somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠকের দায়বদ্ধতা

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন লেখক মূলত লিখেন সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থেকে। সমাজের গলি উপগলিতে লুকিয়ে থাকা নোংরা ময়লা বাস্তবতা তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেখে এসেছেন এবং সেই সাথে মানব মনের গতি-প্রকৃতি, দোষ-গুন সম্পর্কে তিনি সচেতন।এ সচেতনতা তাকে অন্য দশজন সাধারন মানুষ থেকে আলাদা করে চিন্তা করতে শেখায় এবং সমাজের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। সমাজের প্রতি লেখকের এ দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রত্যাশা তাকে সবসময় সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এ পরিবর্তন সাধিত হয় মুলত পাঠকের মাধ্যমে। পাঠকের মাধ্যমেই একজন লেখক তার দৃষ্টিভঙ্গি আদর্শ ইত্যাদি প্রচার করেন এবং মানুষকে ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করেন। সেই হিশেবে একজন লেখকের কাজ পাঠক নিয়ে এবং তিনি বেঁচে থাকেন পাঠকের মাঝে। সমাজের প্রতি লেখকের যেরুপ দায়বদ্ধতা আছে একইরকমভাবে পাঠকেরও দায়বদ্ধতা আছে লেখকের প্রতি৤ আমাদের দেশে লেখকেরা সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে সচেতন থাকলেও (তারা তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে) পাঠকরা তাদের দায় নিয়ে কতটুকু সচেতন বা আদৌ সচেতন কিনা সেই প্রশ্ন এসে যায়।
এক আধটু লেখালেখি যারা করেন কিংবা সাহিত্য অঙ্গনের খোঁজ খবর যারা রাখেন তারা ব্যতীত যে বিশাল পাঠক শ্রেনী আছে তারা সাহিত্য বলতে ক্লাসিক্যাল সাহিত্যকেই বুঝে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ, শরত্চন্দ্র, নজরুল, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষন বড়জোর মীর মশাররফ হোসেনকে তারা সাহিত্যিক হিসেবে জানেন। হালের বইমেলা কেন্দ্রিক পাঠক সমাজ হুমায়ুন আহমেদের নাম জানেন কিন্তু তারা কেউ হুমায়ুন আহমেদকে আবিষ্কার করেননি। তারা অন্যদের কাছে তার লেখা সম্পর্কে শুনে তার বই কিনেছেন। এটাও বাঙ্গালী পাঠক সমাজের জন্য চির আক্ষেপের যে তারা অন্যের কাছে প্রশংসা কিংবা নিন্দা শুনে সবসময় সাহিত্যের মান বিচার করেন, অপরিচিত কোন লেখকের বই কিনে তার লেখা পড়ে সাহিত্যমান বিচার করেন না।
সাহিত্য সবসময় লেখকের সময়কে উপস্থাপন করে আর এ দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করলে এসব পাঠকেরা সাহিত্যের মাপকাঠিতে আদি সমাজ ব্যবস্থায় আটকে আছেন। ক্লাসিক্যাল সাহিত্যের পাশাপাশি পাঠককে তার সময়ের লেখকদের লেখা পড়ে তারা সমাজকে কোন চোখে দেখছেন এবং সমাজের কোন ধরনের পরিবর্তন চান তা জানতে হয়। এ জায়গায় বাঙ্গালী পাঠক সমাজ যোজন যোজন পিছিয়ে। পাঠকের কালের সাহিত্য সম্পৃক্ততা ছাড়া কেউ পরিপূর্নভাবে পাঠক হতে পারেন না।
একজন লেখক যত বড় প্রতিভাবানই হোন না কেন, আমাদের দেশের বাস্তবতায় তাকে প্রথম দিকে নিজের টাকায় বই ছাপতে হয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ভরা বাজারে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে নেমে হিমশিম খেতে হয়৤ বেশির ভাগ প্রতিভাবান লেখকই বিপরীত স্রোত সামলাতে না পেরে হারিয়ে যান। পাঠক সমাজ যদি তাদের দায়বদ্ধতা ঠিকভাবে পালন করেন এবং প্রবীন লেখকদের সাথে সাথে নবীন লেখকদের বই কিনে তাদের মান যাচাই করেন তাহলে নবীন লেখকরা যেমন লিখতে উৎসাহ পেতেন তেমনি বাংলা সাহিত্যে যে অনেকদিন ধরে কিংবদন্তী লেখকের সংকট চলছে সেই সংকট কেটে গিয়ে হয়তো আজকের নবীনদের মধ্যেই কেউ অদূর ভবিষ্যতে দীপ্তি ছড়াবেন স্ব-মহিমায়।

এখানে কয়েকজন নতুন লেখকের প্রকাশিত কিছু বইয়ের নাম দেয়া হলো।

১. সিন্দাবাদের গালিচা (ছোট গল্প) আহমদ জসিম
অগ্রদূত, স্টল নং ১১২, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান
২. অপরাজিত (উপন্যাস)– নাঈমা আফরোজ সম্পা
ভাষাচিত্র, স্টল নং ২৮৭, ২৮৮
৩. উপনিবেশ (ছোট গল্প) শাহনেওয়াজ বিপ্লব
গ্রন্থ প্রকাশ, স্টল নং ৩৭, ৩৮, ৩৯
এছাড়াও দেশ পাবলিকেশনস্ থেকে তার কবিতার বই বের হচ্ছে৤
৪. ছায়াশরীরের গল্প – জয়ন্ত জিল্লু
তৃতীয় চোখ, লিটল ম্যাগ কর্ণার, স্টল নং ১৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিটেকটিভ, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার: মধ্য বৃত্ত

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৭


প্রফেসর সাজিদ এলাহী, বয়স সাতান্ন। ইংরেজি বিষয়ের প্রফেসর। লম্বা চওড়া শরীর, গায়ের রং হালকা তামাটে। প্রতিদিন সকালে উঠে এক ঘণ্টা করে হাঁটাহাঁটির কারণে এখনও শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট নয়। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোষ্ট প্রকাশের পর, আপনি কি কিছুক্ষণ সামুতে থাকেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫০



আমি পোষ্ট দেয়ার পর, বেশ কিছু সময় সামুতে থাকি; ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, আমি প্রায়ই পোষ্ট দিই না সামুতে। অবশ্য আজকাল, আমি আমার নিজের নিয়মও খুব একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত ইবাদত এবং হালুয়া রুটি খাওয়ার উৎসবের ঘনঘটা

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২২

BVNEWS24 ||



আলোকসজ্জা করা যাবে কি?
শবে বরাত রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আলোকসজ্জা করেছেন। এর মাধ্যমে একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়। এই উৎসব করা কিসের ভুল? উৎসব মাধ্যমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র লাইলাতুল বরাত রজনীতে মডারেট মুসলিম হওয়া উদাত্ত আহ্বান জানাই।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪


শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।

ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×