somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোহিঙ্গা সংকট গলার কাঁটা হয়েই থাকবে বাংলাদেশের জন্য।

২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি ঠিক জানিনা আসলে এ সমস্যার সমাধান ঠিক কিভাবে হবে? এটার জন্য বেশ কতোগুলি আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট যেমন দায়ী তেমন দায়ী আমাদের বৈদেশিক নীতির চরম ব্যর্থতা। বার্মিজরা কিরকম জাতিবিদ্বেষী সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। তেমনি নতুন করে বলার কিছু নেই কেন মিয়ানমার তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দিল। এই সংকটের সময় আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র বলে পরিচিত আশেপাশের কোনও দেশই আমাদের পক্ষে কাজ করছে না আজ। কিন্তু কেন এই অবস্থা হল? এর জন্য যেটা তাৎপর্যপূর্ণভাবে দায়ী সেটা হল আওয়ামী সরকারের অতিমাত্রায় ভারত নির্ভরতা। কেবলমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার ভারতকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদের বন্ধুদেশ বলে পরিচিত চীন, জাপান, রাশিয়ার সাথে যদি শুরু থেকে ভালো সম্পর্ক রাখা যেত এবং দেশে তাদের বেশ ভালো রকমের বিনিয়োগ করতে দেয়া যেত তাহলে এই সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আজ তাদের কেউ এরকমভাবে মিয়ানমারের পাশে থাকতো না। যদিও এটাও একটা বড় ফ্যাক্ট যে মিয়ানমার সম্পদশালী দেশ, তাদের ওখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়া যাবে, কিন্তু তার সাথে তার পাশাপাশি এটাও সত্য যে বার্মিজরা চীন, জাপান, রাশিয়া ত বটেই এমনকি ভারতের মতো দেশকেও তাদের দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্ব দিয়েছে যেটা আমরা সেভাবে দিতে পারিনি। তাছাড়া কূটনৈতিকভাবেও এদের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ ভালো রকমের জোরালো রেখেছে বার্মিজরা যেটা আমরা রাখতে পারিনি। শুধুমাত্র ভারতের সাথে ছাড়া অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো ততোটা ভালো নয়। এর জন্য সরকারী নীতিই সব থেকে দায়ী। অথচ ভারতের রয়েছে অনেক স্বার্থ মিয়ানমারকে নিয়ে। একারণে এই সংকট নিরসনে তারা উল্লেখযোগ্য কোনও ভূমিকাই রাখবে না। সোনাদিয়ায় বন্দর করতে এবং বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল চীন। সেটা সরকার আর দেয়নি। দিলে সেটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারতো। কারণ চীন চেয়েছে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের পথ। যেটা সোনাদিয়ায় তারা করতে চেয়েছিল সেটা বাংলাদেশ না দিলেও আরাকানের সিত্বেতে মিয়ানমার চীনকে সেটা করতে দিয়েছে। এখন কথা হচ্ছে চীনকে এরকম “দাগা” দিবে বাংলাদেশ আর চীন সেটা মেনে নেবে এটা কেমন করে আশা করা যায়? আবার চীনের বড় বন্ধু হল মিয়ানমার। ফলাফল “সব রোহিঙ্গা ওখান থেকে ভাগাও আর ওখানে বিনিয়োগ করো” – এই নীতি চূড়ান্ত অমানবিকভাবে কার্যকর করলো জাতিবিদ্বেষী বার্মিজরা। এখন তারা ওখানে চীন, জাপান এমনকি ভারতকেও বিনিয়োগ করতে দিচ্ছে। যেটা বাংলাদেশ সেভাবে দিতে পারেনি। এদিকে আবার রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিতই অস্ত্র কিনছে বার্মিজরা। লাভ হচ্ছে রাশিয়ার। চীন ও জাপানের মতো দেশকে ওখানে বিনিয়োগ করতে দেয়ায় লাভ হচ্ছে তাদেরও। এখন ভারতও সেই লাভের গুড়ে ভাগ বসাতে উদগ্রীব। সোজা কথায় মিয়ানমারকে ঘিরে ঐসব দেশগুলোর যে অর্থনৈতিক স্বার্থ সেটা বাংলাদেশের চেয়ে বেশী। সুতরাং তারা এই সংকটের সময় বার্মিজদের পাশেই আছে। লিভারেজ বলে একটা ব্যাপার আছে কূটনীতিতে। সেটা আমাদের বাংলাদেশের চেয়ে বার্মিজরা ভালো বোঝে। কতটা ব্যর্থ আমাদের বৈদেশিক নীতি সেটা আবারো করুণভাবে ফুটে উঠলো এই রোহিঙ্গা সংকটের সময়। এই সংকট কূটনৈতিকভাবে অতিমাত্রায় ভারত নির্ভরতার অন্যতম ফলাফল। রোহিঙ্গা সংকট গলার কাঁটা হয়েই থাকবে বাংলাদেশের জন্য। গিলতেও পারবে না , উগরাতেও পারবে না বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৫১
২০টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জটিল ভাইয়ের কুটিল এজেন্ডা ফাঁস!

লিখেছেন জটিল ভাই, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩


(ছবি নেট হতে)

জটিল ভাইকে সবাই হয়তো চিনেন না। আমি কোনোকালেই তাঁর ভক্ত ছিলাম না। এমনকি কখনও আমি তাকে ব্লগার হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি করবেন এমন একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাত আদায় বনাম নামাজ পড়া বনাম সালাত কায়েম

লিখেছেন জ্যাকেল , ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৫৪




মুসলমান ও ইয়াহুদী ধর্মের মানুষগণ সেজদা সহ মোটামুটি মিল আছে উপায়ে প্রার্থনা করেন/নামাজ পড়েন। লোকমুখে আমাদের দেশে এভাবে ব্যাপারটা চলে-

নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়া বাদ দিলে মুসলমান থাকা যায় না। ফাসেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×