যাব মতিঝিল _ হঠাৎ আটকে গেলাম শাহবাগ মোড়ে।
দেখি ভীষণ হট্টগোল আতঙ্কে ছুটছে মানুষ দিগ্বিদিক,
আমিও ভাবছি _কোথায় পালাই ? নিরাপদ কোনদিক ?
চলছে পুলিশ-ছাত্র-জনতা মারপিট ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,
এসব দেখে আর ইচ্ছে হলোনা মতিঝিল ফিরে যাওয়া।
রিঙ্া ছেড়ে ঢুকলাম পিজি'র গেটে আশঙ্কায়-উৎকন্ঠায়,
দেখলাম একটা শহরের চেহারা কিভাবে পাল্টে যায়।
চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী সেই শাহবাগ মোড় _
এ ক্যামন চেহারা আজ হতে না হতেই ভোর ?
ভার্সিটির এক ছাত্রী রাস্তা পাড় হবে এই আশায়,
ডানে বামে তাকিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ায়;
ঠিক তখনই দ্রুতগামী এক অবাধ্য মিনিবাস,
সবকিছু অমান্য করে ঘটালো চরম সর্বনাশ।
চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ দিল সেই হতভাগী ছাত্রী,
ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো বাস ভরা সব যাত্রী।
চোখের পলকে ঘটে গেলো সবকিছু,
বিুব্ধ জনতা ছুটে গেল বাসটার পিছু।
আগুনে তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে ঘাতক মিনিবাস,
উত্তপ্ত শাহবাগ মোড় ছড়িয়ে দিলো অজানা এক ত্রাস।
আমি আটকা পড়ে আছি পিজি'র গেটে,
ভাবছি না জানি কপালে আজ কি জোটে ?
বিুব্ধ ছাত্র_জনতা প্রতিবাদে মুখর _একযোগে ছুঁড়ছে ইট পাটকেল,
পুলিশও তৎপর _ চলছে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাসের সেল।
শুরু হলো দুমদাম ভাঙ্গচূড় যে যা পায়,
সবাই বেপড়োয়া কে কাকে থামায় ?
চির পরিচিত শাহবাগ মোড় আজ,
দেখি একেবারেই ভিন্নরকম সাজ।
ছুটছে জনতা এলোপাতারি যার যেদিক খুশী,
চলছে লাঠির মহরা ইচ্ছে মতো কিল চড় ঘুষি।
দেখলাম বুটের লাথি খেয়ে ছিটকে পড়ে গেল প্রতিবাদী মেয়েটা,
হিংস্র হায়েনার মত কারা যেন টেনে নিয়ে গেল তার অসাড় দেহটা।
ভাবছি নিষ্ঠুর আঘাতে যারা রক্তাক্ত করে দেহ বর্বর ক্রোধে,
জানিনা রক্তের বিনিময়ে তারা অতীতের কোন ঋণ শোধে।
01.06.2005
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


