somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিমটি আর পাই : ভালোবাসা, দায়িত্ব আর স্বাধীনতার গল্প

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইশালের অনেক দিনের শখ ছিল পোষা প্রাণী পোষা। স্কুল থেকে ফিরে এমন কেউ থাকবে, যাকে সে ডাকবে, আদর করবে, আর যার জন্য ঘরটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে—এই ছিল তার স্বপ্ন। অনেক দিন ধরে মাকে রাজি করানোর পর চতুর্থ শ্রেণির মাঝামাঝি সময়ে সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।
একদিন ইশাল ঘরে আনল এক জোড়া ছোট, রঙিন ও অত্যন্ত সামাজিক পাখি—লাভবার্ড। লাভবার্ড বা অ্যাগাপরনিস মূলত আফ্রিকা মহাদেশের পাখি হলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশেই এদের দেখা যায়। গড় আয়ু প্রায় ২০ বছর এবং লম্বায় সাধারণত ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি। বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত স্বভাবের কারণে এই পাখি শিশুদের খুব প্রিয়।
ইশাল পাখি দুটির নাম রাখল—চিমটি আর পাই। কেন এমন নাম, তা সে নিজেও ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারে না। নামের মতোই তারা ছিল দুষ্টু আর মিষ্টি। ইশালের সঙ্গে সঙ্গে তাওফিক নুরও খুব দ্রুত চিমটি আর পাইয়ের বন্ধু হয়ে গেল।
লাভবার্ড জোড়ায় থাকতে খুব পছন্দ করে। একা থাকলে এরা বিষণ্ণ হয়ে পড়ে, আর জোড়ায় থাকলে একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখায়। তাই এই পাখি বন্ধুত্ব ও স্নেহের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। চিমটি আর পাইও সারাক্ষণ একসাথে থাকত। সকাল ও সন্ধ্যায় তারা উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করত, যা পুরো ঘরটাকে আনন্দে ভরে দিত।
ইশাল আর তাওফিক নুর নিয়ম করে পাখিদের ফল, বীজ, শস্য আর পরিষ্কার পানি দিত। ঠান্ডা পড়লে রাতে ঘরের ভেতরে এনে নিরাপদ জায়গায় রাখত।ইশাল আর তাওফিক নুর এর নানুর সঙ্গেও পাখি দুটির ছিল দারুণ খুনসুটি। অল্প সময়েই চিমটি আর পাই হয়ে উঠল পরিবারেরই একজন।



বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সবাই গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তখন ঠিক হলো, চিমটি আর পাইও তাদের সঙ্গেই যাবে। গ্রামে গিয়ে খোলা আকাশ, নরম রোদ আর প্রকৃতির ছোঁয়ায় পাখি দুটো যেন আরও আনন্দিত হয়ে উঠল।
শহরে ফিরে একদিন রোদ পোহানোর জন্য ব্যালকনিতে দেওয়া হলে সুযোগ বুঝে চিমটি আর পাই উড়ে গেল। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে তারা বেছে নিল নিজেদের আকাশ।
খাঁচাটি শূন্য হয়ে গেল। ইশাল আর তাওফিক নুরের মন খারাপ হলেও তারা জানে—ভালোবাসা মানে আটকে রাখা নয়, সুখে উড়ে যেতে দেওয়াও ভালোবাসা।
আজও তারা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায়, চিমটি আর পাইয়ের সুখের কামনায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাহমান কলমের সাহায্যে কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দিয়ে থাকেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×