
ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে বর্বর অসুস্থ একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। যেখানে স্কার্ফ ঠিকঠাক না পরার জন্য মাসা আমিনি নাম্নী বাইশ বছর বয়সের এক টগবগে তরুনীকে মোরাল পুলিশিংয়ের নামে পিটিয়ে, নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এবং পরবর্তীতে এর প্রতিবাদে আন্দোলন ফুঁসে উঠলে, সেখানেও নির্বিচারে হাজারো নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা হয়। ফাঁসি দেয়া হয় অগুনিত নির্দোষ তরুণ তরুণীকে। সবকিছুর রেকর্ড আছে, তথ্য আছে। এগুলো হাওয়ায় বলা কথা নয়। সেসব তরুণতরুণীরা ভিডিওচিত্র ধারণ করে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বকে জানিয়েছে, কিভাবে তাদের অত্যাচার নির্যাতন করছে ইরানের শাসন প্রশাসন। পরবর্তীতে অনেকের ফাঁসি হয়। অনেকে হতাশা নিয়ে আত্মহত্যা করে। ইরানি সরকার অফিসিয়ালি জানিয়েছে যে, পাঁচ হাজার মানুষ মারা যায় সে আন্দোলনে। কিন্তু বিভিন্ন নিরপেক্ষ সামাজিক, মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, সংখ্যাটা কোনওরকমেই পনেরো হাজারের নিচে নয়। এভাবেই গত পঞ্চাশ বছর ধরে ইরানের জনসাধারণ বিরতিহীনভাবে কট্টরপন্থী মোল্লাদের দ্বারা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়ে আসছে। লাখো নিরপরাধ মানুষ জীবন দিয়েছে। মোল্লাতন্ত্র ইরানের সমাজব্যবস্থাকে চূড়ান্তরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার বলে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। আইনের শাসন শূন্য। ভিন্নমতের প্রচার প্রসারণ সুদূর পরাহত। এই কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেয়ে শুরুতেই ইসলাম বিরোধী আক্ষ্যা দিয়ে ইরানের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীদের জবাই করে হত্যা করে। পরবর্তীতে পুরো কমিউনিস্ট আন্দোলনকেই সেখানে সমাপ্ত করা হয়। সে বর্বরতা, নৃশংসতার ধারাবাহিকতা চলমান। শুরুতেই যেমন বলেছি, ইরান বিশ্বসভ্যতার বুকে আজ এক অভিশাপ, এক কলঙ্কের নাম; আতঙ্কের নাম। একেবারেই বর্বর জঙ্গি রাষ্ট্র। এরা কিছুতেই এভাবে টিকে থাকতে পারে না পৃথিবীতে। এদের আমাদের ধ্বংস করতেই হবে। নাহলে এরাই আমাদের ধ্বংস করে দিবে। তাই ইরানবিরোধী চলমান যুদ্ধে আমি সর্বাত্মকভাবে আমেরিকা ইসরায়েলের সাথে আছি। এ যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। সেখানকার বর্বর জঙ্গি কাঠমোল্লা শাসনের বিরুদ্ধে। জানি, এর জন্য প্রচুর রক্তপাত, প্রচুর ত্যাগ ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতে হবে সাধারণ ইরানিদের। যা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




