somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যা ইচ্ছা তাই লিখছি। কোনো শিরোনাম নাই

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুনশান শব্দ করেই যাচ্ছে এসিটা। তবুও গরম লাগছে খুব। অথচ বাইরে হাড়কাপা শীত। কত মানুষ রাস্তার পাশে পাতলা কিছু একটা গায়ে দিয়ে গুটিশুটী হয়ে শুয়ে আছে। কি আজব এক ঢাকা শহর।

অফিসের ভেতরটা খুব গরম। মৌচাকের কসমস বিল্ডিং এর নয় তলা। শীতকালেও এসি ছাড়া হয়না। ঐ যে পাশে বসা তৌহিদ ভাই এইবার ফ্যানটাও ছেড়ে দিলেন। এসির শুনশান এর সাথে ফ্যানের শো শো আওয়াজ এক মধুর ছন্দ সৃষ্টি করছে।

তৌহিদ ভাইটা খুবই কাজের ভাই। ইউনবি এর ডেস্ক এর অর্ধেকটা কাজ উনি একাই করেন। আমাদের সাথে ও খুব ফ্রি। কত ফ্রিলি কথা বলেন, মনে হয় আমাদের ১-২ বছরের সিনিয়র। কিন্ত উনি আমাদের প্রায় ৮ বছরের সিনিয়ির।

আমি আর হাসান ইউনবিতে ঢুকলাম ৫ মাসের মত হল। প্রথম প্রথম খাপ খাইয়ে নিতে একটু কষ্ট হয়েছিলো আমার। এখন খুব মিশে গেছি ইউনবি পরিবারের সাথে। সবাইতো পায় আমার ই ডিপার্ট্মেন্ট বড় ভাই।

হাসান খুব স্মার্ট ছেলে। খুব ম্যাচুয়র্ড ও। সব কিছুই কত সহজের মানিয়ে নেয়। ওর থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এখনো শিখেই যাচ্ছি।

এখানে আমাদের কাজটা হল নিউজ আসলে ওগুলা আপলোড দেয়া। অনলাইন নিউজ পোর্টাল তো। এ সাথে আরো অনেক কাজ করি। মাঝে মাঝে নিউজ ও করি। অনেক ভুল হয়। তাতে কি। আমরা এখনো অনেক ছোট।

সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে ১৯ তারিখ। বন্ধুরা সব বাড়ি চলে গেছে। আমি একাই হলে আছি। খুব একা লাগে। সারাদিন শুধু মুভি দেখা আর এক ঘুমানো। একাত্তরের ডায়েরী টা কিনেছি। মাঝে মাঝে পড়ি। আর বন্ধুদের ও মাঝে মাঝে বিরক্ত করি। এই মুহূর্তে বাড়ির সবাইকে খুব মিস করছি। খুব।

চাকুরী টা নেয়ার পর থেকে অনেকের থেকেই অনেকরকম মতামত পেয়েছি। কেউ বলেছে ভালোই করেছিস। ঢুকে গেছিস। এক্সময় তো ঢুকতেই হত। আবার কেউ বলেছে খারাফ হয়েছে। পড়ালেখার ক্ষতি হবে। তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসেনা।

ফার্স্ট সেমিস্টার এর রেসাল্ট টা একটু বেশিই খারাফ করে ফেলেছি। তাই সেকেন্ড সেমিস্টার টা ভালো করে পড়ার চেষ্টা করেছি। তার পেছনে অবশ্য আমিনা ম্যামের অনেকখানি অবধান আছে। পরিক্ষা ভালই হয়েছে। বাকিটা রেসাল্টের পর.........

ছন্দময় শব্দটা আর কানে লাগছে না। সয়ে গেছে। আসলে প্রত্যেকটা ব্যাপারই এমন। প্রথমে আমরা নতুন কিছু আসলে খুব হৈ চৈ করি। পরে সয়ে যায়। যেমন বলা যায় আমাদের সমাজে নতুন কোনো নিয়ম বা পূর্ববর্তী নিয়মের ভঙ্গ হলে হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে যায়। হায় হায়। একি হলরে। জাত গেলরে। কলি যুগ চলে আসলো। আস্তে আস্তে সয়ে যায়। পরে দেখা যায় যে প্রথমে এগুলা বলে সেই সবার আগে নতুন নিয়ম মানে। যেমন টিভি।

আরেকটা ব্যাপার ঘটে।কোনো একটা নতুন ইস্যু আসলেই আমরা কত উত্তেজিত হয়ে পড়ি। আন্দোলন করি, মানববন্দন করি, কিন্ত কিছুদিন পর আর মনেই থাকেনা। যেমন তনুর ব্যাপারটা।

২টায় অফিস শেষ হবে। কাজ নেই একদম। নাইট ডিউটি তে ১১টার পর কাজ থাকেনা। সামনে ১২ টা টিভি চলছে। বিভিন্ন চ্যানেল। কিন্ত একটার সাউন্ড নেই। বোবা টিভি। তাই দেখতে ভালো লাগেনা। বিরক্র লাগে।

মাঝে মাঝে ফেচবুকিং করি। পুরনো অনেক বন্ধু হারিয়ে গেছে। তাদের নক করলে বলে আমি নাকি ভুলে গেছি। কি অদ্ভুত।

রাজু ৩৭ নাম্বার স্টরি টা উপরে দাও। পিছন থেকে ভাই বলে উঠলো। ও হ্যা, দিচ্ছি ভাই। শুনশান এর সাথে শো শাও আওয়াজ করেই যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×