বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের প্রশ্নটি শুধু একটি প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়, এটি ক্ষমতা, আস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ নিয়ে বড় একটি বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে গণভোটের ঝুঁকিগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল। নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আছে। এমন অবস্থায় গণভোট আয়োজন মানেই যে তা জনগণের প্রকৃত মতামত তুলে ধরবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের পক্ষে জনমত তৈরি বা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ বেশি পাবার সম্ভাবনা বাড়ে।
এ ছাড়া আমাদের সমাজে রাজনৈতিক শিক্ষা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা এখনও সীমিত। জটিল রাষ্ট্রীয় ইস্যু নিয়ে গভীর বোঝাপড়া তৈরি না করেই মানুষকে হ্যাঁ বা না বেছে নিতে বলা হয়। ফলে ভোট অনেক সময় যুক্তির ওপর নয়, দলীয় আনুগত্য, আবেগ, ভয় বা ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে গণভোট সচেতন সিদ্ধান্তের চেয়ে গণমুখী ম্যানিপুলেশনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সংসদ, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করার কথা বেশি জরুরি, সেখানে গণভোট অনেক সময় সেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যায়। বড় সিদ্ধান্ত যদি সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে নেওয়া হয়, তাহলে সংসদের ভূমিকা দুর্বল হয় এবং প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সামাজিক দিক থেকেও এর প্রভাব কম নয়। গণভোট প্রায়ই সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে। রাজনৈতিক মতভেদ তখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক বন্ধনেও চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের মতো মেরুকরণপ্রবণ সমাজে এটি দীর্ঘমেয়াদি বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।
এই প্রেক্ষাপটেই আমার অবস্থান স্পষ্ট। আমি মনে করি, বর্তমান বাংলাদেশে গণভোট সমস্যার সমাধান নয়। আমাদের বেশি দরকার শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং মানুষের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা। তাই এই বাস্তবতায় আমি গণভোটের পক্ষে নই তাই আমি না ভোট দেওয়াকেই বেশি যুক্তিসংগত মনে করি।
না কে জয়যুক্ত করুন

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



