somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কেফায়েত তামজীদ
নির্দিষ্ট কিছু নিয়ে লিখি না। ভূত-প্রেত থেকে শুরু করে বিষন্নতার কাব্য- সবই চলে আমার জগতে। আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ।

তোমার গুপ্ত পৃথিবীতে

২২ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরে নাও, তোমার একটা লুকানো পৃথিবী আছে। ও, শর্ত হল- তোমাকে ইন্ট্রোভার্ট হতে হবে। এক্সট্রোভার্টদের আবার লুকানো ব্যাপার-স্যাপার বলে কিছু থাকতে নেই।

তো যাই হোক, তোমার লুকানো পৃথিবীটায় কি থাকতে পারে? এর আগে জেনে নিই, এর স্বরূপটা কেমন হতে পারে। এটা হতে পারে স্রেফ একটা স্বপ্নের জগত, তোমার কল্পনার জাল বুনে তৈরি করা। মাঝেমধ্যে ঘুমের ঘোরে ‘র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট’(RAM) স্টেজে আচমকা ধরা দেয়। এই ধরনের জগত অনেকটা আবছায়ার মত, গোধূলির ম্লান আলোতে দূরের আমগাছের নিচে জমে থাকা অন্ধকারের মত। চাইলেই যখন-তখন প্রবেশাধিকার নেই এই জগতে।

আবার আরেক ধরনের জগত আছে, যেটার অস্তিত্ব একটু বিতর্কিত। Many World Interpretation Theory অনুসারে একই সাথে অনেকগুলো জগত সমান্তরাল্ভাবে একই সময়ে অবস্থান করছে। মূলত টাইম ট্রাভেলের গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্সের ব্যাখ্যা দিতেই এর উৎপত্তি। এর মানে হলো, টাইম ট্রাভেল করে তুমি হয়তো তোমার আকাঙ্ক্ষিত সময়ে ফিরতে পারবে, কিন্তু আকাঙ্খিত জগতে নয়। এখান থেকেই মাল্টিভার্স ধারণার উৎপত্তি।

তোমারও হয়তো এরকম কোনও জগত থাকতে পারে, ওয়েভফাংশন কলাপ্স করলে সেখানে তুমি প্রবেশ করতে পারো। কিংবা লুসিড ড্রিমের মাধ্যমেও একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারো সেখানে। অনেকের চোখে এটা শুধুই হ্যালুসিনেশন, কিংবা আরেকটু ভদ্রভাবে বললে- ইল্যুশন। এই জগতটা আগের জগতের মত একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। তবে তুমি যখন একই সাথে দুই সমান্তরাল জগতের বাসিন্দা, তখন তোমার কাজটা বেশ কঠিনই বটে। এই দুইটা জগতের কোনও ডাইমেনশন যদি একই বিন্দুতে ছেদ করে, তখন তুমি দুই জগতের বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলতে পার। সেটাই হয়তো এই জগতের বুদ্ধিমান মানুষদের চোখে স্কিজোফ্রেনিয়া বলে পরিচিত।

তবে আমার এই ধরনের কোনও ভয় নেই, কারণ আমি প্রথম জগতের বাসিন্দা। বুদ্ধিমানদের চোখে নির্বোধ স্বপ্নবিলাসী। আমার জগতটা আহামরি কোনও কিছু নয়। তুমি যদি কখনও আমার জগতে প্রবেশ কর, ভাববে- একটা মানুষের কল্পনার সীমারেখা এত কম হয় কি করে। এহ, কিছুই তো নেই এখানে- ভ্রূ কুঁচকে ভাববে। আসলে আমার জগতে রূপকথার জগত থেকে তুলে আনা নান্দনিক কোনও অনুভূতি কিংবা স্বপ্ন নেই। স্বাভাবিক এই দুনিয়ার মতই নির্জীব মনে হবে তোমার কাছে। তোমাকে ওটা দেখতে হবে আমার চোখ দিয়ে, অনুভব করতে হবে আমার মনোজগত দিয়ে। তখনই এক আশ্চর্য চিন্তালোকে প্রবেশ করবে তুমি, হারিয়ে যাবে আনন্দ, অবিশ্বাস আর পরম শান্তির মোহনায়।

সেখানে তুমি খুঁজে পাবে আমার শৈশবের আমগাছটা, খুঁজে পাবে শেষ বিকেলে পুকুরপারের ঘাসে জমে থাকা একগাদা বিষণ্নতা। জীবনানন্দের হিজলের বনটাও আছে এর মধ্যে। আছে ‘হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হেঁটে’ বেড়ানোর উদগ্র বাসনা। আছে রবীন্দ্রনাথের ‘আজি হতে শতবর্ষ পরের কোনও এক কবির কবিতা’ পড়ার নিমন্ত্রণ। আর আছে আমাদের সামনের উঠোনটা, যেখানে শিশিরমাখা ঘাস তার সমস্ত সবুজ নিয়ে পদদলনে মথিত করার জন্য আহবান করবে তোমাকে।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত হল আমাদের পিছনের উঠোনটা, তবে শুধুই গোধূলিবেলার সময়টায়। জানো, আমি ঘুমের ঘোরে কতবার স্বপ্নে দেখেছি ওটা। সে-ও এসেছিল উঠোনটাতে একবার। এরকমই ছোট ছোট স্বপ্ন আর অনুভূতি নিয়ে আমার জগত, আমার স্মৃতিগুলো স্তূপ হয়ে আছে যেখানে। অনেক কিছুই বলে ফেলেছি। শুভ বিদায়। আর হ্যাঁ, তোমার স্বপ্নকল্পনার গহীনে যদি এমন কোনও জগত থাকে, সেটাকে নিছক ‘বিভ্রম’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে একটু উঁকি দিয়ে আসতে ভুল করো না যেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×