
ডিএল রয় একজন সুপ্রতিষ্ঠিত রম্যকাব্য লেখক।
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা কীর্তন ধাঁচে লিখেছেন । তবে ভিন্ন ভাবে, তিনি রাধাকৃষ্ণ যদি আমাদের মতো সাংসারিক হতো তবে কিভাবে প্রেম করতো তা দেখিয়েছেন এই রম্যকাব্যের মাঝে।
চলুন আপনাদের নিয়ে যাই দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের মজার ভাবনায়-
গোলকধামে কিংবা মর্ত্যধামে একটি বিষয় কিন্তু এক্কেবারে সমান। প্রাণের মানুষের সাথে
খুনসুঁটি বা ভালোবাসা, এখানে আছে ওখানেও আছে। সেটা স্বকীয়া হোক বা পরকীয়া।
তা একদিন ছুটির দিনে, রাধা আমার সকাল থেকে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক ভাবেই সে অনেক বেশি ক্লান্ত।
এমন সময় কৃষ্ণ গেলেন তাঁকে মিষ্টি কোলাহলে বাঁধতে।
গিয়ে তিনি কি বলছেন রাধাকে-
কৃষ্ণ বলে, আমার রাধা, বদন তুলে চাও।
আর রাধা বলে, কেনো মিছে আমারে জ্বালাও!
মরি নিজের জ্বালায়!
কৃষ্ণ বলে, রাধা দুটো প্রাণের কথা কই।
আর রাধা বলে, এখন তাতে মোটেও রাজি নই!
সরো ধোঁয়ায় মরি!
কৃষ্ণ বলে, সবাই বলে আমার মোহন বেনু!
আর রাধা বলে, ওহো! শুনে আমি মরে গেনু!
আমায় ধরো ধরো!
কৃষ্ণ বলে, পীতধারা বলে আমায় সবে।
আর রাধা বলে, হলো মোক্ষলাভ কী তবে?
থাক আর খাওয়া দাওয়া!
কৃষ্ণ বলে, আমার রুপে ত্রিভুবনটি আলো।
আর রাধা বলে, তবু যদি না হতে মিশকালো।
রুপতো ছাপিয়ে পড়ে!
কৃষ্ণ বলে, আমার রুপে মুগ্ধ ব্রজবালা।
আর রাধা বলে, ঘুম হচ্ছে না এতো ভারি জ্বালা!
তাতে আমারই কি!
ঝগড়াবিবাদের পারদ এখন তুঙ্গে। কিন্তু কৃষ্ণ তো স্বভাবচতুর, তাই চাতুরি করে মিষ্টি কথায় রাধারাণীর রাগ গলানোর চেষ্টা করছেন।
তখন তিনি কি বলছেন-
কৃষ্ণ বলে, রাধা তোমার কিবা চারু কেশ!
আর রাধা বলে, কৃষ্ণ তোমার পছন্দটা বেশ!
সেটা বলতেই হবে।
কৃষ্ণ বলে, রাধা তোমার দেহ শূন্যলতা!
আর রাধা বলে, কৃষ্ণ তোমার খাসা মিষ্টি কথা!
যেনো সুধা ঝড়ে!
ঝগড়া কোলাহল বোধহয় এবার আস্তে আস্তে মিলেনর দিকে যাচ্ছে।
কি বলছেন কৃষ্ণ-
কৃষ্ণ বলে, এমন বর্ণ দেখিনিতো কভু!
আর রাধা বলে হে, আজ সাবান মাখিনি তবু!
নইলে আরো সাদা!
কৃষ্ণ বলে, তোমার কাছে রতি কোথায় লাগে?
আর রাধা বলে, এসব কথা বললেই হতো আগে!
গোল তো মিটেই যেতো!
রাধাকৃষ্ণের মিলন হলো ঝগড়াবিবাদ শেষে, সবাই মিলে হরি বলো প্রেম ভালোবেসে।
হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল...
রাধাকৃষ্ণের সাংসারিক প্রেম: অদিতি মুন্সির কন্ঠে শুনুন
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


