somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম ।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বক্তৃতা বা কথায় নয়, কাজ করে দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাস্তবে প্রতিদিন পাড়ি দিতে হচ্ছে এক বন্ধুর পথ। পাছে লোকে কিছু বলের দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। পুরোনো-নতুন প্রতিপক্ষের শব্দদূষণ, খোঁচা-খিঁচুনি, উসকানি, টিপ্পনি সব সয়ে এগোচ্ছেন সামনের পানে। পেছনে তাকানো বা সব কিছুর জবাব দেওয়ার সময় নেই। এসবের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক-ব্যক্তিগত শিষ্টাচার, উদারতার নজির তৈরি করে চলছেন তিনি। রাষ্ট্রের নির্বাচিত নির্বাহী প্রধান হয়েও ব্যতিক্রমী প্রাত্যহিক জীবন ও দেশ গড়ার বার্তাই দিচ্ছেন না, বাস্তবায়নও করে চলছেন।

নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ঘোষণার আগ থেকেই ভার্চুয়ালে তিনি তার অভিপ্রায় জানাচ্ছিলেন। ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব একটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর নেমে পড়েছেন কর্মযজ্ঞে। প্রথাগত ক্ষমতাচর্চার বিপরীতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের সেবায় দেখিয়ে চলছেন নতুনত্ব, অভিনবত্বের আশার আলো। কেবল আহ্বান নয়, প্রতীকিও নয়, বাস্তবে নিজেই করছেন। যার কোনো কোনোটি তার সহযোগী-সহকর্মীদেরও ভাবিয়ে তুলছে, হতচকিত করে দিচ্ছে। সকালে দপ্তরে রওনা দেওয়া মাত্রই যখন বাড়ির দরজা খুলে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই’ কী বুঝবে সহকর্মীসহ স্টাফরা? হতচকিত হওয়া, ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কী করার থাকে তাদের! একটু পর উপস্থিতরা বুঝলেন, যুদ্ধ বলতে তিনি দেশ পরিচালনার কাজকে বুঝিয়েছেন। তিন শব্দের চমকপ্রদ লাইনে দেশ গঠনে তার প্রতিদিনের সংগ্রামের কথাই বলেছেন। এভাবেই চলছে তার দিনাতিপাত তথা ঘোষিত ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ বাস্তবায়ন।

কথা-কাজে প্রচলিত বা পুরোনো বন্দোবস্ত ক্রমশ ‘নেই’ করে ফেলার পথে ছুটছেন তারেক রহমান। অন্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানানোর বাস্তব কাজটি আগে নিজেই করে দেখাচ্ছেন। অফিস করছেন ছুটির দিনও। নটা নাগাদ চলে যাচ্ছেন অফিসে। অফিসে গিয়ে সময়ানুবর্তিতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন তিনি। তাও সীমিত প্রটোকলে। এর বাইরে রাজনীতিতে দেখিয়ে চলছেন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন নতুন দৃষ্টান্ত। পরাজিত নেতাদের অফিস-বাসায় চলে যান নিজেই। তাদের ইফতারে অংশ নেন। জানিয়েই দিয়েছেন, যারা তাকে ভোট দিয়েছেন কেবল তাদের প্রধানমন্ত্রী নন তিনি। তাকে যারা ভোট দেননি কিংবা কাউকেই ভোট দেননি, ভোটকেন্দ্রেও আসেননি, তিনি তাদেরও প্রধানমন্ত্রী।

শিষ্টাচারের বিদগ্ধতার আর কিছু বাকি রাখেননি। তাকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া কঠিন সমালোচনার জবাব মুখে যতটা না দিচ্ছেন, কাজ করে দেখাচ্ছেন আরো বেশি। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে কি এগিয়ে নেওয়ার এ বাসনা তাকে জীবন্ত কিংবদন্তি করে তুলেছে। ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিয়ে কদিন ধরে কত অরুচিকর কথাই না হয়েছে। আসামিদের ভারতে গ্রেফতার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে কী দৃষ্টান্তটা তৈরি হলো! খোঁচা দেওয়া কত কথা হয়েছিল জুলাই সনদ নিয়ে। বিরোধীদের নেতিবাচক মন্তব্য ও প্রচারণা সত্ত্বেও দলীয় নেতাকর্মীদের জুলাই সনদের পক্ষে হা-এ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ অফার করাও হয়েছে। এ উদারতার সংস্কৃতি কেবল তার বিচক্ষণতা নয়, নিজেকে আরো উচ্চতায়ও নিয়েছেন তারেক রহমান। তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে খোঁচা দিয়ে উত্তেজিত করার চেষ্টার মধ্যেই জুলাই যোদ্ধাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আইসিটি বিচার অব্যাহত রাখা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি তো আছেই।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন একটু দেরিতে করলেও অসুবিধা হবে না বলে মত দিয়েছিলেন বড় বড় অর্থনীতিবীদের কেউ কেউ। কিন্তু, না, যথাসময়েই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। শুরু হবে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও। কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি এড়িয়ে গেছেন তিনি। সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বানের আগে নিজে সাশ্রয়ী হয়ে দেখিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নিজের দপ্তরে অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এসি ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। চলতিপথে ভিভিআইপি প্রোটোকল ছেড়ে লালবাতিসহ ট্রাফিক সিগন্যাল মানছেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা নেননি।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন বেশ কিছু নিত্যনতুন ঘটনার সাক্ষী হয়ে চলছে দেশের মানুষ। তার এসব সিদ্ধান্ত এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, সরকারি পদ ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নয়, জনসেবার জন্য এবং রাষ্ট্র নাগরিকের জীবন থামানোর জন্য নয়, তাদের জীবন সহজ করার জন্য। তার শনিবারও অফিস করা যত না প্রতীকী, তার চেয়েও বেশি কাজের গতি বাড়ানোর একটি বার্তা। এর মর্মার্থ বেশ গুরুত্ববহ, মানে আর নয়, সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা। তার শনিবারও অফিস করার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে মন্ত্রী, সচিবসহ প্রজাতন্ত্রের অন্য সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বোচ্চ কাজ করতে উৎসাহিত না হয়ে পারবেন না। জনগণ এগুলোর ফলে আশা করতেই পারে, মানুষ তাদের পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের পথ দেখছে। ঘুণে ধরা শাসন সংস্কৃতি-পদ্ধতি বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্র-সরকার ও নাগরিক তথা গণমানুষের সঙ্গে যে দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নতা এতদিনকার শাসনকাঠামোয় তৈরি হয়েছে, সেটি শুধু নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই নয়, ক্ষমতার দৃশ্যমান দাম্ভিকতা, অপব্যবহার, দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণেও হয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করা, ড্রাইভারও নিজের বেতনে দেওয়া, নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করা, যানজটের কথা বিবেচনায় বহরে গাড়ি কমানো, মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আড্ডা, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেঁটে যাওয়া, রাজকীয় চেয়ারে না বসা এগুলো দৃশ্যমান। এর বাইরে রাজনৈতিক নতুন প্রথা ও বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্নভাবে যেসব কাজের দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন, সেগুলো কেবল তাকেই অনন্য উচ্চতায় নিচ্ছে না। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ফোকাস পয়েন্টে ফেলছে। দেশ পরিচালনা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যোগ করা এসব কাজ ক‚টনীতিতেও বাংলাদেশকে ভিন্নমাত্রা না দিয়ে পারে না। কেবল নির্বাচনি ওয়াদা পূরণ নয়, আনুষঙ্গিক আরো অনেক কাজের বালাম বই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণও বাদ নেই। তার রাজনৈতিক শিষ্টাচার চর্চা ও এগিয়ে চলা এবং পরিবর্তনের অঙ্গীকার এসব কাজের সাফল্য প্রশ্নে মানুষকে আশাবাদী করে তুলছে।

মোস্তফা কামাল
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন
মুল লেখা : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও উদারতার নজির
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এনসিপি কেন পারল না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৬


প্রশ্নটা শুনতে বেশ ভারী আর দার্শনিক ঠেকছে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়ার ইনটেলেকচুয়াল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গম্ভীর প্রফেসর , সবাই ইদানীং কপালে ভাঁজ ফেলে এই এক প্রশ্নই করছেন। নেপালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ইরান গাজা নয়" - অরুন্ধতী রয়, (মার্চ ৯, ২০২৬)

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৬


ছবিসূত্র

আমার কিছু বলার আছে - কারণ আমি আমার মায়ের মেয়ে, এবং বুক চিতিয়ে কাঁধ সোজা করে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার গভীর প্রয়োজন এই মুহূর্তে আমি বোধ করছি। সমগ্র পৃথিবীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি চান আপনার মৃত্যুর পরে সামুর ব্লগাররা আপনাকে স্মরণ করুক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৫৯

আমাদের একজন ব্লগার মারা গিয়েছেন। কিন্তু, কেন যেন সামু'র প্রথম পৃষ্ঠায় শোকের কোন চিহ্ন দেখছি না! তাঁর সম্মানে কি অন্তৎঃ কিছু দিনের জন্যে সামুর ব্যানারে একটু পরিবর্তন আনা যেতো না?!... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানসিক ভারসাম্য

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:২৯



আপনি ইরানের বিপক্ষে, আপনি নিরপরাধ নারী শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষ হত্যার পক্ষে! - কারণ, আপনি অসুস্থ। মানসিক ভারসাম্যহীন। মানসিক ভারসাম্যহীনের সাথে হাসি মজা আলোচনা বিতর্ক কোনোটাই চলে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আমার দশ বছর

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৮

সামুতে আমার দশ বছর পূর্ণ। হঠাৎ গতকাল রাতে লক্ষ্য করে দেখলাম, দশ বছর পেরিয়ে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।

আমি সাধারণত বছর শেষে বর্ষপূর্তি -মর্ষপূর্তি পোস্ট তেমন দেই না। এই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×