
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।কে আমি ?কি আমার পরিচয় নাম ঠিকানা কিচ্ছু মনে নেই।এমনকি বাবা মায়ের নাম ও নয়। হঠাৎ করে কি এমন হলো যে সব ভুলে গেলাম।রুমে এক পাশে খাটে শুয়ে আছে অল্প বয়সী এক মেয়ে।মেয়েটি হাক দিল,
-কি এমন করছ আয়নার সামনে। মেয়েদের মত ডং করছ ।
হেসে বললাম,
-তাইলে মানছ মেয়েরা ডং করে।(কিছু চিন্তা করে)এই মেয়ে কে তুমি।একটা ব্যাচেলর ছেলের রুমে কি করছ। বাড়িওয়ালা জানলে ঘর থেকে বের করে দিবে। লোকে জানলেও তো নিন্দা করবে ছিহ ছিহ।
-এখন আবার কি নাটক শুরু করলে।আফিম টাফিম খেয়েছ নাকি।
আমি কাদো কাদো হয়ে বললাম,
-কই না তো।আগে সত্যি করে বলো তুমি কে? আচ্ছা তুমি কি আমাকে চিনো। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাম ঠিকানা সব ভুলে গেছি।
-আরো খাও আফিম,গাজা।আরো বেশি করে তাহলে সব মনে পড়বে।
-প্লীজ বলো না আমি কে? তুমি কে?
-আমি তোর বউ।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-আমি বিয়ে করেছিলাম!
-ক্যান নিজেরে কি আবিয়াত্তা মনে করছ নাকি?
-আমার মনে নাই তাই। আচ্ছা আমি কে সেটা বলো না প্লিজ
মেয়েটি বিছানা ছেড়ে উঠে একটা বাজারের ব্যাগ মুখে ছুড়ে দিয়ে বলল,
-বাজারে যা আগে। তারপর সব বলমু।
আমি মন খারাপ করে বললাম,
-একটু হিশু করি
-তোরে আটকায় কে
-না মানে টয়লেট টা কোন দিকে যেন? ভুলে গেছি।
মেয়েটি ইশারায় এগিয়ে দিল। মেয়েটি রাগে গজগজ করছে বুঝলাম না এত রেগে যাবার কি আছে।টয়লেট থেকে বের হয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দেখি মেয়ে একটা আলমারি থেকে টাকা বের করে গুনছে।আমি জোরে চোর বলে চিৎকার করে উঠলাম। মেয়েটি বলল,
-এই পাঁঠার মত চিৎকার করছিস কেন?
-ছিহ ছিহ আপু আপনি একটা ভদ্রঘরের মেয়ে হয়ে চুরি করতে এসেছেন তাও আবার আমার মত গরিব ব্যাচেলরের বাড়িতে।
মেয়েটি কিছু বুঝার আগেই আমি তোর বউ বলে চিৎকার করে মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করল।জ্ঞান ফিরার পর দেখি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছি পাশে বউয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-বাবু আমি কোথায়?
বউ বলল,
-আমারে চিনছস তাইলে।দেখছিস মাইরের উপর কোন ঔষধ নাই।আর ভুলে যাবি সব।
~মাইরের উপর ঔষধ নাই
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


