somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লুৎফুর রহমান

রাতের বেলা ঘুমে ছিলাম মোবাইলে কল এলে
একটি মেয়ে হ্যালো বলে লেপটা দিলাম ফেলে
ধারবাহিক বলতে থাকে জানিস বিথী জানিস
কালকে কলেজ আসার সময় ডায়রীটারে আনিস
বল্লাম আমি হেসে হেসে হ্যালো ম্যাডাম শোনেন
নয় চালাকি আমার সাথে রাস্তা নিজের গুণেন
ঘুমের ঘোরে রাগ ওঠেছে ফোনটা দিলাম কেটে
শুনে নিলাম মেয়ের গলা অটোরেকর্ড ঘেঁটে।
পরের দিনে বিকেল বেলা মেসেজ এলো -সরি
রং নাম্বারে কল গেছিলো, এমসি কলেজ পড়ি
ব্যাক করলাম সাথে সাথে হলো অনেক কথা
নামটা জানায় প্রীতি এবং ভাঙ্গে নীরবতা
আমারও নাম বলি আমি গ্রাম, ডাক, থানা
অমন করে দুজনারই পরিচয় হয় জানা
আমি বলি ভেবেছিলাম খারাপ কোন মেয়ে
জ্বালাবে যে আমায় শুধু সরল সোজা পেয়ে
ক্লাসমেট বিথীর কাছে ফোনটা দিতে গিয়ে
আপনাকে যে জ্বালান দিলাম সরি মানে ইয়ে
আমিও সরি রাতেরবেলা ফোনটা কেটে দিলাম
মেসেজ পেয়ে সাথে সাথে ঘুরিয়ে খবর নিলাম
আপনি দেখি সাদা সিধে লাগছে ভাল খুব
বন্ধু হতে পারেন আমার লাগছে অনেক লোভ
মাঝে মাঝে কথা হবে রাত বারোটার পরে
তখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে একলা থাকি ঘরে
পয়লা বোশেখ বন্ধুত্বেরই মধুর মেসেজ পেয়ে
এমএমএসটা পাঠিয়ে দিলাম নিজেই গান গেয়ে
ওপাশ থেকে কল আসলো কথা বলা শুরু
ঘামছি আমি কাঁপছে শরীর বুকটা দুরু দুরু
আচ্ছা শাওন আপনাকে যে তুমি বলে ডাকি
বন্ধুদেরই তুমি বলে এটাই বলে রাখি
তুমিও আমায় তুমি বলো নাম ধরে ডেকো
আমার ভাল বন্ধু হয়ে সারাজীবন থেকো
এমন করে বছর গেলো নতুন বছর এলে
প্রীতিরে যে দেখার বড় ইচ্ছে মনে মেলে
বল্লো প্রীতি আসবে তুমি স্বাধিনতার দিন
আমার গায়ে লাল জামা থাকবে যে রঙিন
গেলাম প্রীতির ভার্সিটিতে পাঞ্জাবিটা পরে
সাথে থাকা বন্দু আমায় বারেবারে ধরে
সাহস বুকে নেইতো জমা কাঁপছে শরির তাই
এদিক ওদিক তাকাই তবু প্রীতর যে খোঁজ নাই
হঠাৎ দেখি পরির মতো একটি মেয়ে এসে
তুমি শাওন জিগায় আমায় মুচকি করে হেসে
মাথা নিচু করে বলি সাথেরটা কি বিথী
হ্যা বলেই হেসে দিলো সুন্দরী যে প্রীতি
আড্ডা হলো সকলজনে ক্যাম্পাসের ওই ঘাসে
আমি প্রীতি বন্ধু দুজন তারাও ছিল পাশে
আচ্ছা শাওন আবার পড়ো বিদেশ টা না হলে
নইলে পরে চাকরি নিয়ে ভাসবে চোখের জলে
লন্ডন যাবার স্বপ্ন প্রীতি যখন হলো নাশ
তখন থেকে করতে থাকি কষ্ট নামের চাষ
এনজিওতে চাকরি নিছি হয়নি তোমায় বলা
বাবার পরে ঘরটা চালাই এমনিতে পথ চলা
এমন অনেক গল্প শেষে বাসার এলাম ফিরে
দেখি প্রীতির পড়ছি প্রেমে কেবল ধিরে ধিরে।

রাত পোহাতো ফোনের মাঝে হতো যখন ভোর
অফিস যাবো বলে আবার বোনটি খোলে দোর
বোনের সাথে ফ্রি ছিলাম বললাম প্রীতির কথা
বোনটি বলে প্রেম করে ভাই পাসনি আবার ব্যথা
বুঝিয়ে বলি বোনকে যখন দিলো আমায় সাড়া
আমার সাথে খুমি সেদিন ছিল আমার পাড়া
বোনের কথায় সাহস করে প্রীতির কাছে বলি
প্রীতিও বলে আমিও চাই একসাথে পথ চলি
ভালবেসে ফেলছি তোমায় শাওন আমার জান
প্রীতি ওগো সোনা যাদু তুমি সোনার চাঁন
ক্লাস শেষে আসতো প্রীতি পয়েন্ট বাজার বন্দরে
রিকশা করে ঘুরে নিতাম লাগতো আবার দ্বন্দরে
প্রীতির বাবায় দেখে নিলো দিলো কড়া বারণ
ক্লাস যাওয়া বন্ধ হলো আমি তারই কারণ
উনার বন্ধুর ছেলের সাথে প্রীতির বিয়ে হবে
আগেই উনি কথা দিছেন শৈশবেতে কবে

শাওন তুমি আমায় পেতে বাবার কাছে আসো
দাও জানিয়ে আমায় তুমি কত্তো ভালবাসো
গেলাম তার বাবার কাছে বিয়ের আলাপ নিয়ে
শাসিয়ে দিলেন বেকার বলে ঠাট্টা অনেক দিয়ে
এক শর্তে বিয়ে দিবো বিদেশ তুমি গেলে
স্টেটাসটা সমান হবে ফিরে আবার এলে
প্রীতি এসে চোখে চোখে করুণ করে চেয়ে
বল্লো বাবা নাও মেনে নাও অনলি ওয়ান মেয়ে
বল্লো বাবা বিয়ে দেবো শর্ত তবেই পাকা
টাকা ছাড়া ঘুরে কি ক সংসারেই চাকা
বাসায় ফিরে মায়ের কাছে সব ঘটনা বলি
মাও বলে এতিম ছেলে উঠরে এখন জ্বলি
পাসপোর্ট করে ব্রাজিলের একটা ভিসার লাগি
আদম দালাল সবার কাছে ডেইলি আমি ভাগি
অনেক পরে মিল্লো ভিসা টাকাও হলো রেডি
প্রীতির বাসায় গিয়ে বলি বিদায়টা দেন ড্যাডি
আমার থেকো প্রীতি তুমি আসবো যখন ঘরে
বউ সাজিয়ে তুলবো তোমায় আমার আপন ঘরে
প্রীতির বাবায় বল্লো কিন্তু সময় বছর তিন
একে করে গুণতে থেকো তোমার সকল দিন
প্রীতি বলে তোমার রবো পারবে তুমি জানি
বিদায় বেলায় আসো এবার বুকেতে নেই টানি।









সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×