somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয় কড়চা - ০২

১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটিকে আজকে আবার দেখলাম । ভার্সিটির জীববিজ্ঞান স্কুলের বিল্ডিঙয়ের চিপায় । এই কয়দিন ঘন ঘন চোখে বাঁধছে বিষয়টা । হ্যাঁ, গাজা টানছিল । একা না, সাথে আরও কয়েকজন ছিল । দেখে শিহরিত হয়ে যাই । লজ্জায় সেখান থেকে চলে আসি ।

অনেকের মাঝে এই প্রশ্ন জাগতেই পারে যে আমি ঐখানে কি করছিলাম ? আসলে যেই চায়ের দোকানটাতে প্রায় নিয়মিত বসে ক্লাসের বিরতিতে, ক্লাস শেষের আড্ডায় কিংবা বন্ধুদের মজাতে মশগুল থাকি, সেই চায়ের দোকানটা থেকে ভালভাবেই দেখা যায় বিল্ডিঙয়ের ঐ পাশটা । খালি ঐ ছেলেটাকে দূর থেকে দেখতে পেয়ে আমি ঐখানে গিয়েছিলাম ।
এটা তো সবারই জানা যে ক্যাম্পাসে সবাই কাছের লোক হয়না । আবার কেউ ভাববেন না, কাছের লোক বলতে শুধুই বন্ধুরা । কাছের লোক হয় সিনিয়র ভাই, জুনিয়র আর বন্ধুরা তো আছেই । এই ছেলেটি আমার খুব কাছের একজন জুনিয়র ছোট ভাই । কয়েকদিন পরেই সেকেন্ড ইয়ারে উঠবে । বছরের দিক থেকে হোক কিংবা ব্যাচের দিক থেকেই হোক, ছেলেটি আমার দুই বছরের ছোট । ছেলেটি অবশ্য আমার ডিপার্টমেন্টের নয় । প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক তাহলে কেনইবা এই ছেলেটিকে নিয়ে স্ট্যাটাসটি লিখছি । আসলে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের কিছুকথা ।

ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ২৬ তম (একটু মিথ্যা) হয়েছিল । খুব গরীব মা-বাবার সন্তান । প্রথম যখন ওর কথা শুনলাম তখন সেই চায়ের দোকানটিতেই বসে ছিলাম । দুইটি ছেলে এসে সবার কাছ থেকে টাকা তুলছিল । কিছু না জেনেই অনেকেই টাকা দিয়ে দেয় কিন্তু কি মনে করে আমি এই টাকা তোলার কারণ জানতে যাই ঐ ছেলেদুটির কাছে ।তারা তখন বিস্তারিত আমাকে খুলে বলে । এই ছেলেটি অনেক গরীব । বাসাও খুলনাতে নয় । বাবা কৃষক তাও বয়স অনেক হয়ে যাওয়াতে এখন আর তেমন কর্ম করতে পারে না । মা গৃহিণী । একটিই বড়ভাই শহরে চাকরি করতে গিয়ে শহরের একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই হয়েছে । বাসায় আসেও না, টাকাও পাঠায় না । আর ছোট দুইটি বোন । এখন সবাই সাহায্য না করলে ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না । শুনে খুব কষ্ট লেগেছিল, আর যতটুকু সামর্থ্য ছিল সেই টাকা দিয়ে দিলাম ।

এরপর ছেলেটি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করে, তখন নিজ উদ্যোগে খোঁজ নিয়ে ছেলেটির সাথে পরিচিত হই । কেমন জানি, মায়া পড়ে গিয়েছিল ওর কাহিনী শুনে । এরপর অনেকদিন ছেলেটির সাথে ক্যাম্পাসে দেখা হয়, খোঁজখবর নিই । তারপর পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাস থেকে কিছুদিনের জন্য আলাদা হয়ে যাই । এই সময়টাতে কারও খবর আমি রাখিনি । পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ওর কথা জানতে পারি । একটি প্রেমের ব্যর্থতার কারণে নাকি দুইটি পরীক্ষা ছাড়া আর কোন পরীক্ষা দেয়নি ও । আর কিছু গুণধর বড় ভাই ও বন্ধুদের কল্যাণে ঢুকে পড়ে নেশার জগতে ।

এরপর আর কোনদিন ওর সাথে কথা বলতে যায়নি । দুই একবার হয়তো সামনাসামনি দেখা হয়েছে কিন্তু ছেলেটাই লজ্জায় মুখ নিচের দিকে নামিয়ে ফেলেছে । কেন জানি অনেক কষ্ট পেয়েছি চোখের সামনে এরকম একটি মেধাবী আর ভালো ছেলের অধঃপতনে ।

আজকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হয়তো ভবিষ্যৎ জীবনের একটি রিহার্সাল মাত্র কিন্তু ভবিষ্যৎ জীবনের একজন যাত্রী নষ্ট হওয়ার পিছনে জাতির এই উদাসিনতা কেন জানি খুব করে কাঁদায় । এখনও মনে মনে ভাবি, এরকম গল্পের চূড়ান্ত শেষ কবে ?


(সংকলিত)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×