somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁচতে হলে, সচেতন হতে হবে (ব্লগের ৩য় বর্ষপূর্তিতে নিজস্ব কিছু কথা)

১৮ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

...
..
.
ইন্টারে পড়ার সময় বাসা থেকে বাইরে গিয়ে কোচিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আবার প্রাইভেট পড়ার জন্য স্যার ও পাচ্ছিলাম না। তখন বান্ধবী কণা তার স্যারকে অনেক বলে কয়ে রাজী করালেন যাতে আমাকে পড়ায়....সেই নূরে আলম স্যার দুপুর ৩টার সময় পড়াত এরপর বিকেলে একটা পার্ট-টাইম জব করত রাতে কণার বাসার কাছে হওয়ার সুবাদে ওকে পড়াত।উনি কখনোই আমাদের নাম ধরে ডাকত না পড়ানোর প্রথমদিকে একদিন হিসাব কষে দেখলেন উনি আমাদের চেয়ে প্রায় ১০ বছরের বড়। সেই যে আমাদের পিচ্চি ডাকা শুরু করলেন এখনো ফেসবুকে আমাদের দুই সখীরে খুঁজে পেয়ে খুশীতে বলে ফেললেন "২ পিচ্চি দেখি ম্যালা বড় হয়ে গেছে...তাও তোমাদের পিচ্চিই লাগে"। আমাদের যখন পড়াতেন আমরা নিজেরা অংক তেমন করতাম না ,বেশীরভাব সময় খাতা ভরে উনিই অংক করে দিতেন। ইন্টারে আমার রেজাল্ট খারাপ হওয়াতে উনি বলেছিলেন "তোমাদের ঝাড়ি দেই নাই বলেই এমন বাজে রেজাল্ট করলা....আর আমি কখনো স্টুডেন্টদের গায়ে হাত তুলিনা...মেয়ে হলেতো আরো না...তাই বলে খারাপ রেজাল্ট করে আমার নাক কান ডুবাইবা"। উনাকে আমি একজন ভালো মানুষ হিসেবে চোখ বন্ধ করেই ১০ থেকে ৯ দিবো কারণ আমার নিজস্ব গুডবুক লিস্টে অনেকের মাঝে উনিও আছেন....।

এইবার এক বদমাইশের কথা বলি। উনার নোংরামি আচরণের জন্য উনারে স্যার বলতে রাগ লাগে। অর্নাসের লাস্ট ইয়ারে কোন কারণে আমাদের সিলেবাস শেষ হয়নি। কোন স্যার পাচ্ছিনা সাথে আমাদের আরেক বন্ধু রাসেল আর কণাও ছিলো। কোনমতে এই বদমাইশটা রাজী হলো পড়াতে। যে ব্যাচের সাথে পড়তাম সেই ব্যাচের সিলেবাস প্রায় শেষের দিকে... তারমানে ঐব্যাচ চলে গেলেও আমাদের আরো এক-দেড়মাস পড়তে হবে এমন অবস্হা.. পড়াও শুরু করলাম।এইবার বদমাইশটার বাসার বর্ণনা দেই। উনি অনেক টিউশনি করে বলে বড় একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকত। সাথে উনার বউ ,বাবা-মা ও ছিলো। উনার বউটা আমাদের বয়সী কিন্তু অন্য কলেজের। মাঝে মাঝে বউটা আমাদের সাজেশন ও কালেক্ট করে দিতে বলত। আমাদের ব্যাচের পড়ানোর সময় বদমাইশটা তার পাশে একটা চেয়ার রাখত।আর কেন জানি সে চেয়ারে রাসেলকে বসতে দিতো না... সম্ভবত এই কারণেই রাসেল উনাকে সন্দেহ করেছিলো। অংক করতে গিয়ে কোন ভুল করলাম উনি মুখে বললেই হয় কিন্তু ঐযে মনের বদমাইশি দেখা গেল লিখছি হাত চেপে ধরে বলবে ভুল লিখছো। আবার কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পা লাগাত আর এমন ভাব করত যেন ভুলে হয়ে গেছে...একই ব্যাপার ডেইলি ডেইলি তো হতে পারেনা....মাঝে মাঝে হুট করে দেখতাম বদমাইশটা আমাদের পড়তে দিয়ে পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকত। যাইহোক রাসেল আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলো পাশের চেয়ারে না বসতে,কণা কিংবা আমি যে আগে প্রাইভেটে যেতাম সে বাসায় না গিয়ে বাইরে সিড়িতে ওয়েট করতে ও বলেছে।এরপর থেকে বদমাইশের চেয়ারের পাশে রাসেল বসত....আর বদমাইশের সে কি বিরক্তি। ২দিনের মাথায় বলে বসলো উনি কণা আর আমাকে পড়ালেও রাসেলকে পড়াবেন না ....আর রাসেলের সবচেয়ে বড় দোষ সে আমাদের প্রটেক্ট করতে চেয়েছে আর উনার নোংরামিটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে... উনার নোংরামিতে বাধা দিয়েছে। রাসেল ও পুরুষ আর ঐ বদমাইশটাও পুরুষ কিন্তু একজন ছিলো রক্ষক আরেকজন ছিলো ভক্ষক মনোভাবের । প্রিয় বন্ধু রাসেলকে নিয়ে শুধু এইটুকুই বলতে চাই হাজারো কীটের মাঝে গুটিকয়েক রাসেলরা এভাবেই আমাদের বাচিয়ে দেয় .....।

এটা আমাদের সমাজের দোষ ।ছোটবেলা থেকেই মা,দাদীরা শিখিয়ে আসেন মেয়েদের মুখ বুঝে সব সহ্য করতে হয়...আর এসব লজ্জ্বার কথা তো আরো চেপে যেতে বলে। এভাবে চেপে যেতে যেতে ব্যাপারগুলা আজ ধর্ষণ পযন্ত ঠেকেছে।অনেকরেই দেখছি এসব সেনসিটিভ ইস্যুতে নীরব থেকে সুশীল সাজে। কিন্তু তারা কি একবার ও ভাবে না এই ঘটনা তো নিজের ফ্যামিলি কিংবা আত্মীয়মহলে ও ঘটতে পারত? আজ আমার জীবনে এমন সমস্যা হয়নি বলে কি আমার অন্যকোন বোনের জীবনে এমনটা ঘটবেনা....তার নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? আজ থেকে কয়েক বছর পরে আমার মেয়ে ও যে এমন সমস্যার সম্মুখীন হবেনা..সেটার ও নিশ্চয়তা আমি দিতে পারিনা। অতএব প্রতিবাদের মানসিকতা সবার আগে নিজেকে দিয়ে শুরু করি আর নিজেদের বিবেককে নির্দিষ্ট কোন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে সুশীলতার খোলস ছেড়ে সঠিক সময়ে যার যার বিবেককে জাগ্রত করি ....।
..........................................................
(ব্লগে ৩টা বছর পার করে দিলাম.... ইচ্ছা ছিলো অনান্য বারের মতন এবার ও বর্ষপূর্তিতে ফান করে কিছু লিখবো ভিএনসি ইস্যুটা দেখে সেটা সম্ভব হলো না...একটা সময় ব্লগিং নেশার মতন হয়ে গিয়েছিলো। সারাদিনে একবার হলেও চেহারা দেখিয়ে যেতাম। আস্তে আস্তে সে নেশাটাও কেটে যাচ্ছে....বেশীরভাগ সময় অফলাইনেই থাকি....হয়ত আর কয়েকদিন পরে আর একবারেই থাকা হবে না। পুরানো ব্লগারদের অনেক মিস করি তাদের না পেয়ে নতুনদের মাঝে নিজেরে বুজুর্গ টাইপের মনে হয়। তবে নতুনরাও অনেকে ভালো ও পরিণত লেখা লিখে ....তাদের জন্য ও শুভকামানা রইলো......। সবশেষে সবাইকে শুভ-ব্লগিং)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১২:৫৭
৮৭টি মন্তব্য ৮৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৭



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষঃ
পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরবাসী ঈদ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:২৩

আমার বাচ্চারা সকাল থেকেই আনন্দে আত্মহারা। আজ "ঈদ!" ঈদের আনন্দের চাইতে বড় আনন্দ হচ্ছে ওদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে না। সপ্তাহের মাঝে ঈদ হলে এই একটা সুবিধা ওরা পায়, বাড়তি ছুটি!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের হামলায় ইসরায়েল কি ধ্বংস হয়ে গেছে আসলেই?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ২:৪৯


ইসরায়েলে ইরানের মিসাইল হামলার একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছেন অনলাইনে। যাতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মিসাইল ইসরায়েলের আকাশে উড়ছে আর সাইরেন বেজেই চলেছে! ভিডিওটি দেখে আপনি ভাবতে পারেন, হাজার কোটি ডলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ করা শয়তানী কাজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:৪০



সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়ানটের ‘বটমূল’ নামকরণ নিয়ে মৌলবাদীদের ব্যঙ্গোক্তি

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



পহেলা বৈশাখ পালনের বিরোধীতাকারী কূপমণ্ডুক মৌলবাদীগোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজগুলোতে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ব্যঙ্গোক্তি, হাসাহাসি করছে। কেন করছে? এতদিনে তারা উদঘাটন করতে পেরেছে রমনার যে বৃক্ষতলায় ছায়ানটের বর্ষবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×