আমরা মানুষ, তার চেয়ে বড় কিছু নই।
কথায় আছে পাপকে ঘৃণা করো পাপীকে নয়। পাপ পূণ্য বিচার করার ভার মানুষের হাতে নেই বলেই জানি। তবে ভাল মন্দ বোঝার ক্ষমতা সব মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু আছে। আর যে মানুষ ভাল মন্দের ফারাকই বোঝে না তাকে পাপপূণ্য শিখিয়ে বা বুঝিয়ে কী লাভ?
একটা শিয়ালকে যুগ যুগ ধরে ভদ্রতা আর নৈতিকতা শিখিয়ে কোন নিরীহ মুরগীকে সামনে দিলে সে কী না কামড় না দিয়ে বসে থাকবে? শিয়ালের ধর্ম কী তাই বলে? সাপুরের কাছে সাপ-নেউল দুটোই থাকে। দুটোই তার পোষা জন্তু আর থাকে বেশ নিয়ন্ত্রের মধ্যে। বহু বছর এভাবে থাকলেও সাপ-নেউল যখনি দুজন দুজনের মুখোমুখি হবে তারা কী ভদ্রতা বা শিষ্টাচার দেখিয়ে চুপ করে থাকবে? ওদের দুজনের ধর্মই হচ্ছে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করা। একে অপরকে ঘায়েল করা। এখানে সাপুরের কোন ধর্ম বাণী বা উপদেশ মোটেও টিকবে না।
আমাদের প্রত্যেকের ধর্মই হচ্ছে পূর্বপুরুষের বেঁধে দেয়া বা শিখানো ধর্ম। মানুষের নিজের গড়া বা নিজের রপ্ত করা ধর্ম। আর সেটাই আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বা বংশানুক্রমে পালন করে আসছি। তবে মানুষ হিসেবে আমাদের সবার মধ্যেই কিছু না কিছু ভিন্নতা আছেই। আর যদি তা হতো পৃথিবীর সকল জীবিত ও মৃত মানুষের ডিএনএ এক ও অভিন্ন হতো। কিন্তু আল্লাহ্ কোন মানুষকেই সেভাবে সৃষ্টি করেননি। এমন কী জমজ সন্তানকেও নয়। অন্য কোন জীবজন্তুকেও নয়।
আর এই জটিল ও রহস্যঘেরা এক কারনেই আমরা প্রত্যেকটি মানুষ একে অপরের চেয়ে আলাদা। আর এই তফাত যদি নাই হবে, তবে কে রাগ ইমন? কে ত্রিভুজ, আর কে কালপুরুষ? সবাই একরকম মানুষ হয়ে যেতাম। তাই না? অথচ আমরা তিনজনই মুসলমান। আমাদের ধর্ম এক। আমাদের ঈমান এক থাকার কথা। এখন বলুন আমাদের তিনজনের আচার আচরণ কী এক? অভিন্ন? কক্ষনোই না। এটা হতেই পারে না। কারণ ইসলাম কেন, কোন ধর্মই সকল মানুষকে এক রকম করে দেয় না। করে দিতে পারে না। মৌলিক কোন না কোন পার্থক্য থাকবেই। থাকতেই হবে। বরং এই যে ধর্ম, এই ধর্ম দিয়ে বা ধর্মের অনুশাসন দিয়ে আমরা পরস্পরের মধ্যে একট ইকুইলিব্রিয়াম অবস্থানের সৃষ্টি করার চেষ্টা করি। যাতে মানুষ নিজেদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে। শান্তিতে থাকতে পারে। আর এতেই মানুষের সকল কল্যাণ নিহিত। যুদ্ধ, কলহ, বিবাদ কখনই কারো মাঝে শান্তি আনতে পারে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


