somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্ডিান ভিসা এবং ইন্ডিয়া ভ্রমন প্রস্তুতি

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিদেশ ঘুরতে যাবো বলেই সেই ২০১৪ সালে পাসপোর্ট করলাম, যাবো যাচ্ছি বলে সময়ের অভাবে আজ পর্যন্ত কোথাও যাওয়া হয়নি। পাসপোর্ট করেই সারা। আমার পরে আমার অনেক বন্ধু বান্ধব পাসপোর্ট করে কত দেশ ঘুরে ফেল্লো আর আমি যাবো যাবো করে এখনও বসে আছি। এর মধ্যে একবার ভিয়েতনাম যাওয়ার প্লান করলাম, যাকে দিয়ে ভিসা করাবো সে বললো খালি পাসপোর্টে ভিয়েতনামের ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হবে সম্ভাবনা একবারেই কম। উনি আরো পরামর্ষ দিলেন যে আগে পাসের দেশ ঘুরে আসো তারপর একটা বেবস্থা হবে। অবশেষে আমি আর আমর বন্ধু জাহিদ জুলাই ২০১৮ প্লানিং করেই ফেল্লাম এবার কোথাও যাবোই, ইন্ডিয়া যাবো, ইন্ডিয়ার সিলং যেকরে হোক যাবোই। ভিসা নোয়ার প্রস্তুতিটা নিয়ে ফেল্লাম।
প্রথমে ভাবতাম ভিসা নেয়ার জন্য কাগজপত্র ঠিক করা এবং ভিসার জন্য জমা দেয়া অনেক কঠিন ব্যাপার, যখন করতে গেলাম তেমন কিছুই না পানি ভাতের মতো সহজ। সময়ের অভাবে অনলাইন ফ্রমটা আর একজনকে দিয়ে করালাম বিনা পয়সায়, ওনাকে যা যা দেয়া লাগলো তা হলো, পাসপোর্ট কপি, 2X2 সদ্য তোলা ছবি, কারেন্ট বিল অথবা পানি বিলের ফটোকপি, ন্যাশনাল আডি কার্ডের ফটোকপি। পোর্ট নিয়া খুব কনফিউস্ ছিলাম, অবশেষে সিলং যাওয়ার জন্য ডাওকি পোর্ট উত্তম সেটাই ঠিক করলাম।
দুইদিন পর অনলাইন ফ্রমটা ই-মেইলে পেলাম সাথে বোনাস পেলাম ভিসা ফিস পরিশোধের রশিদ কারন ওই লোকটাই ভিসা ফিস দিয়ে দিয়েছিলো। আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম ৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার জমা দিবো, অফিস থেকে সেরকম ভাবেই অর্ধেকবেলা ছুটি নিছিলাম। ৮ আগস্ট রাতে বাসায় আসর পর যখন মেইল পেলাম মাথা তখন পুরাই নস্ট কিভাবে প্রিন্ট দিবো, অবশেষে এক বন্ধুর কাছে গিয়ে প্রিন্ট করে নিলাম, ফ্রম প্রিন্ট করার এক ঘন্টা পর পেমেন্ট রশিদ পেলাম মেইলে, পেমেন্ট রশিদ প্রিন্ট দিবো সকালে বলে ঠিক করলাম। সকাল ৭টায় বের হবো তখন কোন দোকান খোলা পাবো কিনা তাও দিধায় ছিলাম। আল্লাহ ভরসা একটা ব্যাবস্তা হবেই।
ফ্রমের সাথে যা যা কাগজপত্র নিলাম সব গুলাই দুইসেট করে ফটোকপি করেছিলাম যদি লেগে বসে। পাসপোর্ট প্রথম পাতা, ডলার এন্ডোসমেন্ট এর পাতা (আমার আর জাহিদের দুজনেরই ট্রাভল কার্ড ছিলো যার জন্য ব্যাংক থেকেই ডলার এন্ডোজমেন্ট করে দিয়েছিলো),জাহিদ সাথে নিয়েছিলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি যদিও ব্যাংকে কোন টাকা ছিলোনা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর ফটোকপি, বিদুৎ বিল এর ফটোকপি সাথে মূল কপিও (যদিও আমার কাছে মূল কপি ওরা দেখতে চায়নি), ট্রাভন কার্ড এর ফটোকপি আর এক কপি ছবি ফ্রমের সাথে লাগায় নিলাম।
রাত ১২ টায় জাহিদ ফোন দিলো যে ওর ছবি অফিসে রেখে এসেছে, আমি এবার ভাবলাম কাল আর হয়তো জমা দেয়া হবে না ও বললো রাস্তা থেকে তুলবো। এতো সকাল কোন স্টেডিও খুলবে কিনা জানিনা। যাই হোক আমরা আর সকল কাগজ নিয়া সকালে রওনা দিলাম, বসুন্ধরা গেটে বাস থেকে নেমে দুই বন্ধু দুই দিকে ছোটা শুরু করলাম স্টেডিও খুজতে থাকলাম , একটু হাটার পরই জমুনা ফিউচার পার্ক এর সামে আসলাম দালালের অভাব নাই কেউ বলছে ফ্রম পুরন করে দেই, কেউ বলছে ফটোকপি করায় দেই, কেউ বলছে ইউকেশে পেমেন্ট দিয়া দেই, কেউ বলছে ভিআইপি লাইন লাগবে? দালালদের কোন কথায় কান না দিয়ে কাংখিত স্টেডিও পেয়ে গেলাম, ওরা সকালেই খোলে যারা ভুক্তভুগি মনের ভুলে কিছু নিয়ে না বের হয় তাদের জন্য। অনেক অনেক অফিস খুলে বসে আছে সব ভারতিয় দ্যূতাবাস রিলেটিভ, অবুঝদের সাহায্যে জন্য। আমরা কাংখিত ছবি আর পেমেন্ট রশিদ প্রিন্ট করে ফেল্লাম।


গেট খোলার ১ ঘন্টা আগেই লাইলে দারালাম রাস্তায়, এখনো যমুনা ফিউচার পার্ক এর গেট খোলেনাই। ঠিক ৯ টায় গেট খুললো সবাই হুরো-হুরি পারা-পারি করে ঢ়ুকতে লাগলো আমরাও নিজেদের কনট্রল করতে পারলামনা আমরাও পারা-পারিতে যোগ দিলাম। যমুনা ফিউচার পার্ক এর ভিতরে গিয়ে আবার লাইনে দারালাম আস্তে আস্তে ভিতরে নিচ তলায় গিয়ে ঢ়ুকলাম এতো বড় লাইন দেখে ভয় পেয়ে গেলাম যে সময় মতো কি অফিসে যেতে পারবো? অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়টা কেটে গেলো যখন খুব তারা তারি লাইন ফুরাতে লাগলো, সাথে ব্যাগ নেই নাই বেচে গেছে ৩০ টাকা কারন ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেয়না সেই ব্যাগ রাখার কাউন্টার আছে যা প্রতি ব্যাগ এর জন্য নেয় ৩০ টাকা। অবশেষে কাঙ্থিত দ্যূতাবাসে ঢুকলাম, বিশাল ফ্লোর ৪৮ টা কাইন্টার সিরিয়াল পরলো ৯৮৫ নাম্বার ১৮ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কল্পনার থেকেও কম সময়ে আমি পাসপোর্ট ও কাগজ-পত্র জমা দিয়ে ফেল্লাম। বেঘাত ঘটলো জাহিদের বেলায়, ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট যেটা দিয়েছিলো ওইটায় টাকা না থাকায় ফেরৎ দিলো এবং বিকল্প হিসেবে ডলার এন্ডোজমেন্ট এর রশিদ চাইছিলো ওটাও ওর অফিসে ফেলে আসছে, সেটাও দিতে পারলোনা বলে ওকে ফেরৎ দিয়ে দিলো। আমি সাথে সাথে ওকে পরামর্শ দিলাম যেনো ট্রাভল কার্ড এর ফটোকপি যেন জমা দেয় এবং তাই করলো জমা নিলো। দ্যূতাবাসের ভিতরে ফটোকপি মেশিনের ব্যাবস্থাও আছে।
সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত জমা নেয়।
বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত পাসপোর্ট ডেলিভারী দেয়।
লাইন দেখে ভয় পেলে চলবেনা। মুর্হুতে লাইন শেষ হয়ে যায়।
দালালের খপ্পরে পরে লাইলন দারানো মানে টাকা নস্ট করা।
ভিতরে মোবাইলে কথা বলা, ছবি তোলা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
মহিলা ও চিকিৎসা ভিসার জন্য আলাদা রাইন।
পাসপোর্ট ডেলিভারি আনার সময়ও এমন লাইনে দাড়াইতে হইছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×