somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্লোগান নয়, কর্মসংস্থান চাই: নির্বাচনের মাঠে তরুণদের বাস্তব প্রশ্ন

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্বাচনের মাঠে এখন সবচেয়ে বড় সংকট কোনো স্লোগানের অভাব নয়; সংকট বাস্তব কথার অভাব। মানুষ আর জান্নাতের টিকিট কিংবা জাহান্নামের ভয় শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তারা চায়—কাজ, আয়, সম্মান আর ভবিষ্যৎ। আল্লাহর নাম ব্যবহার করে ভোটের মস্করা বন্ধ করা জরুরি, কারণ বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে ধর্মীয় আবেগ দিয়ে তা আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। জীবনযাত্রার চাপ, দ্রব্যমূল্য, চাকরির অনিশ্চয়তা—এসব মানুষকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে।

আজ দেশের লাখো তরুণ-যুবা কর্মহীন। ডিগ্রি পাশ করা একজন ছেলের গড় বেতন ১৫ হাজার টাকা—যা দিয়ে বর্তমান বাজারে পরিবার চালানো তো দূরের কথা, একা টিকে থাকাই কষ্টকর। অথচ একই সময়ে একজন রিকশাওয়ালা বা দিনমজুর প্রায় সমান কিংবা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি আয় করে। নবীন একজন প্রকৌশলী ২২ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করে, অথচ একজন সিএনজি চালক প্রতিদিনের আয়ে তাকে ছাড়িয়ে যায়। এখানে কোনো পেশাকে ছোট করা হচ্ছে না; প্রশ্নটা আরও গভীর—শিক্ষা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য আমরা কোথায় হারালাম?

আমি নিজে পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিষয়টা খুব কাছ থেকে দেখেছি। গার্মেন্টস সেক্টরে একজন দক্ষ নারী শ্রমিক আজ অনায়াসেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। ওভারটাইম, দক্ষতা আর ধারাবাহিক কাজের কারণে তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট গতি আছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক—নারী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্ন তীব্রভাবে সামনে আসে: শিক্ষিত তরুণদের জন্য এমন কোনো স্থিতিশীল সেক্টর কোথায়? যেখানে তারা ডিগ্রি নিয়ে ঢুকে পরিশ্রম করলে ধাপে ধাপে সম্মানজনক আয় ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে?

লাখো শিক্ষিত বেকার আজ হাতে কাজ নেই। লাখো দক্ষ শ্রমিক কাজ পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা তরুণদের সামনে কোনো সুস্পষ্ট গন্তব্য নেই। এই বাস্তবতার সরাসরি সামাজিক প্রভাব পড়ছে—ছেলেদের চাকরি নেই, তাই মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না। পরিবারে হতাশা জমছে, সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, তরুণদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা। এটা শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটা সামাজিক বিস্ফোরণের উপাদান।

এই দেশ সাম্প্রতিক সময়েই দেখেছে—চাকরির বৈষম্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করতে করতে একটি সরকার জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী, এমপি ও দলবল নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সেই দৃশ্য মনে রাখা জরুরি। কারণ এই জাতি আজব হলেও বোকা নয়। তারা ফাউ বক্তৃতায় হাসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিন সহ্য করে না।

রাজনীতির মাঠে এখন ধর্মীয় ভয় নয়, কর্মসংস্থানের রূপরেখা চাই। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল সেক্টরে বড় আকারের বিনিয়োগ দরকার। আইটি, মেকাট্রনিক্স, অটোমেশন, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, আধুনিক কৃষি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং—এসব খাতে বাস্তব প্রশিক্ষণ ও শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু ঘোষণা নয়, স্পষ্ট পরিকল্পনা, টাইমলাইন ও দায়বদ্ধতা দরকার।

মানুষ আজ এসবই শুনতে চায়। সমস্যার জায়গায় ফোকাস করুন। বাস্তবতা স্বীকার করুন। নইলে ইতিহাস আবারও নির্মমভাবে কথা বলবে—আর সে ইতিহাসের দায় কেউ এড়াতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×