
বাঙ্গালী বড়ই অদ্ভুত। এদেশের ১০০% জনগণের মধ্যে ৮০% লোক খোজে নিজেদের লাভ হওয়াটা। দেশ বা জনস্বার্থে এদের কোন ভূমিকা নেই, কোন মাথা ব্যথাও নেই। তাই বেশির ভাগ বাঙ্গালী কাঙ্গালী অবস্থায় থেকে যায়। তবে বাঙ্গালী খুব বোকা, খুব চতুর, কিন্তু চালাক বা বুদ্ধীমান এই দুটোর কোনটাই না। এদের নাচেতে বললে নাচে, কাদঁতে বললে কাদেঁ, আবার হাসতে বললে হাসে।
কিছুদিন আগে পিয়াজের দাম নিয়ে বাঙ্গালী ডালে-চালে খুচিরী বানিয়ে ফেলেছে। তারপর কৃষকরা মাথা গরম করে অন্যান্য সব ফসল ফলন বাদ দিয়ে পিয়াজ চাষ শুরু করে দিয়েছে। কারণ পিয়াজ এখন বাজারে চাঙ্গায় আছে। কারণ কৃষকদের এখন ব্যাপক লাভ হবে। তারা ভাবলো হিরা রেখে কেনো কাচে হাত দিয়ে, হাত নষ্ট করবো। কিন্তু এখন কি হবে? ইন্ডিয়ারা তো আবার পিয়াজ দিচ্ছে। ঐ যে বললাম নাচাতে বললে নাচে, কাদঁতে বললে কাদেঁ, আবার হাসতে বললে হাসে। তাই পিয়াজ নিয়ে নাটক করে ইন্ডিয়ারা একটু বাঙ্গালীদের নাচালো। তবে কৃষক বেচারিদের কি হাল হবে এখন? অন্যান্য সব ফলস বাদ দিয়ে যে পিয়াজ রোপন করলো বেশি লাভের আসায়। আর আজ যদি ইন্ডিয়া পিয়াজ বাজারে ছাড়ে, তবে তো তাদের ব্যবসা লাটে উঠে যাবে। না পারবে বেশি দামে পিয়াজ বিক্রি করতে, না পারবে অন্যান্য ফসল বাজারে ছাড়তে। এতো বড় বড় ক্ষতিটা এখন কাদের হলো নিশ্চয় বাঙ্গালীর।
তাই বাঙ্গালী বড় অদ্ভুত টাইপের। ইন্ডিয়া যখন পিয়াজ দিচ্ছে না তখন কেনো বাঙ্গালী কাঙ্গালী হয়ে লাফিয়ে উঠলো। এরা কি পারতো না ইন্ডিয়ার পিয়াজ ছাড়া বেচে থাকতে। দেশে যা মজুত ছিলো তা দিয়ে কি নিজেদের রক্ষা করতে পারতো না? কেনো সেই পিয়াজ নিয়ে বাঙ্গালী নাটক করলো? কি দরকার ছিলো এতো নাটক করার? যেটুক মজুত ছিলো, যা অন্যান্য দেশ থেকে মজুত করা হয়েছে সেগুলো দিয়েই তো আমরা আমাদের রক্ষা করতে পারতাম, পারতাম না? দেশে বিপদ হলে আমরা নিজেরা কেনো এক হতে পারি না? এক হয়ে হাতে হাত রেখে জাপিয়ে পড়তে পরি না? কেনো পারিনা সামান্য একটু বিপদের হাত থেকে আমরা নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে?
কিসের এতো লোভ আমাদের, কেনো এতো লালসা আমাদের, কেনো আমরা একে অন্যে পরিপূরক হতে পারিনা। সামান্য কটা লাভেল আসায়, সামান্য কিছু অর্থের আসায় আমরা একে অন্যের সাথে অন্যায় করি। আমরা কি পারতাম না পিয়াজের দাম কমিয়ে দিতে, সবাই পিয়াজ খেতে পারে সেই ধরনের ব্যবসা কি আমরা করতে পারতাম না। এরপর কেনো আবার ইন্ডিায় থেকে পিয়াজ আসতে দেওয়া হবে? এখন তো কৃষকরে ক্ষতি হবে, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হবে।
বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাসের আক্রমণ। মাত্র দু’দিন হলো না বাংলাদেশে করোনা প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে ব্যবসায়ীকদের লোভ বেরে গেছে। এই উছিলায় সবাই লাভ খোজে, কিভাবে লাভ হবে সেই অপেক্ষায় আছে। কিন্তু কেউ নেই! কেউ নেই যে, কি ভাবে এই বিপদ ঠেকাবে, কিভাবে জনগণ রক্ষা করবো। ডাক্তার দেখাবেন, হাসপাতালে যাবেন, অষুধ কিনবেন, মাস্ক কিনবেন এসব ব্যবসায়ীদেরই এখন বাজারে চড়া দাম।
এই করোনা ভাইরাসের উছিলায় এখন মাস্ক ব্যবসায়ীদের দাম বাজারে এখন আগুন হতে শুরু করেছে। ১০ টাকা মাস্ক ১২০ টাকা, ৫ টাকার মাস্ক ৬০ টাকা। আবার কখন যেনো হয়ে যায় ২০০ টাকা দাম হয়ে যাবে। আমরা এতো লোভি!! আমরা এতো নিচ!! সামন্য কিছু টাকা লোভ সামলাতে পারিনা। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে কত ধরনে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সব থেকে বড় প্রমাণ হলো জাপান। জাপান চীনা প্রসিডেন্টের সফর স্থগিত করে দিয়েছে, তার শরীরে যদি ভাইরাস নিয়ে জাপান সফরে যায়। ভুটান সামান্য ছোট দেশ, বাংলাদেশ থেকেও কম উন্নত মানের দেশ সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের জন্য স্যানিটাইজার বিলি করছেন। আর আমাদের দেশে সামান্য মাস্কের টাকা দিয়েও পেট পুরবে।
আসলে এগুলো কোন ছোট-খাটো ব্যবসায়ীকদের দোষ না। এগুলোর পিছনেও গ্যাং আছে। এই গ্যাংরা জনগণকে নাচাবে আর জনগণও নাচবে। কিন্তু এর কোন প্রতিকার, প্রতিরোধ বা প্রতিবাদও করতে পারবে না। বিপদ থেকে উদ্ধার করা তো দূরের কথা এই নাটকের সামনে দিয়েও কেউ হেটে যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে জনগণকে এই নাটক দেখতে হবে, আর আল্লাহর কাছে পানহার চাইবে। যেমনটা পিয়াজের বেলাও হয়েছে। অতি চালাকের গলায় দড়ি পরেছে ব্যবসায়ীকদের। এখন যদি ইন্ডিয়ান পিয়াজ আসে তবে পিয়াজ চাষের কৃষকদের কি হাল হবে সেটা ইন্ডিয়ার পিয়াজ আসলেই বুজতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


