হীরক রাজার দেশের হিরোরা
--------------------****------------------
একটি জিনিস সত্যি ই আজ অনেকেই মর্মাহত করেছে, মাহমুদুর রহমান একজন ৬৫ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ লোককে কিছু সংখ্যাক যুবক যেভাবে রক্তাক্ত করেছে তা যেমন বেদনার তার থেকে ও অতীব পীড়াদায়ক হলো, উনি ঘটনার দুই ঘন্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উনার পরিস্হিতি বলা সত্ত্বেও উনার সাহায্য একটি লোকও এগিয়ে এলো না। ভাষা নেই এই বেদনা প্রকাশ করার।
আগে একসময় ছিল একজন লোক রাগ ও ক্রুদ্ধের বশে আরেকজনের উপর হামলা করলে দশজন এগিয়ে আসতে সাহায্যের জন্য কিন্ত এখন একজনকে দশজন পিঠালে বাকি বিশজন দাড়িয়ে ফেইসবুকে লাইভ করে বা ছবি তোলা কিন্ত সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসে না।
তাহলে আমরা কি অতি মাএায় ডিজিটাল হয়ে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি?
এই রকম ঘটনা কোটা আন্দোলন নেতা রাশেদের ক্ষেএে ও হয়েছিল কেউ আসে নাই ওকে সাহায্য করতে।
তাহলে যারা এই জগন্য কাজ করলো তারা কি হীরক রাজার দেশের হিরো হিসাবে রয়ে য়াবে?
এইতো কিছুদিন আগে ২০১৬ সালের ১৫-১৬ই জুলাই তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তায়িপ এরদোগান এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান করার প্রচেষ্টা মাএ একটি ভিডিও বার্তা প্রচারিত হবার পরই দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি।
রাস্তায় নেমে আসেন এরদোয়ানের সমর্থকরা, ব্যর্থ হয়ে যায় অভ্যুত্থান। ভিডিও বার্তায় মি. এরদোয়ান বলেছিলেন, অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তাই হয়েছে। দেখা যায় সাহসী যুবক ট্যংকের সামনে এসে শুইয়ে পড়েছিল যাকে পরবর্তীতে দেশটি লৌহমানবের মর্যদা দিয়েছিল আর কিমেতিন দোগান এখন পরিচিতি পেয়েছেন ‘ট্যাঙ্ক মানব’ হিসেবে। তার নামে একটি স্ট্যাচুও হচ্ছে একটি প্রদেশে। দোগান এখন হিরো। গণতন্ত্র রক্ষার হিরো,
আরেকটি কথা উল্লেখ করতে পারি৷ যা আরব বসন্ত’ নামে অতি পরিচিত,
২০১১ সালে তিউনেশিয়ায় এক তরুণ তার নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে যে ‘বিপ্লব’ এর শুরু করেছিল, তা ছড়িয়ে গিয়েছিল প্রতিটি আরব বিশ্বের দেশে দেশে।
মনে পড়ে গেল সেই প্রবাদঃ
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃনসম দহে।
অন্যায়ের প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যক্তির কর্তব্য আছে। প্রতিরোধ মানে সংঘাত-সহিংসতা নয়;
যার যার কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে অন্যায়কে রুখে দেয়াই বিচক্ষণতা।
ভুলে গেলে চলবে না জীবন নামক এই গেমে আপনি ও একদিন এই অন্যায়ের শিকার হতে পারেন।
তাই আড়াল না হয়ে বা সজাগ ঘুমে আচ্ছন্ন না থেকে
আড়মোড়া দিয়ে উঠে এসে মজলুমের পাশে দাড়ান।
চেগুয়েভারার মতে, পৃথিবীতে যে কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে তুমি যদি ক্রোধের আগুনে জ্বলে ওঠো, তবে জানবো_আমরা কমরেড।
অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে, যেমনঃ প্রতিরক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে,নির্বাচন, অর্থনীতি,সামাজিক নীতি কোন ক্ষেএে আমার সচেতনতার মাএা দেখি না শুধু দেখি লোভী কিছু পিশাচের ছোবল।
তাহলে কি একনায়কতন্ত্রের পথে দেশটি এগুচ্ছে আসলে কি তাই?
নাকি আমরা বিভক্ত সম্পন্ন একটা দেশের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি?
আমরা কি পারি না জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনব।
হীরক রাজার দেশের হিরোদের দৌরাত্ম্যে বন্ধ করতে কি আমাদের কিছুই করনীয় নেই?
বীরের জাতি হিসাবে আমরা কি আশা করতে পারি না বাংলা বসন্তের।
এম, রহমান লতিফ
গবেষক
উন্নয়ন অর্থনীতি

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


