কোন পুতুলের কথা বলছো আমার জানা দরকার। আমি এমন কোন পুতুলের ব্যাপারে শুনিনি।”
মিটসুকো থমাসের কথায় সম্মতি জানালো। ন্যান্সি হোটেল বন্ধ করে নিল। এরপর তিনজনে বেরিয়ে পড়লো বাড়ির উদ্দেশ্যে।বাড়ি হোটেল থেকে বেশী দুরের নয়।হোটেলের একটু পরেই তাঁদের বাড়ি। দোতলা নতুন বাড়ি।থমাস বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই শরীর টা ভার হয়ে এলো।থমাস কোন অশরীরী শক্তির উপস্থিতি টের পাচ্ছে। কিন্তু সেটা বুঝতে দিল না।মিটসুকো বলল, “চলো আগে তোমাকে খাবার দেই। এরপর তোমার সাথে আলফ্রেড এর পরিচয় করিয়ে দিব”
থমাস তার কথায় সম্মতি জানালো। ন্যান্সি থমাস কে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে বসতে দিল।মিটসুকো হলের রকমের খাবার পরিবেশন করতে লাগলো।থমাস হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেতে শুরু করলো। সারাদিনের ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত শরীর খাবার খাওয়ার সাথে সাথে চোখে ঘুম চলে এলো।থমাসের যখন ঘুম ভাঙল তখন একটা অন্ধকার হয়ে এসেছে।থমাস বিছানা ছেড়ে উঠে লাইট জ্বালিয়ে নিল। হঠাৎ ধুর থেকে কারো আর্তনাদ ভেসে আসতে লাগলো। থমাস দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলে দেখলো মিটসুকোর ঘর থেকে কোন পুরুষালি শব্দের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।কোন একজন পুরুষের আর্তনাদ।এটা হয়তো আলফ্রেড এর আওয়াজ। থমাস মিটসুকোর রুমের ভেতরে চলে গেল।রুমের মধ্যে একটা খাটের উপর একজন পুরুষ মানুষ শুয়ে আছে। থমাস বুঝলো এই হলো আলফ্রেড। আলফ্রেডের হাত পা বাঁধা। সমস্ত শরীরের ফোঁড়া উঠে আছে। শরীরের মধ্যে এক বিন্দু জায়গা বাকি নেই। আলফ্রেড যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠছে। আলফ্রেড এর পুরো শরীর যেন কেউ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।চামড়া ঝলসে গেছে। পাশেই মিটসুকো আর ন্যান্সি দাঁড়িয়ে আছে। থমাস বলল, “তার অবস্থা তো খুব খারাপ। এভাবে বাড়ি ফেরে রেখেছ কেন? তোমার উচিত ছিল হাসপাতালে ভর্তি করানো।ওর এখন ভালো চিকিৎসা দরকার”
মিটসুকো বলল, “তার দরকার নাই।সে এমনিতেই বাঁচবে না।”
থমাস বলল, “তাহলে আমাকে ডেকেছ কেন ?”
ন্যান্সি বলল, “আমাদের দুজনকে বাঁচানোর জন্য”
থমাস বলল, “আমার কাছে কোন উপায় জানা নেই। আমি আমার এক পরিচিত কবিরাজের সাথে কথা বলেছি।সে বলেছে এখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। তবে তোমরা যেহেতু তার আত্মাকে বাসায় ডেকে এনেছ।সে এখন তোমার সন্তানের শরীরে আছে তাহলে তাকে সঠিক যত্ন নেও।”
ন্যান্সি বলল, “তোমার কাছে কি সত্যি কোন উপায় নেই”
থমাস বলল, “আছে তুমি কি মানতে পারবে?”
মিটসুকো বলল, “আমি হব পারবো”
থমাস বলল, “আমার সেই কবিরাজ বলেছে একটা উপায় তার কাছে আছে কিন্তু এরজন্য তোমাকে ইথানকে হারাতে হবে।এতেই তোমার জন্য ভালো হবে।ইথান অনেক আগেই মারা গেছে। সবাইকেই একদিন মরে যেতে হবে।তাই তোমার উচিত এই অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসা”
ন্যান্সি বলল, “আমাদের কি করতে হবে বলুন”
থমাস বলল, “আলফ্রেড কে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেও।আর আমরা তিনজন সেই সাথে ইথান সেই কবিরাজের কাছে যাব। এরপর যা করার কবিরাজ করবেন”
মিটসুকো বলল, “ঠিক আছে”
থমাস হাসপাতালে ফোন দিল।আধ ঘন্টা পর এম্বুলেন্স এসে হাজির হলো। এম্বুলেন্স আলফ্রেড কে হাসপাতালে নিয়ে গেল।আলফ্রেডের সাথে ন্যান্সি কে পাঠানো হল।
পরদিন সকাল। থমাস কবিরাজের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। থমাস ড্রাইভারের পাশে সিটে বসে আছে। অন্যদিকে মিটসুকো ও ইথান পিছনে বসে আছে।ইথান তার মায়ের সাথে কবিরাজের কাছে যেতে অমত করে না। এককথায় রাজি হয়ে যায়। গাড়ি আপন মনে চলছে লাগলো। বাইরে আজ ও বৃষ্টি হচ্ছে। রেডিও তে একটা পুরোনো আমলের গান বেজে চলেছে। হঠাৎ মিটসুকোর ফোন বেজে উঠল। ন্যান্সি ফোন করেছে।ফোন রিসিভ করতেই ন্যান্সি ওপাশ থেকে বলল, “ডাক্তার বলছে রোগী আর একদিন আগেই মারা গেছে”
মিটসুকো বলল, “এটা কি করে সম্ভব? সে তো কাল রাতে ও কথা বলেছে”
ন্যান্সি বলল, “আমি জানি না”
মিকসুকো বলল, “তুমি চিন্তা করো না। নিশ্চয়ই কোন একটা ব্যবস্থা হবে”
ন্যান্সি বলল, “আমার ভয় করছে। আলফ্রেড এর মতোই আমার হাতে দুইটা ফোঁড়া দেখা গেছে। শরীর কালচে বর্ণের হয়ে যাচ্ছে”
মিটসুকো বলল, “আমরা কবিরাজের কাছে এসেছি।সব ঠিক হয়ে যাবে”
মিটসুকো ফোন রেখে দিল।তাকে খুব চিন্তিত দেখা যাচ্ছে। থমাস সবকিছু লক্ষ্য করলেও কোনকিছু বলল না।
দুপুরে গাড়ি কবিরাজের বাড়ীর সামনে গিয়ে পৌছাল। থমাস গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার কে ভাড়া মিটিয়ে বিদায় করে দিল। থমাস বলল, “আমি ভেতরে যাচ্ছি কবিরাজের সাথে কথা বলতে। তোমরা দুইজন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকো”
মিটসুকো ইথান কে নিয়ে চৌকাঠে গিয়ে বসলো।থমাস সোজা বাড়ির ভেতরে পৌঁছে গেল।আধ ঘন্টা পর কবিরাজকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।কবিরাজ মিটসুকো কে বলল, “ইথান মারা গেছে।তাই তাকে পরিপূর্ণ গোসল জানাযা পরিয়ে দিতে হবে। এরপর কবর দিতে হবে। এরপর হয়তো তার শরীরে থাকা অশরীরী অভিশাপ চলে যেতে পারে। আমার কাছে এছাড়া আর কোন উপায় জানা নেই।এই অভিশাপ অনেক ভয়ংকর।এর থেকে বাঁচার উপায় নেই”
মিটসুকো বলল, “এরপর সবঠিক হয়ে যাবে”
কবিরাজ বলল , “হয়তো ঠিক হবে। নাহলে একটা রিচুয়াল করতে হবে।সেটা করা খুব বিপদজনক”
থমাস বলল, “এই পুতুল অভিশপ্ত কেন?”
কবিরাজ বলল, “অনেক বছর আগে এক পরিবার ধনী হওয়ার জন্য শয়তানের সাথে চুক্তি করে।বিনিময়ে তার সন্তান কে নিয়ে নেয় শয়তান।সেই বাচ্চার আত্মা এখানে বন্দি হয়ে আছে। মানুষ টাকা পয়সার জন্য এই পুতুলের আত্মা আনে কেউ সন্তানের জন্য আনে।একে জায়গা দেয়ার জন্য একটা চার বছরের মৃত ছেলের লাশ দরকার। তাহলে পুতুলের আত্মা সেই শরীরে জায়গা করে নিতে পারে।যেমন তোমার ছেলে ইথান। শরীর ইথান হলেও আত্মা ইথানের নয়।ক্রিয়ান্থ থাও পুতুল ঘরে আনলে খুব যত্ন করতে হয়। তাহলে সে অর্থ সম্পদ সাফল্য এনে দেয় কিন্তু অযত্ন করলে জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তবে ক্রিয়ান্থ থাও এর আত্মা মুক্তি দিলে হয়তো এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।”
থমাস বলল, “আপনি কাজ শুরু করে দিন”
কবিরাজ কাজ শুরু করে দিল। কবিরাজের সাথে আরো অনেক মানুষ সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিল।একটা বড় পাত্রে বিভিন্ন রকম পাতা দিয়ে পানি গরম করে রাখা হয়েছে।ইথান কে সেই পাত্রের মধ্যে বসিয়ে দেয়া হয়। কবিরাজ দুইটা পাতা দিয়ে ইথানের পুরো শরীরের উপর একটা মন্ত্র পড়তে থাকে। এরপর পাতা দুটো গায়ে মুছে দিতে থাকে। একজন লোক এক বালতি পানি এগিয়ে দেয়। কবিরাজ পানি দিয়ে ইথান কে গোসল করিয়ে দিতে থাকে। পানি ঢালার সাথে সাথে ইথানের শরীর ভয়ংকর ভাবে ঝাকুনি দিতে থাকে।গরম পানি দিয়ে গোসল করানোর পরেও ইথানের শরীর কাপছে।ইথান দেখতে পায় তার চারপাশে অসংখ্য আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয়ংকর চেহারার সব আত্মা। কিছু আত্মা এসে ইথানের চারপাশে ঘুরতে থাকে।ইথানের শরীর থেকে ক্রিয়ান্থ থাও এর আত্মা বেরিয়ে আসে।ক্রিয়ান্থ থাও দেখতে পায় এটা তো তার শরীর নয়।সে তো মরে গেছে। এইদিকে ইথানের শরীর নিথর হয়ে পড়ে থাকে। কবিরাজ খুব দ্রুত ইথানের শরীর সাদা কাপড়ে জড়িয়ে নেয়।লাশ খাটিয়ায় তোলা হবে। কবিরাজ খুব দ্রুত লাশ কবর দেয়ার ব্যবস্থা করে।মিটসুকো খুব কান্নাকাটি করে।তার ছেলে অনেক আগে মারা গেলেও ক্রিয়ান্থ থাও এর আম্মা কে নিজের সন্তানের মতো দেখে এসেছে।মিটসুকোকে ন্যান্সি ফোন করলো।ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ন্যান্সি বলল, “আমার হাত থেকে ফোড়া গুলো চলে গেছে।”
মিটকুকো কোন কথা বলল না। চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো।ইথানের শরীর এখন খারাপ শক্তির থেকে বেঁচে গেছে। আলফ্রেড মারা গেলেও মিটসুকো আর ন্যান্সি বেঁচে গেছে।ক্রিয়ান্থ থাও ও তার অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। অনেক দিন তার আত্মা পুতুলের ভেতরে বন্দি অবস্থায় ছিল।
গল্প:ক্রিয়ান্থ থাও(সমাপ্ত)
লেখায়: জান্নাতুন নাঈম
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


