somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ বনাম ভারতের এ খেলাটা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হবে

২৫ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ পারেও বটে!
গতকাল বাংলাদেশ যেভাবে, যে পরিস্থিতিতে ক্রিকেট টি-২০ ম্যাচটা ভারতের সাথে হেরে গেলো, সেভাবে হারতে বিশ্বের খুব কম টিমই পারবে। প্রথম থেকে খেলার ১৭ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশই আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলো। এমনকি বলা যায়, খেলার শেষ তিনটি বলের আগে পর্যন্ত। শেষ ওভারে মুশফিক দুটো বাউন্ডারি হাঁকিয়ে কাজের কাজটিই করেছিলেন বটে, কিন্তু ঐ পরিস্থিতিতে শেষ সহজ কাজটুকু তিনি করে যেতে পারলেন না। তিনি মাঠের বড় পর্দায় নিজেকে ফিনিশিং হীরো হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন। সবাই দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরছে, চুমু খাচ্ছে, মাটিতে ফেলে তার উপরে দলের বাদ বাকী খেলোয়াররা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই খায়েশ থেকেই তিনি আরেকটা বাউন্ডারি হাঁকালেন। ততক্ষণে শক্তি অনেকটা ক্ষয় হয়ে গেছে, তাই মারে তার জোর ছিলো না। ফলে যা হবার তাই হলো, সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে তিনি বিদায় নিলেন। তিনি চোখটা খুলে দেখলেন না যে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা তখন দূর দুড়ান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, বাউন্ডারি ঠেকানোর আশায়। শুধু ব্যাটে একটু টুক করে লাগিয়ে দৌড় দিলেই কাজ হয়ে যায়। অথচ সেটুকুই না করে তিনি হীরোইক শট খেলতে গেলেন। তার চমৎকার অর্জনটুকু ধূলোয় মিশিয়ে দিলেন।

মুশফিককে হয়তো বা তবু ক্ষমা করা যায় এজন্য যে ওরকম সময়ে একজন পারফর্মিং খেলোয়াড়ের ওরকম ইচ্ছে মনে জাগতেই পারে। আর তাছাড়া উনি আউট হবার পরও খেলাটা বাংলাদেশের আয়ত্তের মধ্যেই ছিল। কিন্তু মাহমুদ উল্লাহ এমন পরিস্থিতিতে একই কাজ কী করে করতে পারলেন? তার মনেও কি একই ইচ্ছে জেগেছিলো? কি নির্বোধ অর্বাচীনের মতই না ঐ রিস্কী পুওর শটটা খেলে তিনিও নিজের অর্জনটুকু ধূলোয় মিশিয়ে দিলেন! ঐ সময়ে যদি টেইল এন্ডের বোলাররাও ব্যাটিং করতো, তারাও ঐ পরিস্থিতিতে এমন সিলি শট খেলতেন না। তারা হয়তো বল ব্যাটে না লাগলেও বাই এর জন্য আচমকা ইঁদুর দৌড় দিয়ে বসতেন। তাতেও হয়তো কাজের কাজটুকু হয়ে যেতো। অথচ দলের স্বনামধন্য এক্স ক্যাপ্টেন এবং এক্স ভাইস ক্যাপ্টেন ক্রীজে থাকতে এমন অপকম্মটা ঘটে গেলো, ষোল কোটি ক্রিকেট লাভিং বাংলাদশীকে চরম হতাশার সাগরে ডুবিয়ে! মাহমুদ উল্লাহ'র কাছ থেকে আরেকটু সুবেবিচিত খেলা জাতি আশা করেছিলো।

আমার মতে খেলার শেষ বলটি ওয়াইড হয়তো ছিলো। ব্যাটস্ম্যানদ্বয়ের যেকোন একজন আম্পায়ারের কাছে আপত্তি প্রকাশ করতে পারতেন। কিন্তু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হয়তো তাদের কেউ তা করেন নি। আমি হলেও হয়তো করতাম না।

ভারতীয় সমর্থকদেরকে এবং বিশ্বের অন্যান্য বাংলাদেশ বিরোধী ক্রিকেট খেলোয়াড়, সমালোচক, অফিসিয়াল এবং কমেন্টেটরদেরকে আরও এক দশক ধরে বাংলাদেশ দলকে এবং সমর্থকদেরকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য আর হাস্যকৌতুক করার পূর্ণ রসদ তুলে দেয়া হলো! এ খেলা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হবে, আমাদেরকে লজ্জিত না করলেও হতাশাগ্রস্ত করে রাখবে নিঃসন্দেহে, অন্ততঃ যতদিন পর্যন্ত না আমরা ভারত কিংবা তাদের চেয়েও শক্তিশালী কোন দলকে কনভিনসিংলী পরাজিত করতে পারবো।

খায়রুল আহসান
২৪ মার্চ ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:০৭
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×