somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় হয়েও ছোটই রইল দেশ দুটি!!

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারত ও চীন এই অঞ্চলের দুই ‘বড় ভাই’। আয়তনে, জনসংখ্যায় তো বটেই, এমনকি শক্তি-সামর্থ্যে, প্রভাব বিস্তারেও তারা দাপুটে। নিজস্ব বলয় তৈরিতে তারা তৎপর।


এই তৎপরতায় দেশ দুটি এত ব্যস্ত এবং এত সতর্ক যে, অনেক ঘটনা তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অনেক কিছু দেখেও চোখ বন্ধ রাখে। আর শুনতে যেন না হয়, এ জন্য কানে দিয়ে রাখে তুলো প্রতিদিন শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশু ভিটেমাটি ছেড়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে, ডুবে মারা যাচ্ছে। শিশুদের নিথর দেহ বয়ে নিয়ে আসছেন স্বজনেরা। জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাড়ি, পলায়নপর নারী-শিশুদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্বিচারে গুলি। তবু নির্বিকার মাও সে তুংয়ের চীন ও মহাত্মা গান্ধীর ভারত।

বাংলাদেশ যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, দানাপানি দিচ্ছে, ভারত সেখানে সে দেশে আশ্রয় নেওয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর ফন্দি করে যাচ্ছে।ভারতের দিল্লি, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। ভারত সরকার মনে করে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই রোহিঙ্গাদের দলে ভেড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের কোনো অনুরোধ-আবেদনও তারা গায়ে মাখছে না।
রথম দিনের হামলায় ৮০ জনের ওপরে সাধারণ রোহিঙ্গা নিহত হলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ সদস্যের মৃত্যুতে।

মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। কী সেনা আমল, কী গণতান্ত্রিক আমল, সব সময়ই এ সম্পর্ক অটুট ছিল। বলা যায়, মিয়ানমারের পরীক্ষিত বন্ধু চীন। উত্তর কোরিয়া হাজার অন্যায় করেও যেমন সমর্থন পায় চীনের, মিয়ানমারও তেমনি সব কাজে চীনের ভালোবাসা পেয়ে থাকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একাধিকবার রাখাইন প্রদেশের অবস্থা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েও শুরু করতে পারেনি শুধু চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতায়। চীন মনে করে, মিয়ানমার যা করেছে ঠিক করেছে। চীনের কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার একাধিক কারণও রয়েছে। রাখাইন রাজ্যের কিয়াকফু এলাকায় বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চায় চীন। অবস্থান জোরদার করতে চায় ভারত মহাসাগরে। শুধু তা-ই নয়, গত এপ্রিলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফরে দুই দেশের মধ্যে অশোধিত তেলের পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও দুই দেশের আলাপ-সালাপ হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর এত অত্যাচার, নির্যাতন চলল, তবু চুপ চীন ও ভারত। তাদের এই নীরবতা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।আমাদের মনে হয়, চীন ও ভারত শক্ত অবস্থান নিলে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মানসিকতা বদল করতে বাধ্য হতো। কিন্তু বড় হয়েও ছোটই রইল দেশ দুটি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৩৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব ভাষা দিবসের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৫



একুশ মানে মাথা নত না করা।
একুশ মানে ভাষার প্রশ্নে আপোষ না করা।

অমর একুশে আমাদের শেখায়—
আমাদের মাতৃভাষা কারও দয়ার দান নয়।
ভাষা আমাদের অর্জিত অধিকার।

যারা ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন, তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মাতৃভাষা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৯


রক্তে কেনা মাতৃভাষা
বিশ্বব্যাপী সম্মান।
দৃপ্ত শপথে অটুট রাখবো
বাংলা ভাষার মান। 

মায়ের ভাষা সবার কাছেই
সবচাইতে প্রিয়।
প্রত্যেক ভাষাভাষীকে তার
প্রাপ্য সম্মানটুকু দিও।

ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ বিভেদ
রুখতে ফেব্রুয়ারিতে।
ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা, স্বাধীনতার বীজ বপন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৪


বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা
ইতিহাসের পাতায় লেখা এক দিন
উনিশশো আটচল্লিশের মার্চের সকালে
জেগে উঠেছিল সময়ের রঙিন প্রাণ।

৪৮ এর এগারোই মার্চ, সভার ভেতর
করাচির গণপরিষদের প্রাঙ্গণ জুড়ে
একটি প্রস্তাব ধ্বনিত হলো দৃঢ় কণ্ঠে
নতুন রাষ্ট্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২


জামায়াতে ইসলামীকে আমি এখন নতুন চোখে দেখি। মানুষ ভুল করতেই পারে, ইতিহাসে ছোটখাটো কিছু ভুল তো সবারই থাকে। যেমন ধরুন, একটা দেশের জন্মের বিরোধিতা করা, সেটাকে ভেঙে দিতে চাওয়া, বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



এরকম একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। ...বাকিটুকু পড়ুন

×