‘হে আকাশ, আমি আসছি......
তোমাকে মাটিতে নামিয়ে আনতে’!
বছরের শেষ রাতটিতে আকাশের সাথে
তোমার এভাবেই শেষ কথা হয়েছিলো।
তারপরে এক রাতে তুমি মহড়ায় অংশ নিলে,
কি করে ঈগলের ক্ষিপ্রতায় এক টুকরো আকাশ
ছোঁ মেরে নিয়ে আসা যায়, হাওয়ায় ভেসে ভেসে
সে প্রশিক্ষণে, সিলেটের পানিছড়া ড্রপযোনে।
আকাশের সাথে তোমার সখ্যতা না শত্রুতা ছিল,
তা তুমিই ভাল জানতে। তোমার হাসিমুখ বলে দেয়,
মৃত্যুকে তুমি পরোয়া করনি কখনো, তাই নিঃসঙ্কোচে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে শীতল মৃত্যুর ওঁৎ পেতে থাকা বুকে।
প্যারাস্যুটের বিশ্বাসঘাতকতায় নিমেষেই শেষ হয়ে গেল,
তোমার ছয় শ’ মিটারের নিঃসংশয় অকুতোভয় অবরোহণ।
পানিছড়ার অবরোহণ ভূমি রঞ্জিত হলো তোমার উষ্ণ রক্তে।
আকাশ আনা হলোনা তোমার, তুমি চলে গেলে আকাশের বুকে!
পাদটীকাঃ সাদমান বিন আখতার, ওরফে “সাদমান সৌজন্য” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭৫ বিএমএ লং কোর্সের একজন অফিসার ক্যাডেট ছিলেন। সদা হাসিখুশী এই ক্যাডেট ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (৪৫ তম ব্যাচ) থেকে এইচ এস সি পাশ করে সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য যোগদান করেছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ফেইসবুকে দেয়া তার শেষ স্ট্যাটাস ছিলঃ “Sky I am coming to... bring you down.... 2017 (দুইটা হাসির ইমো)”
গত ০২ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে রাতের বেলা সিলেটের শালুটিকরে অবস্থিত বিমান বন্দরের কাছাকাছি পানিছড়া ড্রপযোনে তাদের চলছিলো শেষ “Night Para Jump Rehearsal”। কিন্তু জাম্পের পরপরই কোন কারণে তার Reserve প্যারাস্যুটটি Main প্যারাস্যুটের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার কারণে কোনটাই আর কাজ করেনি। ফলে তিনি ৬০০ মিটার উচ্চতা থেকে ড্রপযোনের ভূমিতে নিপতিত হন। তাকে দ্রুত জালালাবাদ সি এম এইচে নেয়া হলে সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আজ এ মুহূর্তে (দুপুর ১২-০৫) এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার সতীর্থরা সিলেটে চূড়ান্ত জাম্পের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করছেন এবং কিছুক্ষণ পরেই তারা তাদের পোশাকে পরিধানের জন্য আনুষ্ঠানিক Insignia অর্জন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের গর্বিত মাতাপিতাগণও আমন্ত্রিত হয়েছেন। তাঁদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং সেই সাথে স্মরণ করছি মরহুম সাদমানকে এবং সাদমানের দুঃখী মাতা পিতাকেও। আল্লাহ সাদমানকে বেহেস্ত নসীব করুন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যগণকে সবরে জামিল দান করুন!
আমি সাদমান বিন আখতার, ওরফে “সাদমান সৌজন্য”কে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। ফেইসবুকে তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি দেখে এবং তার কিছুদিন পরে ফেইসবুকের মাধ্যমেই তার করুণ পরিণতির কথা জানতে পেরে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি। এমন একটা হাসিখুশী টগবগে তরুণের মনে কখন কী কী অনুভূতি খেলা করে, তা নিজের এবং পুত্রসন্তানদের তারুণ্যের দিনগুলোর (সাদমানের বয়সের) কথা স্মরণ করে অনুধাবন করতে পারি। আমার আজকের এ কবিতাটি সাদমানের প্রতি উৎসর্গিত হলো।
ঢাকা
০৫ জানুয়ারী ২০১৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Ex Cadets' Federation (ECF) has made this their cover page on Facebook, paying homage to late Sadman Bin Akhter. May Allah forgive him and grant him Jannah!

Proud and confident Sadman who has left us for eternity, to mourn his untimely and unacceptable demise.

Sweet boy Sadman, an ex JCC Cadet, when he was in class seven (perhaps!).

Sadman's musical instruments now lying idle at home...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



