
একজন ঊনিশ বছর বয়সী তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ। ঘটনাস্থল জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট। মৃত তরুণী সেই মরিয়ম খাতুন, যাকে মাত্র দুই মাস আগেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মৃত্যু এমন এক সময় ঘটল যখন এই সম্পর্ককে ঘিরে আগের বিতর্কের রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
২০শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক দলকে ডাকে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা তখনই বলা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মৃৃত্যুর ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা বলা হয়নি।
জুলাই মাসে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমদিকে ভিডিওটি নিয়ে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার দাবিও উঠেছিল। পরে গাজী নজরুল নিজেই জানান, ভিডিওর তরুণী মরিয়ম খাতুন এবং তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের সম্মতিতেই মরিয়মকে বিয়ে করেছেন।
একটি সম্পর্ককে প্রথমে গোপন করা হলো । ভিডিও প্রকাশের পর সেটিকে অস্বীকার করার বদলে গাজী নজরুল সেটিকে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন। অর্থাৎ তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, মরিয়ম ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং এই বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই বিয়েকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কথিত বিয়ের পাঁচ দিন পরের একটি বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা ছিল। কাবিননামা ও নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান ছিলেন গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। ২১ জুলাই তিনি গাজী নজরুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার এজাহারে ওবায়দুর অভিযোগ করেন, তাঁর ভাগনির সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে নজরুল তাঁকে সন্দেহ করতে থাকেন যে, তিনি গোপনে ধারণ করা ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এই সন্দেহের জেরেই তাঁকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর সময় গাজী নজরুল এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীও ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক কার্যক্রম থেকে জানা যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। যে তরুণীকে কয়েক মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করা হলো, সেই তরুণীর মৃত্যু হলো এমন একটি ফ্ল্যাটে যেখানে একই সময়ে তাঁর স্বামী এবং প্রথম স্ত্রীও ছিলেন। তদন্তের জন্য এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ fact pattern।
কারণ আত্মহত্যা হলে প্রশ্ন হবে, মরিয়মের মানসিক অবস্থার কী হয়েছিল? জুলাইয়ের ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর ওপর সামাজিক চাপ কতটা বেড়েছিলো ? গাজী নজরুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তখন কেমন ছিল? প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল? বিয়ে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল? পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কেমন ছিল? গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদের এখুনি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত । লুচ্চাটার সংসদে পদ বাতিল হয় নি । জামাতি কারসাজিতে এখনো লোকটা টিকে আছে ।
গাজী নজরুল কে অতিসত্বর উটপাখির ডিম থেরাপি দেয়া হউক । কত নারীর জীবন সে ধ্বংস করেছে সেগুলো বের হয়ে আসবে আশা করি । এসব জানোয়ার আমাদের ল মেকার হয় । জামাতের মাঝে এমন কত গাজী নজরুল রয়েছে এগুলো খুঁজে বের করা দরকার ।
ফটোকার্ড ক্রেডিট : বাংলাদেশ মেইল ২৪
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



