somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করমর্দনের কৌতুকপ্রদ গল্প: বেনজির ভুট্টো ও ইয়াসির আরাফাত

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি নারীর সাথে করমর্দন নিয়ে বেশ আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে একটি মজার ঘটনা মনে পড়ল, যা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর জীবনের সঙ্গে জড়িত। ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তাঁর চিফ প্রটোকল অফিসার আরশাদ সামি খান, যিনি গায়ক আদনান সামির পিতা এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা Three Presidents & an Aid বইতেই এই ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়।

করমর্দন না করার নিয়ম

বেনজির ভুট্টো প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সামিকে ডেকে বলেছিলেন—
❝আমি পুরুষদের সঙ্গে হাত মেলাই না। তাই আমার এই বিষয়টা সবাইকে স্পষ্ট করে বলে দাও। আমি কারো প্রসারিত হাত ফিরিয়ে দিতে চাই না। সেটা অভদ্রতা হবে।❞

অতএব, সামির ওপর দায়িত্ব পড়ল—যেখানেই যাওয়া হোক, সবাইকে আগেভাগেই জানাতে হবে যে প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করেন না।

আরাফাতের সফর

কিছুদিন পর পাকিস্তানে আসেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত। ভুট্টো পরিবার ও আরাফাতের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। তাই বেনজিরও তাঁকে বিশেষ সম্মান করতেন।

সামি যথারীতি আরাফাতের প্রতিনিধি দলকে আগেই বলে দিয়েছিলেন—“প্রধানমন্ত্রী পুরুষদের সঙ্গে করমর্দন করেন না।”

যেদিন আরাফাত পাকিস্তানে পৌঁছালেন, করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজন করা হলো জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা। বিমান থেকে নামার আগেই বেনজির আবারও সামিকে মনে করিয়ে দিলেন—
❝ভুলে যেয়ো না, তাঁকে বলবে যেন আমার সঙ্গে হাত না মেলায়।❞

সামি বিমানে উঠে ভদ্রভাবে জানালেন—
❝Your Excellency, প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো নীচে অপেক্ষা করছেন। এবং মনে করিয়ে দিই, তিনি পুরুষদের সঙ্গে করমর্দন করেন না।❞

আরাফাত হেসে উত্তর দিলেন—
❝হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি। ধন্যবাদ আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।❞

করমর্দনের বিপাকে প্রধানমন্ত্রী

কিন্তু বিমান থেকে নামতেই আরাফাত ভিড়ের দিকে হাত নাড়লেন আর সরাসরি বেনজিরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন! হতভম্ব বেনজির মুহূর্তের জন্য বিস্ময় আর রাগে সামির দিকে তাকালেন। কিন্তু এত মানুষের সামনে আর ক্যামেরার ঝলকানির মাঝে কিছু করার ছিল না—তাঁকেও হাত বাড়াতেই হলো।

মুহূর্তেই ক্যামেরাগুলো সচল হয়ে উঠল, ইতিহাসে বন্দি হয়ে গেল সেই করমর্দনের দৃশ্য।

রাগ ও রসিকতা

হাত মেলানোর পর গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বেনজির ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসছিলেন। সামিকে ভর্ৎসনা করার জন্য অস্থির হয়ে উঠলেন। কিন্তু যেহেতু আরাফাত কাছেই হাঁটছিলেন, তাই সাবধানে নিচু স্বরে ভাঙা উর্দুতে সামিকে বললেন—
❝তুমি কি তাঁকে বলেনি যে আমি হাত মেলাই না?❞

কথাগুলো আরাফাতের কানে এড়াল না। আর তিনি উর্দুতেও অভ্যস্ত ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠে বললেন—
❝ম্যাডাম, ভাগ্যিস আমি আপনাকে চুমু খাইনি! আমাদের আরব রীতি অনুযায়ী আন্তরিকতা প্রকাশে আমি অভ্যর্থনাকারীদের দুই গালে দু’বার চুমু খাই।❞

হঠাৎ বলা এই কথায় তিনজনই হেসে উঠলেন। আরশাদ সামি অবশ্য নিশ্চিত করেছিলেন, করমর্দনের ছবি যেন টিভি কিংবা পত্রিকায় না ছাপা হয়।


ঘটনাটি নিছকই রসিকতা ও পরিস্থিতির বেখেয়ালি বাঁক। তাই যার ইচ্ছে তিনি হাত মেলান, যার ইচ্ছে না মেলান। তবে এ ঘটনাটি দেখায়—কূটনীতির মঞ্চে অনেক সময় নিয়মের দেয়াল ভেঙে মুহূর্তের হাসিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সমাধান।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:২৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×