somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন নিয়ে

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০২০ এ আমার গৃহকর্মী নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম শিরোনাম ছিল
বুয়াদের জ্ঞ্যান গরিমা পোস্টের বিষয়বস্ত ছিল বিভিন্ন বিষয়ে তাদের পান্ডিত্য। পুথিগত শিক্ষা না থাকলেও জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা বিষয়ে নানান অভিজ্ঞতা থেকে তারা অনেক ব্যাপারে অনেক কিছুই জানে।
আমি বেশ কিছুদিন পেটের ব্যাথায় ভুগছিলাম। কোথায় ব্যাথা, কেমন ব্যাথা,কতক্ষণ থাকে, কি খেলে হয় জেনে শুনে সে বলেছিল "ডড়াইয়েন না খালাম্মা এইডা ঘেষ্টিকের ব্যাতা, তেল মরিচ কম খান আর বেশি ব্যাতা করলে দুকান থিকা একটা ঘেষ্টিকের বড়ি আইনা খাইয়েন, ভালা হইয়া যাইবেন, বড়িডা কইলাম চুইষা খাইতে হয়"।
আমার স্বামী যথারীতি বুয়ার ট্রিটমেন্ট এ ভরষা করতে পারলো না। নিয়ে গেল প্রাক্তন এপলো বর্তমান এভার কেয়ারে। এই বিষয়ের সেরা বিশেষজ্ঞের সাথে এপয়েন্টমেন্ট করে। উনি তো আমাকে এই টেস্ট সেই টেস্ট করিয়ে বিশ হাজারের উপর টাকা খসিয়ে একটা প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিল। সেখানে বিতিকিচ্ছিরি ভাবে একটা রোগের নাম লেখা যা ডায়গনোসিস করা হয়েছে। আমি নার্ভাস ভাবে জানতে চাইলাম "সহজ ভাষায় বলেন ডাক্তার সাহেব আমার কি অসুখ"? উত্তর আসলো "গ্যাস্টিক, ঔষধ লিখে দিয়েছি, নিয়ম করে খাবেন"।
আমি চমকে গেলাম,বুয়াতো তাহলে ঠিকি ধরেছিল আমার অসুখ তবে তার প্রেসক্রিপশনে ওমিপ্রাজল / সার্জিলের নাম ছিল না এই যা আর আমার থেকে টেস্ট বাবদ মোটা টাকাও খসায় নি সে।
যাই হোক অনেক দিন পর অর্থাৎ কোভিডের সময় দেশে গিয়ে থিতু হবার পর কাল দুপুরে নীচ থেকে ইন্টারকমে কেয়ার টেকার জানালো, "ম্যাডাম আপনার পুরনো বুয়া সোহাগের মা এসেছে, পাঠাবো"?
আমি সাগ্রহে বলে উঠি "হ্যা হ্যা পাঠাও'।
চিরাচরিত ম্যাক্সি পরা মাথায় ওরনা সোহাগের মা এসে হাজির। বসার ঘরে এসি ছেড়ে বসলাম, জিজ্ঞেস করলো "খালাম্মা ভালো আছেন তো? আপনাগো কথা ভুলতে পারি না, সব সময় মনে হয় "। আমরা আছি একরকম জানিয়ে জিজ্ঞেস করলাম " তোমার কি খবর সোহাগের মা? নাতি পুতি নিয়ে ভালো আছো তো "?
আমার কথা শুনে হঠাৎ সে ঝরঝর করে কেদে উঠলো, আমি তো হকচকিয়ে গেলাম, বললাম "কি হয়েছে? কি হয়েছে? কাদছো ক্যানো"!
সে পেটে হাত দিয়ে আমার দিকে করুন চোখে চেয়ে বল্লো " খালাম্মা আমার পেটের এইখানে একটা টিউমার হইছে, ডাক্তার আল্টাসনু করছে এখন সন্দেহ করতাছে সময় মত অপারেশন না করলে ক্যান্সার হইতে পারে "। সে হাত দিয়ে যে সাইজ দেখালো তা প্রায় একটা টেনিস বলের মত।
ক্যান্সারে মারা যাওয়া মায়ের মেয়ে আমি আর্ত গলায় প্রশ্ন করলাম " এত বড় টিউমার তো আগে টের পাও নি"! কাদতে কাদতে জানালো "না খালাম্মা"। চোখের পানি মুছিয়ে তার হাতে সামান্য কিছু সাহায্য করলাম যা এই চিকিৎসায় কিছুই না। কিছু খেলো না, বল্লো খেলে বমি আসে।
ভবিষ্যতে যোগাযোগ করার জন্য বললাম। জানিনা আর আসবে কি না, মনটা খারাপ হয়ে গেল। শুধু ভাবছি হায়রে সোহাগের মা তুমি আমার অসুখটা কত সহজে ধরে ফেললে আর নিজের এত বড় অসুখটা ধরতে পারলে না!

ছবি নেট
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ২:৪৪
২৬টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাইকা লেন্সে তোলা ক’টি ছবি

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১১:৩০




ঢাকার বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ট্রেন ঢোকার সময়, ক্রসিংয়ে তোলা। ফ্ল্যাস ছাড়া তোলায় ছবিটি ঠিক স্থির আসেনি। ব্লার আছে। অবশ্য এরও একরকম আবেদন আছে।




এটাও রেল ক্রসিংয়ে তোলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কার গল্প জানেন ও কার গল্প শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৭ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:৩১



গতকাল সন্ধ্যায়, আমরা কিছু বাংগালী ঈদের বিকালে একসাথে বসে গল্পগুজব করছিলাম, সাথে খাওয়াদাওয়া চলছিলো; শুরুতে আলোচনা চলছিলো বাইডেন ও ট্রাম্পের পোল পজিশন নিয়ে ও ডিবেইট নিয়ে; আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবাকে আমার পড়ে মনে!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫২

বাবাকে আমার পড়ে মনে
ঈদের রাতে ঈদের দিনে
কেনা কাটায় চলার পথে
ঈদগাহে প্রার্থনায় ..
বাবা হীন পৃথিবী আমার
নিষ্ঠুর যে লাগে প্রাণে।
কেন চলে গেলো বাবা
কোথায় যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×