অনেক চরাই উৎরাই পাড়ি দিয়ে আমার বন্ধু নাহিনের মাধ্যমে এক মেয়ের সাথে পরিচয় । মেয়েটার আমার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ দেখে কিছুটা ভাবও নিলাম বেশিদিন আর পারলাম না অবশেষে যা হবার তাই হল। সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে অনেক কিছুই জানা হয়নি। যেমন ও যে ক্লাস নাইনে পরে এটা আমি পরে জেনেছি। এটা জানার পর কিছুটা হতাশ ছিলাম এত ছোট মেয়ের সাথে প্রেম করব। আবার অন্যদিক থেকে চিন্তা করে দেখলাম আমি অনেক সময় পাবো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আর খুব তাড়াতাড়ি মেয়ের দিক থেকে বিয়ে করার চাপও আসবেনা। যাই হোক প্রেম কি আর কোন নিয়ম মানে দুজন দুজনার ভাল লাগাটাই বড় কথা। ওর ইনসমনিয়া (অনিদ্রা) থাকায় রাতে ঘুমোতে অনেক দেরি হত আর রাতে ও বড় বোনের সাথে থাকায় আমাদের কথা হত এসএমএস এর মাধ্যমে। প্রায় সারারাতই আমাদের মধ্যে এসএমএস আদান প্রদান হত। ছোটবেলা থেকেই ও শহরের পরিবেশে বড় হওয়ায় ক্লাস নাইনে পড়লেও আমার চাইতে অনেক বেশি এডভান্স ছিল । আমাদের মধ্যে মাত্র একবার দেখা হয়েছে তাও সেটা রিলেশনের আগে। রিলেশনের নবম দিনের মাথায় আমরা একটা ডেট ঠিক করলাম দেখা করার জন্য। ও স্কুলের প্রাইভেট মিস করে সেই সময়টাতে আমার সাথে দেখা করবে। এটা আমার জীবনের প্রথম ডেট তাই খুব একসাইটেড ছিলাম । আমার সব বন্ধুদের জানালাম এবং বিভিন্ন টিপসও নিলাম। ও নির্দিষ্ট দিনের আগেই একদিন দেখা করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি দেখা করিনি আমার তেমন প্রস্তুতি ছিল না বলে। প্রথম ডেট বলে কথা যেনতেন ভাবে তো আর দেখা করা যায় না। ডেটের আগেরদিন অনেক রকম প্ল্যান করলাম পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ওর অনেকগুলো মিসকল মোবাইল সাইলেন্ট থাকায় টের পাইনি। আমার মোবাইলে তখন টাকা ছিল না তাই তাড়াতাড়ি দোকানে গিয়ে রিচার্জ করে ওকে কল দিলাম কিন্তু ও মোবাইলটা রিসিভ করে কোন কথা বলছিলনা। ঠিক এইসময় অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে একটা কল আসল। ওপাশ থেকে বলল আমি ওর ফ্রেন্ড আপনি ওর নাম্বারে আর কল করবেন না ওর মোবাইল এখন স্যারের কাছে আর অপরিচিত কোন নাম্বার থেকে কল আসলে আপাতত রিসিভ করবেন না। আমি খুব ভয় পেলাম না জানি ওর এখন কি হয় । তারপর সারাদিন রোমান্সের বদলে টেনশনের মধ্যে দিয়ে কাটালাম সন্ধ্যায় ওর ফ্রেন্ড আমাকে আবার ফোন দিল। বলল যে আমাদের স্কুলে মোবাইল আনা খুব কড়াকড়ি ভাবে নিষেধ এ পর্যন্ত যার কাছেই মোবাইল পাওয়া গেছে তাকেই টিসি দেয়া হয়েছে । ওর বাসায় কমপ্লিন করা হয়েছে ওর বাবা এসে ওকে বকতে বকতে বাসায় নিয়ে গেছে। আমি খুবই আপসেট হলাম কথাগুলো শুনে। পরে বেশ কয়েকবার ও আমাকে ওর বাসা থেকে অল্প কিছুক্ষনের জন্য ফোন দিয়ে শুধু একটা কথা বলেছে আমাকে কখনো ভুলে যেওনা কিন্তু এখন আমার ওর সাথে আর কোনপ্রকার যোগাযোগ নেই। ওকে কড়া পাহাড়ার মধ্যে রাখা হয়েছে। ওর ফ্রেন্ডের কাছে শুনলাম ওকে স্কুল,প্রাইভেট কোথাও যেতে দেয়া হয় না এমনকি ওর কোন ফ্রেন্ডের সাথেও যোগাযোগ করতে দেয়া হয় না। জানিনা ও এখন কেমন আছে । ওর ফোনের অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আমার আর কিছুই করার নেই ভীষন মিস করছি ওকে। এত তাড়াতাড়ি আমাদের প্রেম এতবড় হোচট খাবে ভাবিনি। জানিনা এখন আমাদের রিলেশনের ভবিষ্যৎ কি। তবে আমি ওর জন্য অপেক্ষা করব।
আলোচিত ব্লগ
Extra Long - Dual Coverage!
আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।
সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।
গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
জল-জলন্ত

সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন
৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?
গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16

১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।