
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, অপারেশন থিয়েটার হবে শতভাগ জীবাণুমুক্ত। কিন্তু হাসপাতালের নার্সদের নিজস্ব থিওরি আছে: "জীবাণুমুক্ত জায়গায় রান্না করলে তো খাবারও জীবাণুমুক্ত হবে!" নার্সিং সুপারভাইজারদের নেতৃত্বে গ্যাসের চুলায় পিঠা ভাজা হচ্ছে, আর পাশের কক্ষেই একজন মায়ের সিজার চলছে। একদিকে অপারেশন টেবিলে ছুরি চলছে পেটে, অন্যদিকে সিঙ্কে ছুরি চলছে সবজিতে। কী এক অপূর্ব আর রোমহর্ষক সমন্বয় !
চিকিৎসকরা শুধু যে এই অনিয়ম জানতেন তাই নয়, বরং সেই রান্না করা খাবার দিয়ে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত আয়োজন’ সারতেন। কল্পনা করা যায়—ডাক্তার সাহেব নার্সকে জিজ্ঞেস করছেন, "আজ ওটিতে কী রান্না?" নার্স উত্তর দিচ্ছে, "বিরিয়ানি স্যার, তবে একটা সিজার বাকি, ওটা শেষ করেই পরিবেশন করছি।" তারা শপথ নিয়েছিলেন "প্রথমে ক্ষতি করো না" (First, do no harm), কিন্তু বাস্তবে যেন শপথটা ছিল— "আগে খেয়ে নাও, তারপর রোগীর চিন্তা !"
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা। দুই বছর ধরে ওটির ধোঁয়া আর সুগন্ধ ওনার নাকে পৌঁছায়নি! হয়তো উনি সকালে সরকারি গাড়ি দিয়ে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছাতে এতই ব্যস্ত থাকেন যে, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখার ফুরসত পান না। ওনার ভাষায়, তিনি "অবগত নন"! প্রশাসনের এই গাফিলতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ রোগীর চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাই তাদের কাছে বড়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জুনিয়র কনসালটেন্টের অনুরোধ: "সংবাদ প্রকাশ করবেন না, আমাদের কয়েকটা দিন সময় দিন।" এটা যেন চোর ধরা পড়ার পর বলছে, "টাকাটা ফেরত রাখার জন্য একটু সময় দিন !" তদন্ত কমিটির নামেও চলছে প্রহসন। হাসপাতালের লোক দিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সাজানো নাটকে সম্ভবত শেষ দিনে রিপোর্ট আসবে: "সামান্য অনিয়ম পাওয়া গেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তারপর সব আবার আগের মতো!
আইরিন, কানিজ ফাতেমা কিংবা ফাহমিদা তাসনিম: এরা শুধু নাম নয়, এরা একেকজন অসহায় মানুষের প্রতিনিধি। কানিজ ফাতেমা ঠিকই বলেছেন, "যাদের কাছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আশা ছিল, তাদের কাছেই আমরা অনিরাপদ।" ধনীরা বিদেশে যায়, আর গরিব-মধ্যবিত্তরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ‘ক্যাটারিং সেন্টারে’ চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। এটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে এক চূড়ান্ত তামাশা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের এই ঘটনা শুধু একটি জেলা হাসপাতালের চিত্র নয়, এটি আমাদের পুরো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। যেখানে মানুষের জীবনের চেয়ে পিঠা আর বিরিয়ানির গুরুত্ব বেশি, সেখানে ‘সেবা’ শব্দটি এক বিশাল পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভিডিও দেখুন : Click This Link
-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

