ইতিহাস প্রিয় পাঠ্য নয়।
মাঝে মাঝে চোখ পড়ে যায়
কিছু কিছু বিচিত্র লেখায়।
বলা হয় 'অসভ্য' পূর্বসূরীরা
সভ্যতাসম্মত পোষাক পরেনি
গাছের বাকল, পাখির পালক, পশুর বাকল
ইত্যকার অর্ধনগ্ন,প্রায়নগ্ন পোষাকে সেজেছে
এ রকম ছবিমুখরিত বই দেখে দেখে শিক্ষায় পেকেছি।
অবাক নজরে দেখি
সভ্যতার ডগায় বিহারী নারী ও পুরুষ
ও রকম ছবিসম্মত পোষাকে হাজির !
ওটাই সভ্যতা ?
নাকি পুরো দেহ ঢাকা পোষাকে সভ্যতা ?
আরো পড়ে দেখি
সেই কালে হানাহানি,খুনোখুনি
রক্তপাত নিয়ত নিয়তি ছিলো।
বিচারে ন্যায্যতা ছিলো সুদূর বিহারী।
সে কালের ভোঁতাছুরি,তলোয়ার,ধনুক ও তীর
সুদূর পেছনে ফেলে
বিজ্ঞানসম্মত সব অস্ত্রপাতি দিয়ে
সভ্যতা শোভিত !
সে সকল অস্ত্র দিয়ে
আধুনিক, উত্তরাধুনিক ও উত্তর উপনিবেশিক
তরিকায় হানাহানি, খুনোখুনি চলে।
ভয়ে ভয়ে বলি, এসব সুসভ্য কাজকর্ম
হানাহানি, খুনোখুনি নামে অভিহিত হওয়া কি বিধেয় ?
পরের সাম্রাজ্য দখল, নারী ও সম্পদ লুট
ইতিহাসে অসভ্যতা নামে লেখা আছে।
এখন যে সব দখলের কাজকর্ম চলে
সে সবের সভ্য নাম আমিতো জানি না !
গুহামানবেরা কাঁচা মাংস খেয়ে
বেঁচেবর্তে গেছে।
তারপরে এলো পোড়া মাংসভোজ।
আজকাল আধুনিক রেস্তোরায়
পোড়া মাংস মেলে
গ্রিল ও বার বি কিউ
আধুনিক মসলাশোভিত।
একে কি মসলাসভ্যতা বলে ?
গুহাচিত্রে অর্থহীন আঁকিবুকি
অসভ্যতা বয়ে বয়ে চলে
আজকাল শিরোনামহীন
বিমূর্ত ছবিরা সভ্যতাকে কি নামে ডাকাবে ?
সেই সব অসভ্যতা কালে
মানুষের মাংস নাকি মানুষ খেয়েছে ?
এখন যে খানাপিনা চলে
তাকে আর মাংস নামে ডাকাই চলে না।
খুব ভেবেচিন্তে, শোষণ বঞ্চনা এ রকম নামে ডাকি
কেউ কেউ রক্তচোষা বলে
প্রকৃতপ্রস্তাবে এটা ইতর জনের ভাষা।
সভ্যতায় এসবের
কি নাম শোভন ?
অনেক প্রশ্নের ভীড়ে
সভ্যতাকে দু'একটা নিরীহদর্শন
প্রশ্ন করে যাই।
কেননা, আমিও সভ্যতার
স্কুল ও কলেজে
সভ্যতার পাঠ নিতে বেজায় পিপাসু।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




