somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরণ্যকের ঈশ্বর ভাবনা ও কবিতা লিখন

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আরণ্যক কবিতা লিখবে । তারপর তা ছিড়ে ফেলবে। দীর্ঘদিন থেকে ও যেন কি একটা ভাবছে। আরণ্যকের ঈশ্বর বিশ্বাস আছে। সে বিশ্বাস কি সবার মত? গ্রন্থের ঈশ্বর নাকি ভাবনার ঈশ্বর? আরণ্যকের ঈশ্বর বলেছে লিখবেতো ভালোকিছু লিখবে। অথবা লেখার দরকার নেই। আরণ্যক চরম ঈশ্বর বিশ্বাসী। ঈশ্বরকি নাকি তাকে লেখার পরিসীমা বলে দিয়েছে। তাই আরণ্যকের প্রতিটি কবিতা ঈশ্বরের সীমা অতিক্রম করে বলে আর‌ণ্যক কবিতা ছিড়ে ফেলে দেয়। কারণ আরণ্যক ঈশ্বরকে চায়। সে চায় অসীম ঈশ্বর তার কাছে ধরা দিক। তাকে ভালোবাসুক।
আরণ্যক হাটছে।ঈশ্বরকে ডাকছে।তাকে কি যেন পেতে হবে। আরণ্যক ঈশ্বরকে ভালোবেসে আত্মনিয়ন্ত্রণের জায়গা খোঁজে।কিন্তু বারবার সে জায়গা খুঁজে বের করতে সে ব্যর্থ হয়। আর দশটা ছেলের মত আরণ্যকের মনে প্রিয়সীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে। কিন্তু বিবাহ বহিভূর্ত প্রেম ঈশ্বর নিষেধ করেছে।
আজ আরণ্যকের আঠাশ বছর পূর্ণ হল । জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সে ঈশ্বরকে ডাকার চেষ্টা করছে। সে নিজের মাঝে নিজের লুকিয়ে থাকা গন্ধ শুকে আনন্দ পায় আর ভাবে সে একটা কিছু হতে চলেছে।সে এখন মাস্টার্স শেষ করেছে। তার আশার জায়গাটা অনেক বড়। ঈশ্বর তাকে ছাড়লে সে ঈশ্বরকে ছাড়ে না, সে ঈশ্বরকে ছাড়লে ঈশ্বর তার কাছে আসে।
এভাবে সে কবিতা লেখার অনুমোদন পেল।
সাহিত্য তাকে লিখতেই হবে । সাহিত্য মানব মনের অপ্রকাশিত কথার প্রকাশভঙ্গি। আসলে আরণ্যকের কাছে মাঝে সাহিত্য ও ধর্ম আলাদা ও বিপরিত পথ হিসেবে ধরা দিয়েছিল। এখন সে সাহিত্য লেকার অনুমোদন পেল।

আজ শুক্রবার ।আরণ্যক ছাদে যাবে । প্রার্থনায় ভুবন কাপাবে । মহানবীর বাণী ঘেটে ঘেটে সে পেয়েছে যে শুক্রবারের আসরের নামাজের পর প্রার্থনা কবুল হয়। সুতরাং জুম্মার দিনে আরণ্যক পাহাড়ের মত করে দাড়াবে । তাকে অনেক উচু মনে হবে। সে চাইবে আরো বড় হবার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য।

আরণ্যকের যখন এগারো বছর বয়স তখন তার মা মারা যায়। বাবা মারা যায় তার কলেজ লাইফের ফার্স্টটিয়ারে।আর‌ণ্যকের হিমা আরণ্যককে তাড়া করে। আচ্ছা আরণ্যক তুমি হিমাকে ভালোবেসেছিল কেন? এটা কি তোমার ঈশ্বর অনুমতি দিয়েছিল। হে আরণ্যক বলল যে অনুমতি দেয়নি ঠিকই। কিন্তু একটি মেয়েকে একটি ছেলের ভালো লাগতে পারে । এটা স্বাভাবিক ব্যপার।
আরণ্যক তার নিজেকে অনুধাবন ও আবিষ্কার করার চেষ্টা করত। ঈশ্বরকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল। সেজন্যে সে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সপে দিয়েছিল।আর মাঝে একটু বিশ্রাম পেলে হিমার প্রেমে হারিয়ে যাবে। হিমা এখন অন্যের হয়ে গেছে। তবুও সে
ভাবতে পারে না যে হিমা অন্যেরে।
তবে আমি আরণ্যকের মাঝে অন্যকিছু আবিষ্কার করেছেলাম। সে ছিল কিছুটা অটিস্টিক।একথা সেও জানত। কারণ সে নিজেকে অনধ্যান করত। প্রশ্ন করত। তবে আরণ্যকের মানসিক প্রতিবন্ধকতাও অটিজম খুব বেশী বোঝা যেত না। কায়দা করে লুকিয়ে রাখত।
হিমাকে সে ভুলতে পারত না। মানব মনের মাঝে কত কিযে হয়। মনের ফাঁকি কি যে বড় ফাঁকি।আজও আরণ্যক সেভাবেই কি ঈশ্বরকে ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে? নাকি হিমাকে ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে।

তবে আর‌্যণক সবার চেয়ে নিজেকে খারাপ ও নীচ মনে করে। সকল দোষ অকাতরে স্বীকার করে।হাজার হাজার পূণ্য করে সে আবার দুএকটি পাপের দিকে ঝুকে যায়। হিমা তাকে ভালোকাজে অনুপ্রেরণা দেয়। আর‌ণ্যককে হিমা বলে তুমি এগিয়ে যাও । আমাকে পাবে।কিন্তু হিমাকে তার পাওয়া আর হল না। তাহলে কবে পাবে।
তাহলে আরণ্যকের ঈশ্বর বিশ্বাস কেমন ঈশ্বর বিশ্বাস। যে বিশ্বাস তাকে পরনারী থেকে বাঁচাতে পারে না। না আরণ্যক মাথা নীচ করে সব দোষ স্বীকার করে নিল। তর্ক করল না। তর্ক করল না আরণ্যক।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×