somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরবেশ _ কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১২

১৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১১
অতঃপর নগরের বিচারপতি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি আমাদের অপরাধ ও শাস্তির বিষয়ে কিছু বল
জবাবে সে বলল :

তোমাদের সদাত্মা যখন চকিত বাতাসে বেপথুমান হ’য়ে পড়ে
একাকী অরক্ষিত তোমরা তখন অন্যের উপর অনাচার করে বস, আদপে সেই অনাচার তোমাদের নিজেদেরই উপর এসে পড়ে
এবং সংঘটিত সেই অনাচারের প্রায়শ্চিত্তে সাধকপুরুষদের দুয়ারে করাঘাত করেও তোমরা সাড়া পাও না সেই দ্বারে।
তোমাদের ঈশ্বরসত্তা সমুদ্রের মত গভীর গম্ভীর
অনাবিল পবিত্র তা সতত সুনিবিড়
বিনা পক্ষপুটে মেঘবাতাসে উড্ডীয়মান
প্রোজ্জ্বল সূর্য্যের মতই তোমাদের ঈশ্বরসত্তা দীপ্যমান
তা সে গন্ধমুষিকের পথ জানে না বা বিবর সর্পের অন্বেষণে ঢুঁড়ে বেড়ায় না।
কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরসত্তার বাস শুধু তোমাদের মনুষ্যসত্তার অন্তঃপুরেই না
তোমাদের অনেকখানিই এখনও মানুষ, আবার অনেকখানি এখনও মানুষ না
সেই মানুষ যেন অবয়বহীন বামন নিদ্রালসতায় হেঁটে বেড়ায় কুয়াশায়, অন্বেষণ করে সুপ্তি থেকে জাগৃতির দিশা
এখন বলি তবে তোমাদের অন্তঃপুরের সেই মানুষটার দশা
তোমাদের ঈশ্বরসত্তা নয় বা নয় সে কুয়াশায়িত বামন সেই সে মানুষ যে জানে অপরাধ কী এবং অপরাধের শাস্তিই বা কী, কীই বা তার মিমাংসা।

আমি তোমাদের অনেক বলতে শুনেছি, যে অন্যায় করে সে তোমাদের কেউ নয়, সে যেন অন্য কেউ তোমাদের জগতে অনাহূত অভ্যাগত
আমি বলি, কোন ধর্ম্মাত্মা বা সাধুপুরুষরাও ঊর্ধ্বতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না, তারা সবাই-ই তোমাদের সবার অংশতঃ
যেমন কোন দুর্ব্বল দুষ্টও তোমাদের নীচতার নীচে অধঃপতিত হ’তে পারে না
এবং সমগ্র বৃক্ষের অজ্ঞাতে একটি পত্রপল্লবও হলুদ বিবর্ণ হ’য়ে যেতে পারে না
তেমনই কোন অন্যাযকারী তোমাদের সবার গুপ্ত বাসনা ভিন্ন কোন অন্যায়সাধন করতে পারে না
কেন না তোমরা একই শোভাযাত্রায় শামিল হ’য়ে হেঁটে চল তোমাদের ঈশ্বরসত্তার অভিমুখে।
তোমরাই পথ তোমরাই পথিক সেই অভিমুখে।
যখন তোমাদের কেউ ভূপতিত হয় সে ভূপতিত হয় তোমরা কেউ পিছিয়ে পড়লে
সেই তো দুস্তর বন্ধুর পথের ঢ্যালা, সতর্ক হও তোমরা কেউ পিছিয়ে পড়লে
আর সে ভূপতিত হয় এগিয়ে যাওয়া তাদের কারণেও, তারা ক্ষিপ্র ও নিশ্চিতপদগামী
অথচ পথের ঢ্যালাটিকে সড়িয়ে দিতে হয় না সে উদ্যোগী উদ্যমী।

এসব কথায় যদি দুনিয়ার ভারে ব্যথাহত হয় তোমাদের হৃদয়, হায়:
নিহত এড়িয়ে যেতে পারে কি তার নিধনের দায়
লুন্ঠনের দায় থেকে লুন্ঠিতও মুক্ত নয়
সদাচারীও দুষ্কৃতির অপরাধের দায়ে কলুষমুক্ত নয়
এবং দুর্বৃত্তের দুর্বৃত্তি থেকে কোন অপাপবিদ্ধও নিষ্পাপ নিষ্কলুষ নয়।
হ্যাঁ, অন্যায় করে যে অধিকন্তু সে অন্যায়ের শিকার হ’য়ে থাকে
এবং এহ বাহ্য অভিযুক্ত যে নিরপরাধ আর নির্দোষীদের বোঝা বইতে হয় তাকে
ন্যায় অন্যায় আর ভালো মন্দের বিচার তোমরা করবে কোন ফারাকে;
সূর্য্যের সামনে উভয়েই গলাগলি করে দাঁড়িয়ে থাকে, কৃষ্ণ ও শুভ্র তন্তুর বয়নবুনট যেন
কৃষ্ণ সূত্র ছিন্ন হ’লে তন্তুবায় যাচাই করে না শুধু তার বস্ত্রবয়ন, যাচাই করে তার তাঁতযন্ত্রকেও হেন।
তোমাদের কেউ যদি কোন বিশ্বাসঘাতিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়
তবে সে যেন তার পতিপবিত্রর হৃদয়কেও তুলাদণ্ডে চড়ায় আর তাকে আত্মার মাপকাঠিতে মাপ করায়
তোমাদের কেউ যদি অপরাধকারীকে কষাঘাত করে তবে সে যেন অপরাধকৃতের হৃদয়াত্মাকেও যাচাই করে
এবং তোমাদের কেউ যদি ধর্ম্ম ও সদাচারের নামে দণ্ডবিধান করে ও বিষবৃক্ষে কুঠরাঘাত করে, তবে সে যেন সবকিছু তার সমূলে নিরীক্ষণ করে
এবং তবেই সে সদ্ ও অসদের মূল খুঁজে পাবে এবং সে দেখতে পাবে ফল ও নিষ্ফল সবকিছুই ধরিত্রীমাতার পরম হৃদয়ে জড়িয়ে আছে জড়াজড়ি করে।
আর তোমরা যারা ন্যায়পরায়ণ তারাই শুধু বিচার বিধান করবে
যেজন কথায় সৎ সদাচারী অথচ কর্ম্মে দুরাচারী তস্কর তোমরা তার কী দণ্ড বিধান করবে?
তেমরা কী দন্ড দেবে তাকে যেজন শরীরকে নিধন করছে অথচ আত্মায় নিহত হচ্ছে প্রতি নয়ত?
এবং কী নালিশ দায়ের করবে তার আচরণে যেজন প্রবঞ্চক উৎপীড়ক সত্য সতত
অথচ নিজেই সে লাঞ্ছিত উৎপীড়িত গর্হিত সতত?

এবং কী দণ্ড দেবে তাদের যাদের অনুশোচনা তাদের কৃতকর্ম্মের চেয়েও গুরুতর?
অনুশোচনা কি সুবিচার নয়, নয় কি তোমাদের আইনের বিহিত বিধানের চেয়েও মহোত্তর?
তথাপি তোমরা নিরপরাধীর অনুশোচনা জ্ঞাপন করতে পারো না, অপরাধীর হৃদয় হ’তে তা মন্থন করতেও পারো না
অনাহূত সেই অনুশোচনা নিশিযামিনীতে মানুষকে জাগিয়ে দিয়ে যায়, মানুষ জেগে উঠে কি আপন মুকুরে নিজেদের ছায়া চেয়ে দেখে না?
এবং তোমরা যারা বিচারবোধে প্রাজ্ঞ তারা কী করেই বা ন্যায় বিচার করবে যদি না দিগি¦দিগ আলোয় সবকিছুকেই সযত্নে যাচাই কর?
একমাত্র তখনই তোমরা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে যখন দেখবে সটান মেরুদণ্ড ও ন্যুব্জ দেহকাণ্ড সে একই ব্যক্তি যে রাত্রিকালের বামনসত্তা ও দিবসকালের ঈশ্বরসত্তার গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকে এমনই দস্তুর এক নর।
এবং তোমরা বিদিত থেকো যে দেবালয়ের পরম ভিত্তিস্তম্ভর তার অবম ভিত্তিভূমিকে উঁচিয়ে যেতে পারে না কখনও এমনতর।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×