somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্দরবন তেল বিপর্যয় এবং কর্তৃপক্ষের ঘৃন্য দায়িত্ব জ্ঞানহীনতা

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুন্দরবনে তেলের ট্যাংকার ডুবে সুন্দরবনের সমস্ত এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশবিদ গণ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের কথা বলছেন। স্বয়ং জাতিসংঘ উদ্বেগ জানিয়েছে।ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটের মাধ্যমে বিপর্যয়ের চিত্র দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা, ডলফিনের দেখা মিলছেনা, কুমিরের মুখে ঘা দেখা দিয়েছে,মৃত মাছ ও সাপ ভেসে উঠছে, নদীতে হরিণ ও অন্যান্য প্রানীকে পানি খেতে দেখা যায়নি, নদীর পানি পান ও ব্যবহার করা যাচ্ছেনা ইত্যাদি বেশ কিছু সংকট প্রতীয়মান। এমনকি তেলের গন্ধে বাতাসও চরমভাবে বিষাক্ত।

এর প্রেক্ষিতে BIWTA র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার খুব মজার একটি মন্তব্য করলেন। প্রথমত, এই বিপর্যয়কে তিনি বিপর্যয় বলতে নারাজ। তার মতে এই ঘটনায় পরিবেশের কোন ক্ষতি হবেনা।

সবচেয়ে মজার কথা তিনি যেটি বলেছেন তা হল, এই ঘটনার ফলে একটি বিরাট উপকার হয়েছে। আর তা হল ঐ তেল সংগ্রহ করে নদী তীরবর্তী লোকজন বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

এই কথা শোনার পর আর কিছু ভাবতে পারেনি। অতি দুঃখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি বটে কিন্তু অতি কৌতুকের পুলকে থেমে হেসে উঠছি। শুধু কিছু প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

১/ সরকারী কর্তা ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন কালে কি গাধা হয়ে যান? নাকি তাদের মগজ বেচে দিয়ে আসেন? তাদের নামের পাশে তো ডক্টরেট ডিগ্রির টাইটেল লেখা থাকে।

২/ তিনি এই মহা বিপর্যয়ের মধ্যেও কিভাবে প্রফিট খুঁজে পেলেন?

৩/ মন্ত্রী আমলারাও আজকাল কোন বিপর্যয়ের দোষ স্বীকার করতে চাননা। কোন দুর্ঘটনাকে যদি বিপর্যয় হিসাবে স্বীকার না করা হয় তবে কিভাবে এর মোকাবেলা করা হবে? প্লান অব অ্যাকশন কিভাবে ঠিক করা হবে

৪/ বিপর্যয় ঘটতেই পারে। সব ধরনের অত্যাধুনিক ভাবে সতর্কতা গ্রহনের পরও বিশ্বের কোন দেশই বিপর্যয় রুখতে পারেনি। কিন্তু এই বিপর্যয়কে ভালভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব। কিন্তু এই বিপর্যয়ের পর তিন দিন চলে গেলেও তেল অপসারনের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি উদ্ধারকারী জাহাজ পৌঁছেছে ট্যাংকার উদ্ধারের পর। কেন এই দায়িত্ব জ্ঞানহীনতা? পরিবেশ কি এতটাই হেলাফেলার বিষয়?

৫/ ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারনে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে গ্রামবাসীর উপর। তারা স্পঞ্জ দিয়ে তেল অপসারন করে বাজারে বিক্রি করলেই নদী দূষণমুক্ত হবে। তাছাড়া স্বাভাবিক জোয়ার ভাটার মাধ্যমে সব বর্জ সমুদ্রে চলে গেলেই নদীর জল দূষণমুক্ত হবে। এই আশ্চর্য খোঁড়া যুক্তি দিতে BIWTA র মাননীয় চেয়ারম্যান সাহেবের কি মোটেই লজ্জা করলো না? বিপর্যয়ের আলামত কি তার চোখে কোনভাবেই পড়ছেনা? নাকি তিনি দেখেও দেখছেন না, শুনেও শুনছেন না?

উত্তর মিলছেনা কিছুতেই। হয়তো মিলবেও না কোনদিন। কেননা এমন দেশে জন্ম নিয়ে প্রশ্ন করাও যে পাপ।

শুনেছি মাদকাসক্তরা নিজেদের কিছুতেই মাদকাসক্ত হিসাবে স্বীকার করেনা। এমনকি হাতেনাতে ধরলেও স্বীকার করেনা। আমার প্রশ্ন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সকলেই মাতাল হয়ে যায়? কোন সরকারের সময়েই এই মাতালদের অবস্থার হেরফের হয়নি।

এর মধ্যে আবার দায়িত্ব ঠেলাঠেলি যেন আর না হয়। সব কর্তৃপক্ষ যেন একসাথে কাজ করে। এর চেয়ে বেশিকিছু কামনা করতে পারছিনা এই মুহুর্তে।

বিঃদ্রঃ - কিছু ব্যতিক্রম হয়তো আছে। But exception can't be example.

তথ্যসূত্রঃ ৭১টিভি, Bdnews24.com,prothom alo, অন্যান্য।
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×