somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ বন্ধু নামের বেঈমান

০১ লা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক

একদিন পরে বাপ্পির খোঁজ পাওয়া গেল। একদিন পরে বাপ্পিকে হঠাত এভাবে পাওয়া যাবে সেটা কেউ ভাবে নি। কালকের হাসিমাখা বাপ্পি আজ লাশ হয়ে আছে। সেটা সবাই ভেবে অবাক।

আজ সকালে নদীর ধারে বাপ্পির লাশ পাওয়া গেল। প্রথমে বাপ্পির লাশ দেখতে পেয়েই চিনতে পেরে যায়। বাপ্পিকে এলাকায় চিনত না এমন লোক খুব কমই আছে।

বাপ্পির বাবা মা খবর পেয়ে ছুটে এসেছে। ছেলের লাশ দেখে তারা কিছু বলতে পারছে না। তাই তারা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার বাবা মায়ের সাথে এলাকার সবাইও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

পুলিশকে খবর দেওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ চলে এসেছে। বাপ্পির সাথে পুলিশদের ও যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক ছিল। এলাকার একজন ভাল নেতা সবার সাথেই ভাল সম্পর্ক রাখে। বাপ্পির সাথে তেমনই সবার ভাল সম্পর্ক ছিল।

পুলিশ বাপ্পির লাশ গাড়িতে তুলতে গিয়ে থেমে গেল। বাপ্পির গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে পেটের কাছে হালকা একটা আঘাতের চিহ্ন আছে।

পুলিশ বাপ্পির লাশ গাড়িতে নিয়ে চলে গেল। সবাই সেদিকে তাকিয়ে থেকে যার যার মত বাড়ি চলে গেল।

★★

আজ কয়েকদিন নয়নকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে সায়েম তারপরে বাপ্পি, আর এখন নয়ন! এলাকার সবাই অবাক। কারন তারা তিনজন বন্ধু একসাথে এইরকম হবে সেটা ধারনার বাইরে।

সায়েম আর বাপ্পি খুব ভাল বন্ধু। তারা তাদের রাজনৈতিক কাজগুলো একসাথে করে এসেছে। নয়নের এসব পছন্দ নয়, তাই সে দুজনের রাজনৈতিক কাজ থেকে দুরে থেকেছে। তবুও তারা কেউ বন্ধুত্ত থেকে দুরে যায় নি।

এভাবে নয়নের হঠাত নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পিছনে কি কোন কারন আছে! নাকি সেও বাপ্পির মত খুন হল? রহস্যগুলো নিয়ে অনেকেই ভেবে দেখছে।

দুই

সায়েম বাড়িতে এসে একটু অবাক হয়ে গেল। বাসার কলিংবেল বাজিয়ে ভিতরে ঢুকতেই দেখল বাপ্পি ড্রয়িংরুম এ বসে টিভি দেখছে। শায়লাকে একটু অপ্রস্তুত মনেহল।

সায়েম বাপ্পির পাশে বসে বলল
-কিরে কখন এলি?
-একটু আগে আসলাম। তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
-তা হঠাত কি মনে করে এলি?
-আমাদের ওই রায় বাড়ির প্রজেক্টটার কাজ কালকে শুরু করব।
-এটা তো ফোনেই বলতে পারতি।
-ফোনে বললে তো আর ভাবির হাতের এক কাপ চা খেতে পারতাম না।

সায়েম মুচকি হেসে বলল
-চা খেয়েছিস নাকি?
-ভাল কথা বলেছিস। শায়লা আমাদের দুই কাপ চা নিয়ে আস।
-যাই বলিস আমাদের এই প্রজেক্ট এ অনেক লাভ হবে।
-তা হবেই।

শায়লা তিন কাপ চা এনে দুই কাপ বাপ্পি আর সায়েমকে দিল। বাপ্পি চায়ে চুমুক দিয়ে বলল
-যাই বল ভাবি। তোমার হাতের চা কিন্তু খুব চমৎকার।
-কি যে বল তুমি। তাহলে দুপুরের খাবার খেয়ে যাও।
-না ভাবি আজ উঠি। যাই রে, কালকে দেখা হবে।

★★

সায়েম বাড়ি থেকে বেড়িয়ে কিছু পথ আসতেই বাপ্পি ফোন দিল। সায়েম ফোন ধরতেই বাপ্পি বলল
-কোথায় রে তুই?
-এইত বাসা থেকে বের হয়েছি।
-আচ্ছা তাহলে যা বিকেলে দেখা হবে। তুই বাসায় আসবি কখন?
-দুপুরের দিকে।
-আচ্ছা যা।

কিছুদুর যেতেই সায়েমের মনেহল প্রজেক্ট এর ফাইল বাসায় রেখে এসেছে। তাই সে আবার বাসার দিকে রওনা দিল।

বাসার দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। হয়ত লাগানোর কথা ভুলে গেছে। সায়লাকে ডাকার দরকার নেই। বেডরুম থেকে ফাইলটা নিয়ে নিলেই হল।

বেডরুমে ঢুকেই সায়েম চমকে গেল। সে এটা কি দেখছে! বাপ্পি আর শায়লা এক বিছানায়! সায়েম কিছু না বলে একটা চিৎকার দিল। বাপ্পি তারাতারি সেখান থেকে চলে গেল।

সায়েমের সামনে এখন সব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সায়েমের কাছে বাপ্পি বাড়িতে আসার খবর নেওয়া,সেদিন ঘরে ঢুকে বাপ্পিকে দেখা। সব এখন সায়েম বুঝতে পারছে। বুঝে বাপ্পি কিছু বলতে পারছে না। একদিক এ বন্ধু অন্যদিকে স্ত্রি।

★★

সন্ধার সময় সায়েম ঘরে বসে আছে। সকালের ব্যাপারটা হওয়ার পরে সায়লার সাথে কোন কথা হয় নি। সারাদিন ঘরে বসে ভাবছে বাপ্পির ব্যাপার। বাপ্পিকে শাস্তি দিবে নাকি ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেবে?

বাপ্পির ফোন পেয়ে সায়েম বাস্তবে ফিরল। সায়েম ফোন ধরে কানের কাছে নিতেই বাপ্পি বলল
-শোন ফোন কাটিস না। আমি তোকে কিছু কথা বলব। মানুষ তো ভুল করেই। আমিও ভুল করেছি। দেহের ক্ষুধায় বন্ধুত্তের টান ভুলে গিয়েছিলাম। আমি এখন অনুতপ্ত। আমি তোর সাথে সরাসরি দেখা করতে চাই। আয় প্লিজ।

★★

সায়েম না চাইতেও চলে আসল। হয়ত বন্ধুত্তের টান সায়েমকে আনতে বাধ্য করল। বাপ্পির কাছে এসে সায়েম চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল।

বাপ্পি বলল
-দেখ আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আমি মাফ চাচ্ছি। মাফ করে দে।
-………
-কথা বল। আয় সামনের দিকে যাই।

সায়েম আর বাপ্পি অন্ধকার এর মধ্যে চলে এল। কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। বাপ্পি বলল
-আমাকে মাফ করে দে।
সায়েম চুপচাপ শুধু শুনে যেতে থাকল। কিছু বলল না।

বাপ্পি পিস্তলটা সায়েমের পেটে ঠেকিয়ে দুই দিনটা গুলি সায়েমের শরিরে চালিয়ে দিল। বাপ্পি বলল
-মাফ করে দিস বন্ধু। নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে বন্ধুত্ত রক্ষা করা হল না।

সায়েমকে অন্ধকার এ ফেলে রেখেই বাপ্পি চলে এল। বাপ্পি নিজেকে বাচানোর জন্য সায়েমকে মেরে দিল। কারন সায়েম বাপ্পিকে অত সহজে ছাড়ত না। একদিন এর জন্য শাস্তি পেতে হত।

আজ হয়ত বাপ্পিকে ক্ষমা করে দিত। কিন্তু মনের মাঝে ক্ষোভ থেকে যেত। সেই ক্ষোভ একদিন ভয়ংকর হতে পারত। তাই সায়েমকে মেরে অন্ধকার এ রেখে বাপ্পি নিজেকে রক্ষা করল।

তিন

নয়ন বাপ্পিকে বাসায় ডেকে আনল। বাপ্পির সাথে সায়েমকেও ডাকত। কিন্তু কাল সন্ধ্যা থেকে সায়েমের খোজ নেই।

বাপ্পি নয়নকে বলল
-কিরে ডেকে আনলি কেন?
-অনেকদিন আড্ডা দেই না। তাই আজ আড্ডা দিতে ইচ্ছা হল।
-সায়েমের কোন খোজ জানিস?
-আরেহ দেখ কোথায় ডুব মেরে আছে। আবার চলে আসবে।
-তাই যেন হয়।
-ওর জন্য সময় নষ্ট করে লাভ নাই। নে মদা খা।

নয়ন বাপ্পিকে গ্লাসে মদ ঢেলে দিচ্ছে। বাপ্পি শুধু গিলে যাচ্ছে। বাপ্পি এতক্ষণে টাল হয়ে গেছে সেটা তার কথার ভাবেই বুবোঝা যাচ্ছে।

নয়ন বাপ্পিকে বলল
-তুই সায়েমের সাথে এমন করলি!
-কি করলাম?
-তুই সায়েমকে মেরে দিলি!
-কি বলিস! আমি সায়েমকে মারি নি।
-তুই বন্ধুত্তের মুল্য এভাবে দিলি!! সায়েমকে বললেই তো সে তোকে মাফ করে দিত। লাগলে আমি তোর হয়ে পায়ে ধরতাম।
-চুপ।
-কথাগুলো অসহ্য লাগছে? তুই এইরকম করার আগে আমাদের বন্ধুত্ত ভাবলি না!
-চুপ শালা একদম চুপ।

বাপ্পি রেগে গিয়ে নয়নকে মারতে আসল। নয়ন বাপ্পির পেটে লাথি মারতেই উল্টাদিক দিয়ে সোফার পাশির সাথে ধাক্কা খেল। টাল হয়ে আঘাত পাওয়ায় বাপ্পি আর উঠতে পারছে না।

নয়ন বাপ্পির কাছে গিয়ে আরেক বোতল মদ দিয়ে বলল
-এই নে খা।
-উ
-মদ খা। আর চল আমরা বাইরে যাই ঘুরে আসি।

নয়ন বাপ্পিকে ধরে বাইরে নিয়ে এল। দুজন একসাথে নদীর দিকে রওনা দিল।

★★

বাপ্পি বিষের জালায় ছটফট করছে। শেষ গ্লাসের সাথে মেশানো বিষ ভালই কাজ করেছে। নয়ন বাপ্পিকে ধরে আছে। বাপ্পির এদিকে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

নয়ন বাপ্পিকে বলল
-ছোটবেলায় আমরা তিনজন এই নদীতে গোসল করতাম। তোর মনে আছে?
-আমাকে বাচা। আমি বাঁচতে চাই।
-বাঁচাবি!! আচ্ছা যা।

নয়ন বাপ্পিকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিল। বাপ্পি নয়নের সামনে থাকলে বাপ্পিকে কষ্ট দিত, নয়ন নিজেও কষ্ট পেত। তাই বাপ্পিকে নদীতে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল।

নয়ন হেটে যেতে যেতে বাপ্পিকে বলল
"ক্ষমা করিস বন্ধু। আমি বেঈমানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না। বন্ধু হয়ে তুই বন্ধুর সাথে বেঈমানি করলি বলে, আমিও তাই করলাম "

নয়ন হাসি দিয়ে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে। এখন তার খারাপ লাগছে না।
কারন সে একজন বন্ধুকে হত্যা করে নি। হত্যা করেছে বন্ধু নামের বেঈমানকে।

তিন বন্ধু একসাথে হাসিখুশি থাকবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু বাপ্পি আর সায়েমকে হারিয়ে নয়ন ভাল থাকবে না। তাই বাপ্পি আর সায়েমের মত নয়নও আজ হারিয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৭:৪৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×