এরদোগান সরাসরি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তার মতো এতোটা জোরালো অভিযোগ অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান করেননি। গত মঙ্গলবার এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সুচিকে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সুচির কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

ত্রাণ সাহায্যের প্রথম চালানে প্রায় ১ হাজার টন খাদ্য ও বস্ত্র সামগ্রী রাখাইন রাজ্যের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।এদিতে আরও ১০ হাজার টন ত্রাণ সমাগ্রী খুব শীঘ্রই পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তুরস্ক সরকার।তুর্কির দেয়া এসব সাহায্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে রাখাইন রাজ্যে বণ্টন করা হবে। গত বুধবারের এরদোগান মিয়ানমারের সরকার প্রধান অংসান সুচির সাথে টেলিফোনে আলাপের পর তুরস্ককে সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দেয় মিয়ানমার।
মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সচক্ষে দেখতে তুর্কি ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগান আজ ভোরে ঢাকায় এসেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। আজই তাদের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন পি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. তাজ হাশমি মনে করেন, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।তুরস্ক এক সময় মুসলিম বিশ্বে নামকরা একটি দেশ ছিল। ইরান ছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা তুরস্কের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাশমি বলেন, অনেকে এরদোগানকে বলছেন 'নিউ সুলতান'। উনি তুরস্কের সেই পুরনো রোলে (ভূমিকায়) ফিরে যেতে চাচ্ছেন। তুরস্কের পুরনো শৌর্য পুনরুত্থান করতে হবে।তিনি মনে করেন, ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোগান মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রতিনিধি হতে চাইছেন। তিনি চাইছেন, মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পরিবর্তে তুরস্ককে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসতে।

তাজ হাশমি মনে করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সোচ্চার হয়ে এরদোগান দেশের মধ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।তিনি বলেন, 'মুসলিম বিশ্বে এরদোগানের একটা ইমেজ সৃষ্টি হবে যে, উনি ইসলামের একজন ত্রাণকর্তা, উনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সাধনে প্রচেষ্টা করছেন।'
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




