somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষ পিঁপড়ে

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লাবণি ঘরে ঢুকে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। লাল হয়ে উঠেছে মুখ। লাবণি খুব ফর্সা। একটু বড় চটালো মুখ। আদিবাসীদের মতো কোমল আর কঠোরে মেশানো এক ধরনের লাবণ্য। রোদ্দুর আর পরিশ্রমে লাবণির চামড়া খুব সাড়া দেয়। লাল হয়ে ওঠে। আগুনের খাপরার মতো জ্বল জ্বল কেের। লাবণির চোখের মনি দুটোতেও আগুনের রঙ। একটু খয়েরি মেশানো লালচে। চুলও লালচে। বেশি ফর্সা মেয়েদের চুল যেন একটু লালই থাকে। আজকাল তো মেয়েরা বিউটি পারলারে গিয়ে চুলে কত রকম রঙ করে। লালচে, খয়েরি, বাদামি, সোনালি এমন কি সাদা রঙও করতে দেখা যায় বেশি ফ্যাশনেবল মেয়েদের। লাবণি কখনো চুলে রঙ করেনি। তবে নানারকম হেয়ারকাট-এ লাবণির শখ আছে। চিকন করে ভুরু প্লাক করে। এত ফর্সা চামড়া তার পরেও মুখে মধু কমলার খোসা দুধের সর কী কী বেটে মাঝে মাঝে প্যাক লাগায়। পারলারে ফেসিয়াল করে। এসব করে লাবণি নিজেকে আরও ঝকমকে ধারালো তরবারির মতো করে তোলে।
লাবণির স্বাস্থ্য ভালো। উচ্চতা সাধারণের মেয়েদের তুলনায় একটু বেশিই। আমার ‘পছন্দ আছে’ বলে যখন মাকে আমি প্রথম লাবণিকে দেখিয়েছিলাম, মা বিয়েতে আপত্তি করেননি, তবে বলেছিলেন, উচালাম্বায় মাইয়া তো দেওয়ের লাহান। বউ মানুষ হইবো পাতলাপুতলা ছোটখাটো।
মা কী যে বলেন। আজকাল বলে লম্বা মেয়ের জন্য সবাই পাগল! আর লম্বা হোক খাটো হোক সেটা তো আর কেউ নিজে বানায় না। আল্লাহরই সৃষ্টি। এ কথার পর মায়ের আর কিছু বলার থাকে না।
লাবণি কালারফুল সালোয়ার কামিজ পরতে ভালোবাসে। তবে মাঝেমধ্যে শাড়িও পরে। বিশেষ করে বেড়াতে টেড়াতে গেলে। চওড়া পাড়ওয়ালা শাড়ি পছন্দ ওর। বিমানবালাদের মতো নিপুণ পাট করে শাড়ি পরে লাবণি। বুকের ওপর দিয়ে পাহাড়ি ঢঙে পাড়টা ডানেবাঁয়ে সোজা টেনে বিছিয়ে দেয়। তারপর ছয় ইঞ্চি চওড়া করে কুচানো ভাঁজ করা আঁচল কাঁধের ওপর পিন দিয়ে আটকে দেয়। এই স্টাইলে শাড়ি পরলে মেয়েদের দুই বুকের মাঝখানের ক্লিভেজে একটা দুর্দান্ত খাঁজ ঢেউ তুলতে থাকে। লাবণির স্তনও খুব ধারালো। একেবারে আফ্রিকান আদিবাসী রমণীদের মতো পাথুরে। ও জানে শাড়ির পাড়ের এই ঢেউ তোলা স্রোত ওর বক্ষ সৌন্দর্যকে আরও মোহনীয় করে তুলবে। কাজেই যেদিন লাবণি শাড়ি পরে সেজেগুজে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হয় সেদিন ওর দিকে তাকিয়ে আমি আর চোখ ফেরাতে পারি না। স্বামী হিসেবে লাবণির এই উদ্ভিন্ন যৌবন আমার ভালো লাগবারই কথা। আর তাকে আরও একটু উদ্ভিন্ন করে তুলতে লাবণির সুচারু সাজগোজেও আমার আপত্তি নেই। বরঞ্চ আমি লাবণির সাজগোজ করা দেখতে পছন্দই করি। পাট পাট করে শাড়ি পরা শেষ হলে বহুদিন আমি ওকে জড়িয়ে ধরেছি। লাবণি ছদ্ম কোপে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে আমি কপট ভয়ে পেছন ফিরে ওর পীনোন্নত বক্ষচূড়া আমার পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়েছে কি না তা দেখার ভান করে রসিকরাজ গোপাল ভাঁড়ের আদিরসাত্মক গল্পের দৃশ্যায়ন ঘটিয়েছি। তাতে লাবণির ফর্সা মুখের রক্তাভ চামড়ার নিচে রাশি রাশি রক্তগোলাপ ফুটে উঠেছে। চোখমুখ দারুণ সোহাগী ভঙ্গিমায় কুঁচকে ওর প্রিয় বকা দিয়ে বলে উঠেছে Ñ বদমাইশ!
এখনও লাবণির গায়ে একটা লিনেনের জংলি ফুলের ছাপ তোলা লম্বা কামিজ। মনে হয় মার্কেট থেকে ও হেঁটেই এসেছে। গেস্ট হাউসের কাছাকাছিই একটা সুপার মার্কেট আছে। দশ মিনিটের হাঁটা পথ। লাবণি ওড়নার প্রান্ত তুলে ঘামে ভেজা মুখ মোছে। একটা প্লাস্টিকের বালতি কিনে এনেছে। টেবিলের ওপর বালতিটা নামিয়ে তার ভেতর থেকে জাদুকরের মতো বের করতে থাকে কাচের থালা বাটি গেলাস চামুচ মগ জগ ইত্যাদি। আমি অবাক হয়ে বলি, এসব কী? এগুলো দিয়ে কী হবে? এখানে কি তুমি সংসার পাতবে না কি?
লাবণির মুখে একটা ছায়া ঘনায়। ক্লান্তি জড়ানো নিঃশ্বাসগুলো হালকা পাখায় ছায়ার ভেতরে ফড়িঙের মতো উড়তে থাকে ওর চারপাশে। মুহূর্ত পরেই ছায়া সরে যায়। মেঘলা রোদ্দুর ছড়িয়ে পড়ে। হাসে লাবণি।
ছোট দশ ফিট বাই দশ ফিট রুমের ভেতরে একমাত্র ক্লজেটটির খোলা তাকে তৈজসগুলো সাজিয়ে রাখতে রাখতে বলে Ñ হোজ্জার গল্পটা জানো না?
কোন গল্প?

(চলবে....)
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×