অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৬ শুরু হবার ত্রয়োদশ দিনটি ছিল পহেলা ফাল্গুন। মাসব্যাপী মেলার প্রায় মাঝামাঝি, সেই সাথে উৎসবের মাস ফাল্গুনের শুরু। একটা উৎসব উৎসব আমেজ নিয়ে মেলায় প্রচন্ড জনসমাগম হয়েছিলো, যার সিংহ ভাগ ছিলো দর্শক, সামান্য কিছু অংশ পাঠক আর তার চেয়েও যৎসামান্য কিছু অংশ ক্রেতা। ‘জাগৃতি’র স্টলে (যেখানে আমার কবিতার বই ‘গোধূলীর স্বপ্নছায়া’ পাওয়া যাচ্ছে) কিছুক্ষণ আগে ‘বন্যা’র সৌজন্যে মুগ্ধ হয়ে আমার অপর প্রকাশক ‘বইপত্র প্রকাশন’ এর স্টলে এলাম, যেখানে আমার অপর বই ‘জীবনের জার্নাল’ পাওয়া যাচ্ছে। বইমেলা যখন শুরু হয়, তখন জ্যাকেট পড়ে আসতাম। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে একেতো আবহাওয়ার লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন, তার উপর ছিল প্রচুর মানুষের উপস্থিতির কারণে একটা সমষ্টিগত দৈহিক উত্তাপ। সব মিলিয়ে একটু অস্বস্তি লাগছিলো, পিপাসাও লেগেছিলো। ‘জাগৃতি’র তুলনায় ‘বইপত্র প্রকাশন’ এ মানুষের ভিড় একটু কম ছিলো। তাছাড়া প্রকাশক লেখকদেরকে ভেতরেও বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। তাই সেখানে একটু বসে বিশ্রাম নিতেই এসেছিলাম।
আস্তে আস্তে সেখানেও ভিড় বাড়তে থাকলো। একটু পরে সেখানে এক দম্পতি এসে দাঁড়ালেন। তাদের মধ্যে ভদ্রমহিলার মুখাবয়বটা বেশ সপ্রতিভ এবং হাসিখুশী, তার স্বামী বা সাথীর মুখে হাসি না থাকলেও খুবই একটা মার্জিত ভাব পরিস্ফূট। দেখলাম, তারা উভয়েই বইগুলোর উপর চোখ বুলোচ্ছেন। ‘জীবনের জার্নাল’ এর উপর চোখ পড়তেই ভদ্রমহিলা সেটা হাতে তুলে নিলেন। আমি উৎসাহিত হয়ে তার কাছে গিয়ে তাকে আস্তে করে জানালাম যে আমিই ঐ বইটির লেখক। তিনি একবার বইটির শিরোনামের নীচে লেখা আমার নামের দিকে আরেকবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বল্লেন, “আমি আপনাকে চিনি”। নিকট বন্ধুমহল ছাড়া আমার পরিচিতি খুবই সীমিত। আমি চিনিনা অথচ আমাকে চেনে, এমন কেউ থাকতে পারে তা ছিলো আমার জন্য বিস্ময়ের একটা ব্যাপার। সে বিস্ময়টা হয়তো আমার মুখেও প্রতিভাত হয়েছিল। জিজ্ঞেস করেই বসলাম, আমাকে কিভাবে চেনেন তিনি। আবারো হাসি। বল্লেন, আমি সামহোয়্যার ইনে আপনার লেখা পড়েছি। তখন ব্যাপারটা বুঝলাম। আশা করতে থাকলাম, তিনি নিজেই হয়তো পরিচয়টা দেবেন। ঔৎসুক্যটা বেশীক্ষণ দমন করা গেলনা বলে তার পরিচয়টা জানতে চাইলাম। তিনি হেসে বল্লেন, ‘আমি রিকি’।
রিকি আমাকে তার স্বামীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাদের উভয়ের চেহারায় পরিস্ফূট খুশী খুশী ভাবটা আমার খুব ভালো লাগলো। আমি জানালাম, তাদের সাথে পরিচিত হয়ে আমি প্রীত হয়েছি। যাবার আগে রিকি বলে গেলেন, আমার কবিতাগুলো তিনি পড়েন এবং অনেকগুলো তার ভালো লেগেছে। আমি তাকে একটু দূরে থাকা ‘জাগৃতি’র স্টলটা দেখিয়ে বল্লাম, ওখানে আমার প্রথম কবিতার বই ‘গোধূলীর স্বপ্নছায়া’ পাওয়া যাবে। তিনি তা জেনে খুশী হলেন বলে মনে হলো।
ধন্যবাদ রিকি ও শাওন, বই মেলায় এসে আমার এ বইটাকে আপনাদের নির্বাচিত সংগ্রহে নিয়ে একে এবং সেই সাথে এর লেখককে সম্মানিত করার জন্য।
পড়ন্ত বিকেলের দিকে আবার ফিরে যাই ‘জাগৃতি’র স্টলে। সেখানে দেখা হয় জেসিসি’র এক্স ক্যাডেট ইকরাম কবীর এর সাথে। বর্ণাঢ্য সাফল্যময় জীবনের অধিকারী ইকরাম কবীর এর সাথে পরিচয়টা পোক্ত হয় সিসিবিতে লেখালেখির মাধ্যমে। এছাড়া তিনি আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডও বটে। ‘জাগৃতি’ থেকে তিনি আমার ‘গোধূলীর স্বপ্নছায়া’ সংগ্রহে নিলেন। এরপর নিজে থেকেই আমার ‘জীবনের জার্নাল’ কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে চাইলেন। তাকে নিয়ে আমি আবার ‘বইপত্র প্রকাশন’ এর স্টলে চাহিদাকৃত বইটির জন্য ফিরে এলাম। সৌম্যকান্তি, সুদর্শন, হাসিখুশী মেজাজের এই চিরতরুণ লেখকের “এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প” এবারের বইমেলায় বেশ ভালো চলছে। এর আগেরদিন ‘অন্বেষা’য় গিয়ে বইটির খোঁজ করে আমি পাইনি, সেকথা তাকে জানালাম। এরপর তাকে নিয়ে ‘অন্বেষা’য় গিয়ে আমি “এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প” সংগ্রহ করলাম এবং এতে লেখকের শুভেচ্ছা স্বাক্ষর গ্রহণ করলাম।
ঢাকা
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



