somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচার চাই, আবার বিচার চাই না !

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি পেয়ে বিএনপি-জোট ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে যে একটা পরিচিত দল নির্বাচিত সরকার হিসাবে পুনরায় দেশের ক্ষমতায় এসেছে। যদিও সাংবাদিক নুরুল কবির বলেছেন, মানুষ নাকে রুমাল চাপা দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে কী শুরু করেছে বিএনপি?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার তদন্ত হবে। অথচ বিচার হওয়া দরকার ছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রেজিমের, যারা গুলি করে মানুষের মাথার খুলি উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে অবিশ্বাস্যভাবে, কোনো সমন্বয়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের খুলিতে গুলি লাগেনি। আমার প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস বা বিইউপির একজনও মারা গেছে, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টি আকারে তেমন বড় নয়। বিষয়টা আমাকে এখনো ভাবায়।

শেখ হাসিনার পালিত ছাত্রলীগ এবং পুলিশ কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ছোট সরকারি বিইউপি, আর রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মাথায় গুলি লাগাতে পেরেছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রের মাথায় গুলি লাগেনি, কেউ পঙ্গু হয়নি, কেউ সারাজীবনের জন্য অন্ধ হয়নি। তারা এখন কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ বিয়ে করেছেন , আবার কেউ বিদেশে গিয়ে জীবন সেটেল করার স্বপ্ন দেখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর শেখ হাসিনার রেজিমের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ থাকার কথা ছিল, অথচ সেখানেই ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে কম; What a coincidence !

বিএনপির দুই নেতা সালাউদ্দিন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলে বেড়াচ্ছেন, জুলাই মাসে সংঘটিত পুলিশ হত্যার বিচার বিএনপি করবে। জুলাই সনদে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন নিজে বলে কয়ে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে বলছেন পুলিশ হত্যার বিচার হবে। পুলিশ হত্যায় কার বিচার করতে চান আসলে, মিস্টার সালাউদ্দিন সাহেব ?

তিনি কি বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসানের বিচার করবেন ? যিনি একজন খাঁটি জুলাই যোদ্ধা এবং নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ কনস্টেবল সন্তোষকে তারা মেরেছিল ও থানায় আগুন দিয়েছিল। বিএনপি কি এরকম দেশপ্রেমিক জুলাই যোদ্ধাকে পুলিশ হত্যার মামলায় ফাঁসাবে? বিএনপি ইন্টেরিমের সাথে ডিল করেছিল যে জুলাই অভ্যুত্থান থেকে ইন্টেরিম সবাইকে দায়মুক্তির অধ্যাদেশ সংসদে পাস করবে। কিন্তু এখন বিএনপি উল্টো পথে হাঁটছে কেন?

এদিকে নতুন করে শোনা যাচ্ছে, উপদেষ্টাদের নামে পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা হয়েছে। মিডিয়া এটা নিয়ে বেশ হইচই শুরু করেছে। কিন্তু সামান্য মাথা খাটালেই বোঝা যেত , দুর্নীতি করার মতো কিছুই ছিল না উপদেষ্টাদের কাছে। শেখ হাসিনার রেজিম সব লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে নিয়ে গেছে।

আমার ব্যক্তিগতভাবে বেশি খারাপ লেগেছে আসিফ নজরুল স্যারের জন্য। তিনি ডিসি-এসপি বদলিতে পঞ্চাশ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা উপহার নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । যারা আসিফ নজরুল স্যারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, আমি মনে করি তারা ঈর্ষা থেকে এই কাজ করছেন। শুধু আসিফ নজরুলের নাম আসবে কেন ? যেসব ডিসি-এসপি টাকা দিয়ে বদলি হয়েছেন, তারা এত টাকা কোথায় পেলেন সেটা নিয়ে কেন দুদকে কোনো অভিযোগ নেই ? আসিফ নজরুল যদি চোর হন, তাহলে কি ডিসি-এসপিরা সাধু?

যেসব উপদেষ্টা বা আমলার নামে দুদকে কেউ অভিযোগ তোলেননি, তাদের মধ্যে একটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, যিনি আমলা থেকে উপদেষ্টা হয়েছেন এবং শেষ আঠারো মাস লো প্রোফাইলে ছিলেন। ডিসি পদায়নে পাঁচ কোটি বা দশ কোটির যে খবর এসেছিল, তখন এক সূত্র বলেছিল, "স্যার গভীর জলের মাছ, উনার নাগাল পাওয়া সম্ভব না।" আলী ইমাম মজুমদার শেখ হাসিনার রেজিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তিনি কীভাবে আবার ইন্টেরিমের অংশ হলেন, এই প্রশ্নের কূলকিনারা গত আঠারো মাসেও পাইনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদুল হকের কথাও না বললেই নয়। নিপাট ভদ্রলোক, কিন্তু সমস্যা হলো তিনি বারবার ইন্টেরিম সরকারের অংশ হয়ে বিদেশ সফরে চলে যান । তার নামে দুদকে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি এবং আমার বিশ্বাস তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। তবে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারি একটি অদ্ভুত অভিযোগ করেছেন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে। তিনি গত দেড় বছর ধরে বারবার অনুরোধ করেছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে, কিন্তু বরফ গলেনি । এখন শোনা যাচ্ছে, তৌহিদ সাহেব নিজেই উপদেষ্টার পদ ছেড়ে জাতিসংঘে একটি ভালো চাকুরির জন্য তদবির করছেন। বাংলাদেশে চাকরির বড় অভাব, স্যার তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই হয়তো ভেবে রেখেছিলেন।

বিএনপির পুলিশ হত্যার বিচারের ঘোষণায় জামায়াতে ইসলামী নাখোশ। জামায়াত বিবৃতি দিয়েছে , জুলাই অভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই বিএনপি এই পথে হাঁটছে। শেখ হাসিনার রেজিমের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার ফেলে রেখে আগে পুলিশ হত্যার বিচার কেন, এই প্রশ্ন জামায়াতের। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামও বলেছেন, পুলিশ হত্যার বিচারের চেয়ে গণহত্যার বিচার বেশি জরুরি।বিএনপি নেতাদের মুখে পুলিশ হত্যার বিচারের কথা শুনে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে একটি নতুন গতিশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। শোনা গেছে, পুলিশ নাকি এত দিন ধরে সমস্ত রেকর্ড জমা করে রেখেছিল, যাতে ভবিষ্যতের কোনো সরকার সবুজ সংকেত দিলেই কাজে নামা যায়।

কয়েকদিন ধরে জামায়াত ক্রমাগত অভিযোগ করে যাচ্ছে যে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জিতেছে। এনসিপি নেতা সার্জিস আলম দাবি করেছেন, মিলিটারি-আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু জনগণ সেটা নিয়ে তেমন ভাবছে না। জনগণের মনে একটাই প্রশ্ন, জামায়াত এত সিট পেল কীভাবে ? বট বাহিনী আর পিনাকী ছাড়া কেউ বিশ্বাস করেনি যে জামায়াত এবার ক্ষমতায় আসতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এর একটি সহজ সমাধান আমার মাথায় ঘুরছিল। আজ খবরের কাগজে একটি সংবাদ দেখলাম, যা আমার ভাবনার সাথে হুবহু মিলে গেল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশে আসতে চান এবং তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে চান।

বিএনপির উচিত নয় এই মুহূর্তে পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে মাঠে নামা। বরং তারা মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে পারে, এমন কোনো কাজ শুরু করুক। আর যদি কোনো অদৃশ্য চাপে বাধ্য হয়ে বিচার করতেই হয়, তাহলে একটি চমৎকার লোকদেখানো বিচার করতে পারে। পুলিশের মধ্যে যাদের বেশি আগ্রহ, তাদের বিদেশের মিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হোক। এতে শাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৬
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে মেয়েরা নিরাপদ, শুধু একটু সতর্ক থাকলেই হয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৬


এই দেশে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তাঁরা ঘুমান না, বিশ্রাম নেন না, নিজেদের সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে সমাজের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কথা : একুশে বইমেলায় আপনাদের আন্তরিক আমন্ত্রণ।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৩



অনেক জল্পনা–কল্পনার পর অবশেষে শুরু হলো একুশে বইমেলা ২০২৬।
বইপ্রেমীদের এই মহোৎসবে এবার আমার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত—
এই প্রথম আমার দুটি বই একসাথে মেলায় এসেছে।



বই দুটি প্রকাশিত হয়েছে প্রতিভা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

sb]জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !



জাতীয় নির্বাচনের পর আমারা এখন জাতিসংঘে সকলের দৃষ্টি আর্কষন করতে যাচ্ছি,
তবে আমরা জাতীয় নির্বাচনে সফলতা না পেলে এই সুযোগ সৃষ্টি হতোনা ।
আগামী জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রোফেসর ইউনুস সম্পর্কে আমি যা বলেছিলাম তাই সঠিক ছিল।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন চ্যানেল ওয়ানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রফেসর ইউনুস সম্পর্কে উনি যা বলেছেন আমিও ঠিক তাই বলেছিলাম তখন। হয়তো উনি এখনো রাখঢাক রেখে বলছেন, আমি সরাসরি বলেছিলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন যখন শুকায়ে যায়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৩


জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানা গেল লিম্বস কলাপসের টেস্টটার খরচ পড়বে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। তমাল কাকাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে গেল পান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×