somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্যা হিপোক্রেসি- নরকের কীটের সাথে সহবাস

১৪ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পর্ব -০৩
-------------
একটি জিনিস সহজেই বলা যায় এই ব্রিটিশ সমজে সবকিছুর পাশাপাশি শোবার ঘরের যথাযথ ব্যবহার করা হয়। কেউ সরকারের হাউজিং সোসাইটির কোন ঘর পেলে সেখানে কোনভাবে নিজে কষ্ট করে অন্য কাউকে রুম, ডাইনিং রুম এগুলো ভাড়া দিয়ে দেয় যার উদ্দেশ্য হলো কয়েকটি পাউন্ড এক্সট্রা পাওয়া যায়। অনেকই সরকার থেকে দু'বেড বা তিন বেডের ঘর পেয়ে থাকলে ছেলে মেয়ে বড় হয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে মা বাবা রুম ভাড়া দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ভাড়া মার্কেট রেট থেকে কিছুটা কম হয়ে থাকে। গত ছয় মাস ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে কাজের দরুন থাকা খাওয়ার কোন ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কোন খরচপাতি ছাড়া সাপ্তাহের শেষ দেড়শো পাউন্ড রোজগারের পুরোটাই হাতে জমা থাকতো। এবার অবৈধ তকমা লাগার ফলে রেস্টুরেন্ট মালিক ইমিগ্রেশনের ধরপাকড় ও জরিমানা গুনার ভয়ে কাজে রাখতে চায়না। লন্ডনের বাহিরের দুরের কোন জায়গায় যে দু একজন আবার কাজে রাখতে চায় তারা বেতন অর্ধেক যা সত্তর কি আশি পাউন্ড দিতে চায়। এখন অবস্থা বেগতিক বুঝে সাধের লন্ডন ছেড়ে আপততঃ খুব দূরের কোন রেস্টুরেন্ট কম বেতনে কাজে যোগ দিবো এমনটাই ভাবছিলাম । কিন্তু আচমকাই ভাগ্য দেবী কৃপা করলেন মনে হয়। পরিচিত এক মুরব্বি চাচার মাধ্যমে একটি অফ লাইসেন্সের দোকান কাজ পেয়ে গেলাম। প্রথম এক সপ্তাহ ট্রেনিং সকাল সাতটা থেকে বিকাল পাঁচটা, আর পরবর্তীতে রাত আটটা থেকে সকাল আট ঘটিকা পর্যন্ত ডিউটি।বেতন আগের কাজ থেকে বিশ পাউন্ড বেশি অর্থাৎ একশত সত্তর পাউন্ড। কিন্তু থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্হা নিজেকে করতে হবে তাতে মাসে প্রায় একশো বিশ থেকে একশো পঞ্চাশ খরচ হতে পারে৷ তবুও তৃপ্তি পেলাম কারণ লন্ডন ছেড়ে যেতে হচ্ছে না। কাজের ব্যবস্হা হলো এবার থাকার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যায়।
পর্ব ৪
-------
প্রথম এক সপ্তাহ প্রতিদিন দশ পাউনড দিয়ে রাত্রি যাপন করা যায় এমন 'চিত এন্ড কাত' হোটেলে একটি রুমে উপরিপুর বেডে আরো দশ বারো জনের সাথে থাকলাম। এরিমধ্যৈ অফ লাইসেন্সের মালিকের সহায়তায় একজন বাঙালি মহীয়সী নারী পেয়ে গেলাম। তিনি সম্মত হলেন তার কাউন্সিলের বাসায় যৎসামান্য ভাড়ায় থাকতে পারবো। ভদ্রমহিলার নাম বানেছা বিবি ৷ তার স্বামী মারা গেছেন ছয় মাস আগে। বানেছা বিবি হলেন তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়াতে তার চেয়ে পঁচিশ- এিশ বছরের বড় জমশেদ মিয়া তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় বানেছা বিবির বয়স বারো কি তেরো ছিলো আর এখন আমার সববয়সী তার বড় ছেলে সে হিসাবে বানেছা বিবির বয়স চল্লিশের কাছাকাছি হবে বলে অনুমান করলাম ৷ কিন্তু রঙিন শাড়ির ভাঁজ দিয়ে ফর্সা ও মেদহীন শরীর দেখে মনে হয় যেন বানেছা বিবির বয়স আড়ি দিয়ে সুদূরে চলে গেছে। আমার কাছে তার বয়স কোন অবস্থাতেই পঁচিশের বেশি মনে হলো না । মনে মনে ভাবলাম একসময় দেখতাম স্বামী মারা গেলে স্ত্রীরা রঙিন কাপড় ছেড়ে সাদা কাপড় পড়ে সাদাসিধা জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। আর এখন দেখি বানেছা বিবির মতো রমণীরা অতি সহজেই স্বামী হারানোর ব্যাথা ভুলে যায়। তাদের দেখা যায় অনেকটা শোকহীন ও অনুতাপহীন। মেয়েদের তাহলে স্বামী হিসাবে কাউকে গ্রহন করার জন্য কতটা বয়সের ব্যবধান হওয়া প্রয়োজন! বৃদ্ধ চাচারা কেমন করে দেশ থেকে সুন্দরী যুবতীদের নিয়ে এসে অসময়ে মরে গিয়ে এইসব মেয়েদের জীবন বিনাশ করে এসব নিয়ে অযথাই ভাবতে থাকলাম। বানেছা বিবিকে আমি খালা বলে সম্বোধন করি আর উনি আমার নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। বানেছা বিবির চার ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় দুই ছেলে বাংলাদেশ থেকে মা-বাবার রাইটে যেমন মা বারা বৃটিশ হলে ছেলেমেয়ের অধিকার জন্মায় এমন আইনে ইংল্যান্ডে এসেছে বছর তিনেক আগে। আর বাকী এক ছেলে এক মেয়ে দেশে আছে। ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়ে ওদের বয়স আটার বছরের বেশি হওয়াতে ভিসা পায়নি কিন্তু আপিলে আছে যে কোনো সময় ভিসা পেয়ে চলে আসবে। বানেছা বেগমের বড় ছেলে বিয়ে করে অন্য জায়গায় চলে গেছে। তার তিন বেডরুমের ঘরে একরুমে তিনি, একটিতে মেজ ছেলে,আর অন্য রুমে বাঙালি এক ছেলের সাথে আমার শেয়ার রুম হলো। যাক মাথা গুঁজার একটা ব্যবস্হা ও সাথে কাজের সংস্থান হলো। ভাগ্য বিধাতা কাউকে তাহলে নিরাশ করেন না। মনে মনে খুশি হয়ে অবৈধ থাকার ব্যাথা ভুলতে যেতে লাগলাম।
আমি বুঝতে পারলাম প্রথম দিন থেকেই বানেছা বিবি আমাকে পছন্দ করা শুরু করলেন। তার বাসায় আসার পরের সপ্তাহ থেকে একসাথে পরিবারের লোকের মতো খাওয়া-দাওয়া করি। আমি মাঝে মাঝে মাছ, মাংস ও তরকারির নিয়ে আসি কিন্তু খাবারের জন্য কোন বাড়তি টাকা নেন না। আমি সেক্ষেত্রে ভাগ্যবানই বলতে হয়। আর বানেছা বিবির হাতের রান্না অতটা সুস্বাদু যে একবার খেলে কেউ ভুলতে পারবে না।
কিছুদিনের মাথায় বানেছা বিবি আমাকে গোপনে ডেকে তার বেডরুমে নিয়ে গেলেন। আমি কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগতে লাগলাম। তিনি বললেন,আমি তোমাকে সচরাচর ছেলেদের থেকে অনেকটা ভিন্ন রকম দেখলাম। তোমার কোন আজেবাজে অভ্যাস নেই। কোন লোভ, হিংসে নেই আজকাল এমন ছেলে লাখে একটাও নেই। তাই আমি অনেক ভেবেচিন্তে তোমাকে একটি প্রস্তাব দিতে চাই। আমি চোখ তুলে বানেছা বিবির দিকে তাকালাম। তিনি স্বাভাবিক ও ভাবলেশহীন আছেন কিন্ত আমার হাত পা কেমন জানি কাঁপছে। মনে হয় জীবনে এই প্রথম কোন নারীর কাছে এতটা গোপনে কথা বলছি তাই আমার ভীরু হৃদপিণ্ড কেঁপে লোমশ শরীরের সবগুলো লোম যেন উঁকি দিয়ে আছে। আমি ঘেমে ভিজে যাচ্ছি......

চলবে....

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:৫১
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের নায়িকাকে একদিন দেখতে গেলাম

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪২

যে মেয়েকে নিয়ে ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম, তার নাম ভুলে গেছি। এ গল্প শেষ করার আগে তার নাম মনে পড়বে কিনা জানি না। গল্পের খাতিরে ওর নাম ‘অ’ ধরে নিচ্ছি।
বইটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×