somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দূর্নীতিমুক্ত ?

২৮ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কালের কন্ঠ(বসুন্ধরা গ্রুপ) গত ২১শে এপ্রিল সংবাদ করেছিলো দুদকের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন "অন্তবর্তী সরকার দূর্নীতিমুক্ত"। তিনি কিভাবে জানলেন যে সরকার দুর্নীতিমুক্ত ? একজন সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থার প্রধান হয়ে কোনোরূপ তদন্ত ছাড়া দুদকের চেয়ারম্যান কি করে এমন কথা বলতে পারেন ? একসময় সরকারি চাকুরির সুবাদে তার আমলাতান্ত্রিক চাটুকারিতা তিনি মনে হয় ছাড়তে পারেন নাই। এর কিছুদিনের মধ্যে সংবাদ মাধ্যমে উপদেশ আসিফ মাহমুদের এপিএস ও উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের পিও নাকি ভয়াবহ দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। সেজন্য তাদের অব্যহতি দেয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে দুদক যখন এপিএস এবং পিও স্বপদে বহাল ছিলেন তখন তাদের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারেনি। অব্যহতি দেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

দুদকের আইনের আর্টিকেল ১৭ তে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে দুদক চাইলে স্ব- উদ্যোগে তদন্ত করতে পারে যে কারো বিরুদ্ধে। কারো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সম্ভাব্য দূর্নীতিবাজ দের বিরুদ্ধে তারা তদন্ত শুরু করেছেন সম্ভবত সরকার হতে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পর। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার এপিএস মোয়াজ্জেমের পক্ষ নিয়ে স্টাটাস দিয়েছিলো যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এখন যদি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে আসিফ মাহমুদ কি বলবেন ? এপিএস মোয়াজ্জেম নাকি বিসিএস পরীক্ষার জন্য পদত্যাগ করেছেন। শেষ পর্যন্ত দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয় কিনা তা দেখার জন্য পুরো জাতি অপেক্ষা করছে। অবশ্য কেউ যদি দুদকের চেয়ারম্যানের কথা বিশ্বাস করেন তবে তার পক্ষে তদন্তের পর অভিযোগ পাওয়া যাবে কি যাবে না তা বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়।

দুদক তদন্ত শুরু করেছে এপিএস ও পিও'র বিরুদ্ধে। কিন্তু 'নতুন দরবেশ ' গাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন তারা তদন্ত শুরু করছে না? খোদ এনসিপি তার পদ সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে দূর্নীতির বিরুদ্ধে। গাজী ভাই গভীর রাত পর্যন্ত সচিবালয়ে তদবীর বাণিজ্য করতেন। তিনি ডিসি নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন যদিও তার মতে ফ্যাসিবাদের দোসর কেউ যাতে ডিসি হতে না পারে তার জন্য তিনি পরামর্শ দিতেন দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে। কিন্তু আমাদের মহামান্য দুদকের তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে বাধা কোথায় ? নাকি সরকার থেকে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল শুরু হলে এরপর দুদকের টনক নড়বে। আসলে দুদকের চরিত্র হাসিনা কালীন সময়ে যা ছিলো এখনো তাই আছে। মুখে যতই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বলা হোক না কেন দেশ চলছে পুরাতন সিস্টেমে।

আসিফ মাহমুদের ভাগ্য খারাপ। ;)। সে নিজে থেকে কোনো দূর্নীতিতে জড়ান না কিন্তু তার কাছের মানুষজন সবাই তার ক্ষমতা ব্যবহার করে করাপশন ও অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে। তার বাবা ছেলের পাওয়ারে ঠিকাদারি লাইসেন্স করেছে যদিও তা জানাজানি হওয়ার পর বাতিল করা হয়েছে। আসিফের এপিএস নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলির তদবীরে জড়িত হয়ে পড়েন। যদিও আসিফ মাহমুদ তার কিছুই জানেন না। আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তার খুবই ঘনিষ্ঠ মানুষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফারুক কাউকে না জানিয়ে বিসিবির আড়াইশো কোটি টাকা ভিন্ন ব্যাংকে রাখছেন বেশি লাভের আশায়। যখন এসব নিয়ে কথা উঠেছে এখন নতুন নতুন ব্যাখ্যা হাজির করা হচ্ছে। অন্যের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। আসিফ মাহমুদ এসব ব্যাপারেও কিছুই জানেন না। আসলে এতই আলা-ভোলা টাইপ আমাদের আসিফ ভাই সবাই ভাইয়ের আন্ডারে তাই করাপশন করার সুযোগ পাচ্ছে। =p~


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:১২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধঃপতন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪৪



কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×