somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেদিন খেলা শেষে বললাম, ইন্ডিয়াকে রেন্ডিয়া বলা যাবেনা। কারন রেন্ডিয়া মানে বেশ্যা। অমনি সাচ্চা মুসোলমানেরা আমার জাত পাত বাপ মা উদ্ধার করলো। আবার আজকে বললাম ভারতের লোগো সমূহ কেন? কই ওদের কেউ তো বিপি এলের সময় কুমিল্লা, রাজশাহী ঢাকা র লোগো লাগাতে দেখিনা? সেই প্রকৃত হিন্দু ভাইয়েদের জনরোষ পড়লো... আসলে বাংলাদেশ করতে গেলে কে কাকে কেন বলি তা নির্ধারন করা যায়না। আর হ্য় ভারত না হয় পাক্সতানে যাস নে কেননো??

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কি দিন যে আইতাছে, ক্রিকেটে শুধু সৌম্য মুস্তফীজেরাই ছড়ি ঘোরাবে, জাস্ট দেইখা যাও সমস্ত বাংলা হেটার্সরা..

আমি কিন্তু কোন ইন্ডিয়ান ছেলে মেয়েকে বি পি এলের সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, রংপুর রাইডার্স, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স এবং আরো যে সমস্ত ক্লাব আছে, সেই সবের লোগো লাগাতে দেখিনি।

বরংচ রাজ্যে রাজ্যে খেলার সময় যে বিভেদ ওদের বাধে, সেই সব ভুলে, সাকিব, ম্যাশের পেইজে পেইজে এসে নিম্নোক্ত কমেন্টস করিয়া যায়ঃ

হেই মাদারফাকার্স বাঙ্গালী, কেয়া হুয়া? এক ম্যাচ ই তো জিতা না? অর ইতনি দিনো সে তেরি আম্মি কি বঙ্গাল গাড় মে মেরি ভারত বাপ কিতনা হার গুসা দিয়া... হা হা হা
Newaz Nizami
Chennai

লজ্জা নেই তোদের, ছোটলোকের বাচ্চারা।
আমরা না থাকলে তোদের বাংলার জন্মই তো হতো না? অলজ অশিক্ষিতজ..
প্রিয়া রাণী বসু
কোলকাতা ইউনিভার্সিটি
( এটায় পাক্সতানের আর্মান মালিক লাইক দিছে)

Gey Rendy (বেশ্যা) ma ki owlad, next match justt ruining your fucking bangla.
Rahul sannal.
Mumbai, Businessman.

যাই হোক কোন ব্যাপার ই না এটা।
ওরা তো আর ল্যাংটো করে ধর্ষণের পর ধর্ষণ করে যায়নি প্রবীনদের! করে গেলেও কি হইসে?

আম্রা এখনো আফ্রীদী হই, পাক্সতানের চাদ তারা খচিত পতাকা বাসার উপরে পত পত করে উড়ে।

বিহারী ক্যাম্পের বিহারীগোর আমার ইদানীং ভাল্লাগে জানেন? সালারা কোন দিন যাইতে পারবে না, রুটি রুজি আহার উপার্জন করে বাঙাগালীর গাইড় মাইরা, তবু্র ওদের ঘিঞ্জি, এটে সেটে থাকা আবাস গুলোতে পাক্সতানের পতাকা উড়ে পত পত করে!

ভারত তো আর অমন করেনি, তাই সবাই একটু Dil Se Indian, KKR = কক্কর ওয়ালা লোগো দিতেই পারে। কি তাই না????
বিচার বিশ্লেষণ বিবেচনা সব আপনার ভিতরে..

আমি বাঙ্গালী বলে আমার যেটুকু সময় গর্ব হয়,
তার দশ ভাগ বেশী সময়ে বাঙ্গালী হবার দরুণ আমার মাথা লজ্জায় হেট হয়ে যায়। চোখে জল ধরতে পারিনা, বুকটা শুকনো হয়ে ছাতি ফাটা তেষ্টা পায়...

একটা রুমী, বদি, আজাদ কে চেনেনা এরা,
এরা আফ্রীদী, শেহজাদ, ভিরাট নিয়ে তর্ক করে গলা ফাটায়?
ওরা বোঝেই না, একটা মাশরাফী কতোটা অদম্য হলে ছেড়া রগা নিয়ে লাল সবুজের পতাকাটর পতপত চালু রাখতে দৌড়ায়...?

#শালার_ছাওয়ালপাওয়াল

তবে আমার আশাটা, আমার মতই অবাধ্য, বেয়াদব, ঘাড়ত্যাড়া, বিষয়টা যখন নানাজানের কেনা বাংলা দ্যাশ...

হাল তো ছাড়বই না, বরং এই রকম অবস্থায় কষ্ট পেয়ে আরো দৃড় বলি, অবিচল হই একদম...

বাদ দেন, চলেন ছোট্ট একটা ঘটনা বলি,

মেয়েটারে নুরুল কমান্ডার নাচতে বলছিলো।
ওদের ছোট নৌকৌটা ধীরে ধীরে যখন পাইক্কা বোটের দিকে যাচ্ছে, তখনই কমান্ডার ইশারায় বসতে বললো হিদুর মেয়ে কৃষ্ণা কে!

মুহু মুহু গ্রেনেড চার্জ, ওল্ড লান্সার, থ্রি নট থ্রীর গুলি...ঘটনার আকস্মিকতায় বসতে মনে নেই। পাল্টা গুলি শব্দ, বারুদদ, পাইক্কা বোট খান খান, মরে ছে পশু কটা, বাকি পানিতে ডোবা..

ছোট নৌকায় মুক্তি গো বাংলা জেতার আনন্দ।
হঠাৎ খেয়াল হলো কৃষ্ণা পাটাতনে পড়ে আছে।
লাল পেড়ে সাদা শাড়ীটা ক্রমশ গাঢ় লালচে হয়ে আসে...

কমান্ডারের খচ করে ওঠা মন, আহারে ওর মেয়েটার এই বয়স, নাম ছমিরণ..
ততক্ষণে কোলে তুলে ধরে বসে বললো,

সব আমার দোষ রে মা,
তোমারে ডাকি আনি বিপদে ফেলসি!
আমারে ক্ষমা করো?

( কৃষ্ণার মুখ তখন সাদা হয়ে গিয়েছে, মরণের দেরী বেশি নাই)

মাথাটা নাড়াতে চাইলো, পারলো না।
শুধু চোখ দুটি কমান্ডারের দিকে ঘুরিয়ে বললো,

- যুদ্ধে কি আমরার জয় হয়েছে?

কমান্ডার- হ্যা মা...

গুলীর পর, প্রথম আর শেষ কথাটা কৃষ্ণার,
বাংলা কি জিতলো পানির উপর?
বাচা আর মরা নিয়ে,
আক্ষেপ ছিলোনা মেয়েটার...

মাথা নষ্ট হয়ে, ভ্রষ্ট পথে নিয়ে যায় জন্মের এই যুদ্ধ। আমি পাগল হই দিন রাতত দুপুর কিংবা ক্ষুধার্ত বসে থাকা কোন প্রহর...

অপুদা একদিন চিঠিতে বাবাকে লিখলো, কাকু আমেরিকায় পড়তে আসলে এরা প্রথমেই এদের ইতিহাস পড়ায়। বলে যদি তুমি আমার দেশের ইতিহাস টাই না জানো, আমার দেশটারে ভালো বাসবে কেমন করে?

অথচো কাকু, এদের চেয়ে আমার ৫২, ৬৯, ৭১ কত রোমাঞ্চকর, কত প্রাণের মরা বাচার লৌহ মর্ষক সে গল্প। কেদে বুক ভাসালেও থামেনা।আমরা জানিনা, তাই তো বাংলায় দরদ আসেনা...
( খুব সত্যি রে)

#আমিতো_বাংলাদেশ
#তোমারও_আসোনা
#এমন_অনুভূতি_ধরা_যায়না
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:২৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×