somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এরা বন্ধু, এরা গানদল

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"ধন্য ধন্য বলি তারে, ধন্য ধন্য বলি তারে, বেধেছে এমনি.........."
৫-৬টা ছেলে টিএসসি অডিটোরিয়ামের সামনের বারান্দাটায় গোল হয়ে বসে চীৎকার করে করে গান করছে। সাথে আবার বাদ্যযন্ত্রের অনুপস্থিতিতে তার পরিপূরক হিসেবে তালি চলছে তালে তালে। গান কেমন হচ্ছে কিছুই এদের খেয়াল নেই, আশে পাশের মানুষগুলো গানে সন্তষ্ট নাকি বিরক্ত তাতে এই শিল্পীগোষ্ঠীর কিছুই আসে যায়না। তাদের মোটাচিকন গলার মিশ্রিত গান আর সাথে হাততা্লি মিলিয়ে এক অদ্ভুত ছন্দ সৃষ্টি করে চলেছে টিএসসির বাতাসে।

দেখে আসা যাক প্রথম থেকে এই শিল্পীগোষ্ঠীকে, কারা এরা আর কার কেমন প্রতিভা।


রাস্তার পাশে উলটো হয়ে যে ছেলেটা বসে আছে নাম তার কালামানিক(বন্ধুদের দেয়া নাম)। দেখতে কুচকুচে কালো, মাথায় চুল নাই বললেই চলে, অলরেডি মাথার একদম উপরের অংশে কালো ত্বক বেরিয়ে এসে তার উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। খুব শীগ্রই সেখানে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা যাবে বলে তীব্র আশাবাদ ব্যাক্ত করছি। সে আপন মনে গান গাচ্ছে, মাঝে মাঝে যেখানটায় ভুলে যাচ্ছে গ্যা, গু করে তাল মিলাচ্ছে। কালো হলে কি হবে, এই ছেলের ও একটা সুন্দরী প্রেমিকা আছে। মেয়ে ক্লাস ৬ এ পড়ে। এ নিয়ে তার বন্ধুরা তাকে অনেক ক্ষেপায়, তাতে ওর কিছুই যায় আসেনা। তার সহস্র গুণের মাঝে আরেকটি হল সে মাসে ৪৮ হাজার টাকা (বন্ধুদের হিসাবে, তার হিসাবে ৫হাজার) আয় করে। যার ১টি পয়সাও সে কখনো তার বন্ধুদের খাওয়ায় নাই। ভুলেও সে কখনো মানিব্যাগে টাকা রাখেনা, কারন সে জানে, যে কোনো সময় সেখানে পারমানবিক হামলা হতে পারে।

তার পাশেই বসে আছে কালামানিক এর ছেয়ে একটু কম কালো (সম্প্রতি ঘষামাজার ফসল), তার শরীরের গঠন সম্পর্কে বলতে গেলে, খুব বেশি বলার দরকার নেই। শুধু এটুকুই বলবো তাকে প্রথম দেখাতেই যে কেউ মহিষ ভেবে ভুল করে। তার একমাত্র গুন হচ্ছে সে মারামারি তে ক্যাম্পাস চ্যাম্পিয়ন। তার আরো একটি ছোট গুন আছে। পরিক্ষার হলে তার কপি মারার প্রতিযোগিতায় সে সব সময়ই বিজয়ী। বাংলাদেশ সরকার থেকে এ ক্ষেত্রে সে বিশেষ পদকের দাবী রাখতে পারে।

অডিটরিয়ামের দরজায় ঠেলান দিয়ে সামনের দিকে মুখ করে যে ছেলেটা বসে আছে তার নাম লাভগুরু। অত্যন্ত কিউট চেহারা আর ০ ফিগার নিয়ে সে সবসময়ই গর্ব করে। সাইজে ছোটখাট হলেও দুষ্টুমিতে তার মাথা গিজগিজ করে সবসময়। কাকে কখন কোনদিন থেকে কোন এঙ্গেল এ বাঁশ দেয়া যায় এই চিন্তাতেই থাকে। কোনো মেয়ে তার প্রশংসা করলে সে খুব খুশি হয়। তার গর্বের বিষয় একটাই, সেটি হচ্ছে তার বুকের ঘন কালো পষম। সে বিশ্বাস করে এটা তার পৌরুষত্বের প্রতীক। এই মুহূর্তে সে গান গাইলেও তার মন অন্য জায়গায়, সামনে খুব সুন্দর একটা মেয়ে বসে আছে, তাকে পরিক্ষা করে নিচ্ছে।

আরে দেখ মামা দেখ, কি জিনিস মাইরি........গানের ভেতরেই বলে উঠলো তার লাভগুরু পাশে দুই হাটু একসাথ করে বসে থাকা চিকন ছেলেটা। একমাত্র মেয়ে বিষয়ক কোনো কিছু ছাড়া পৃথিবীর কোনো কিছুই তার ভালো লাগেনা। এতক্ষণ সে একরকম জোর করেই গান গাচ্ছিলো। মনে মনে বিরক্ত হয়ে ভাবছিলো "আহ, সামনে মেয়ে না থাকলে গান আসে। টিএসসি তে আজকাল আর আগের মেয়েই আসেনা"। ক্যাম্পাসের খুব মেয়েই আছে তাকে চেনেনা। কারন সে ফেচবুক এর বেশিরভাগ সময়ই মেয়েদের পিছন লেগে থাকে।
তার বিরক্তির শেষ সীমায় একটা মেয়ে সামনে দিয়ে হেটে গেলো। তার তৃষ্ণার্ত প্রাণ ও দেহে পানি খুঁজে ফেল। অমনি স্ক্যান মেশিন অন করে, "আরে দেখ মামা, কি জিনিস মাইরি..........."

মধু কই কই আরে বিষ খাওয়াইলা, মধু কই কই আরে....... এই গ্রুপের একজনের খুব প্রিয় গান এটা। কারন খুব সম্প্রতি সে এক সুন্দর মেয়ে দ্বারা চ্যাকা খেয়েছে। সে চোখ বন্ধ করে, মনের যত আবেগ আছে সব নিঙ্গড়ে দিয়ে গান করছে। সেও মারামারি পছন্দ করে, তবে কখনো মারামারি করেনা, শুধু ভাব লয়। চ্যাকা খাওয়ার পর থেকে,সে বিশ্বাস করে পৃথিবীর সব মেয়ে তার আন্টি হয়।

এরা বন্ধু, এরা গানদল, এরা নেতা, যাদের গর্জনে আর ভয়ে গেস্ট রুমের মাটি থরথর করে, এরা ক্যাম্পাসের রাতের জাগা পাখি, যাদের কলকাকলি তে ক্যাম্পাস কখনো ঘুমাতে পারেনা, এরা ক্যাডার গ্রুপ, যাদের মারামারির ভয়ে সংসদ ভবনের পুলিশ ও স্যার বলে, এরা খাদক গ্রুপ, যাদের খাবার খাইয়ে মামা হোটেলের মামা ও অর্ধেক বিল নেয়, এরা প্রেমিক গ্রুপ, যারা প্রেম সত্য প্রমানিত করতে যেমন হাত কেটে প্রমাণ করতে পারে, তেমনি শুধুমাত্র দেখতে ইচ্ছে হয়েছে বলে রাতের ১টায় প্রেমিকার বাসায় লুকিয়ে দরজায় টোকা দিতে পারে। এরা যেমন আদর্শ ছোট ভাই তেমনি আবার স্নেহময়ী বড় ভাই। এরা বন্ধু, এরা গানদল।





সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×