হে যুবক ! হে উদ্ধত যুবক !
আমি তোমাকেই বলছি। আর কত নীচে নামবে ?
আর কত ঘৃণার অতলে ঠাঁই নেবে তুমি ?
ছিলে তো একদিন মাতৃ জঠরে- জড়োসড়ো এক রক্তপিন্ড হয়ে।
ভূমিষ্ট হবার পর কেঁদেছিলে চীৎকার করে,
বুঝেছিলে এই পৃথিবী তোমার জন্যে নয়।
অথচ তোমাকে আশ্রয় দিতে মোটেও কুন্ঠিত ছিলনা এই ধরণী।
অসীম ভালবাসা বুকে নিয়ে- একদিন এক মা
তোমায় জন্ম দিয়েছিল এই পবিত্র মাটিতে।
জন্মভূমি কিংবা জন্মদাত্রী কেউ পারেনি তোমার আগমন রোধ করতে,
কোন মা'ই তা পারে না।
অথচ আজ যৌবনে পা দিয়ে তুমি ভুলে গেছ
গর্ভধারিণী সেই মায়ের কথা।
ভুলে গেছ প্রসব বেদনার সেই দুঃসহ রাত্রির কথা
যে রাতে এক মা জন্ম দিয়েছিল এক মানব শিশু, আমারি মতো।
জন্মেছিলে তুমি অমানিশার ঘোর কাল রাত্রি গভীরে,
ঘটেছিল রাহুর প্রবেশ তোমার জন্মলগ্নে-
ভোর হতে তখনও অনেক বাকি।
চোখ মেলে পাওনি তুমি আলোর দেখা,
দেখেছো চারিধার ঘোর অন্ধকার ।
অথচ তোমার পরের লগ্নেই আমার জন্ম-
সূর্যের সোনালী আলোর প্রত্যুষে।
আমি দু'চোখ মেলে দেখেছি অপূর্ব সুন্দর এক ভোর,
দু'হাতে ছুঁয়েছি ভোরের স্নিগ্ধ আলো।
তুমি রয়ে গেলে সেই অচেনা অন্ধকারে,
মিশে গেলে কালো রাত্রির আঁধারে।
একবার শুধু চেয়ে দেখ, তোমার আমার অবস্থান-
একই মায়ের আশ্রয়ে রয়েছি দীর্ঘকাল,
মাঝখানে যেটুকু ব্যবধান, শুধু আলো আর অন্ধকার।
তুমিও মানুষ আমিও মানুষ, পরিচয় একটাই-
শুধু তফাৎ, মানুষের অবয়বে তুমি রয়ে গেলে অমানুষ।
বলতে পারো, কে দিল তোমায় সেই অধিকার?
কারো মাথায় নির্মম আঘাত হানবার;
কোন নারীর দিকে পাপের হাত বারাবার;
টেনে হিঁচড়ে কোন মেয়েকে বিবস্ত্র করার;
কারও বুকে নির্দয়ভাবে লাথি মারবার;
একবার ভাবো তুমি কোন মায়ের সন্তান?
যে সন্তান মা'কে কলুষিত করে বার বার!
খবরদার! কোন অধিকার নেই তোমার, কাউকে মা বলে ডাকবার।
হে যুবক ! হে উদ্ধত যুবক !
আমিও পারতাম তোমার মতো নির্লজ্জ আর বর্বর হতে-
যদি আমারও জন্ম হতো তোমারি মতো
নিষিদ্ধ পল্লীর কোন স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার ঘরে,
কোন এক ফুর্তিবাজ লম্পট ব্যভিচারীর ঔরসে।
যদি তোমারি মতো আমাকেও কোন এক কুমারি মা
ঘৃণায় ছুঁড়ে ফেলে দিত আস্তাকুঁড়ে কিংবা রাস্তার ঐ ডাস্টবিনে।
তখন আমাকেও ধিক্কার দিত সকলে।
মানুষ আর অমানুষের ভেদাভেদ ঘুচে যেত চিরতরে।
হায় ঈশ্বর ! একই মায়ের ধন কিভাবে বদলে যায় স্থান-কাল-পাত্র বিচারে।
কিভাবে ভুলে যায় তার অস্তিত্বের অমোঘ টান।
হে যুবক ! হে উদ্ধত যুবক !
আমি হতে পারিনি হতে তোমার মতো, পারবো না কোনদিন।
কেননা, ভোরের আলোয় কখনও ছত্রাক জন্মায় না,
জন্মায় স্যাঁতস্যাঁতে রাতের আঁধারে, যেমন জন্মেছিলে তুমি ।
আজ তুমি ছত্রাক হয়ে ছেয়ে গ্যাছো সমাজের গায়ে,
কার সাধ্যি বলো তোমার কায়া থেকে ছায়াকে সরায়!
অথচ পারিনা তোমায় ঘৃণা করতে,
পারিনা কারণ- পাপ কে ঘৃণা করি, পাপীকে না।
রচনা: ০৩.০৬.২০০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


