somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরণ্যকের সংসার জীবন। খ‌ুব ছোট এক‌টি গল্প।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরণ্যক এখন বিবাহিত।চাকরির এক বছরের মাথায় এসে জোটুয়েছিল একটি অন্ধ মেয়েকে। অমনি প্রেম। এটা তার প্রথম প্রেম। ভেবেছিলাম প্রেম টিকবে না। বিয়েটাও করে ফেলেছিল অবশেষে। গোবেচারি আরণ্যকের খুব ইচ্ছে ছিল একটি সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবে। উর চেয়ে যে একটু বেশী লম্বা । উর উচ্চতা ৫ ফুট দুই ইঞ্চি। কিন্তু কোন মেয়ে উকে পাত্তায় দিল না। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ঘেটে ঘেটে একটি মেয়ে আরণ্যকের কপালে জুটলো না।
আজ আরণ্যকের চতুর্থ বিবাহ বার্ষিকী আমার সেখানে দাওয়াত ছিল। ভালো খেলাম। সুন্দর আয়োজন। অন্ধ বউ । বউটির দুটো চোখই অন্ধ।
জন্মের চার বছর পরে বসন্ত রোগে মেয়েটি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মেয়েটি বিয়ে পাশ। অন্ধদের স্কুলে শিক্ষকতা করে। আরণ্যকের একটি মাত্র মেয়ে। তার নাম মেধা। আরণ্যক মেয়েটিকে আদর করে মা বলে ডাকে। ছোট বেলায় আরণ্যকের মা মরে গিয়েছিল। বারা মরেছিল অনার্স প্রথম বর্ষে এসে।
যাই হক আরণ্যক আবার কবিতা লেখা শুরু করেছে। একটি বই বাহির করেছে। খুব ভালো লাগলো ।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ও একটি মেয়েকে ছয় বছর ভালো বেসেছিল । মেয়েটির নাম ছিল হিমা। হিমা এখনো প্রশাসনে বড় অফিসার। আরণ্যক তাকে বলতে পারেনি। তার কাছে যেতে পারিনি। অনার্স প্রথম বর্ষে হিমায় তার সাথে প্রথম কথা বলেছিল। এই সুখে আরণ্যক ভিক্ষুককে একশ টাকা দান করেছিল। আরণ্যক হিমার খোঁজ এখনও নেই। হিমা জানত না আরণ্যক তাকে ভালোবাসে।
আন্যণ্যকের এই ক্ববিতাগুলো হিমাকে না পাওয়ার ব্যাথা নিয়ে । সেখানে একটি কবিতায় লেখা ছিল ,"তোমাকে না পেলে কি হবে, না পেলেই মরি মরি, না পেলেই ভালো আছি , সুখে আছি। "
আরণ্যকের সংসার জীবন । আর এক পাশে তার হিমাকে নিয়ে লেখা কবিতা । আজও হিমা জানেনা আরণ্যক তাকে কতটুকু ভালোবাসে।
আবার আরণ্যকের বউ স্বপ্নাও জানেনা আরণ্যক স্বপ্নাকে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু হিমাকে সে খুব মিচ করে।
জীবনে দুঃখে পড়ে আরণ্যক অন্ধ মেয়েকে বিয়ে করেছে।কারণ তার বি‌য়ে দেবার কেউ ছিল না।মা মরা ছেলেটির কেউ তেমন কেউ ছিল না। বিয়ে দেবে কে? একটি ভালো মেয়েও জোটাতে পারেনি। গোবেচারি। তাই সে দুঃখ করে একটি অন্ধ মেয়ে জুটিয়েছে। আনরণ্যক পেশার কিণ্ডার গার্টেন শিক্ষক। সংসার জীবনে সে একেবারে খারাপ নেই। সবচেয়ে বড় কথা মনের মূল্যই আসল। আরণ্যকের বউয়ের সাথে তার খুব মিল। আর অন্ধরাওতো মানুষ । তাদের জন্যে কেউ যদি এগিয়ে আসে। আরণ্যক সেই কাজটিই করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×