
কিছুক্ষণ আগে অফিসে আসার সময় লেগুনায় ওঠার সময় হঠাত করেই দেখি আমার পাশের সিটে বসা মি: স্যামুয়েল ব্যাকেট! একজন বিরাট ব্যাকেট ভক্ত হিসেবে উনি আমাকে চিনেন। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে, সিটে বসে নিয়েই ব্যাগটা সাইডে রেখে, মাস্ক টা খুলে- একটু দম নিয়ে আমি স্যামুয়েল ব্যাকেট কে জিজ্ঞেস করলাম-
এই যে এখন বাংলাদেশে যা কিছু চলতেছে, -''ভোট, রাজনীতি, শপথ, মন্ত্রী, এমপি, বিরোধী দল, জুলাই সনদ, জামাত, এনসিপি'' -- এসব নিয়া আপনার ভাবনা কি?
দেশে আসলে কী ঘটছে বলে মনে হয়?
ব্যাকেট বললো: সবাই খুব ব্যস্ত, তাই কেউ কিছুই করতে পারছে না।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কি তাহলে অপেক্ষা করব?
ব্যাকেট: অপেক্ষা করো। এতে অন্তত ব্যস্ত দেখাবে।
আমি: কিন্তু সাধারণ মানুষ তো পরিবর্তনের আশায় বসে আছে। আমরা কি তবে শুধু অপেক্ষা করব?
ব্যাকেট: অপেক্ষা করো। এতে অন্তত ব্যস্ত দেখাবে। খালি হাতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে অপেক্ষারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
আমি: কিন্তু কার জন্য অপেক্ষা? গডোর জন্য? সে কি আসবে?
ব্যাকেট: সে যদি আসেও, তুমি তাকে চিনতে পারবে না। কারণ তুমি তো তাকে নয়, তার আসাটাকে খুঁজছ।
আমি: তাহলে এই যে ক্ষমতার রদবদল, দলগুলোর টানাটানি, ‘জুলাই সনদ’—এগুলোর কোনো মানে নেই?
ব্যাকেট: মানে খুঁজতে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় বোকামি। মানে হলো একটা তালি মারা জামা, যা দিয়ে আমরা আমাদের আসল নগ্নতাকে ঢেকে রাখি।
আমি: বাংলাদেশের মানুষ তো এখন বেশ সরব। সবাই কথা বলছে, সবাই বিচার চাইছে।
ব্যাকেট: হ্যাঁ, কোলাহল বেড়েছে। নীরবতা খুব ভয়ংকর তো, তাই সবাই চিৎকার করে সেটাকে লুকাতে চাইছে।
আমি: আপনি বলতে চাচ্ছেন এই যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, এনসিপি বা জামাতের ভূমিকা—সবই এক বৃত্তে ঘোরাফেরা?
ব্যাকেট: ঘোরাফেরা করা ভালো। অন্তত পা সচল থাকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে হাঁটাটাই এখানে আসল নাটক।
আমি: তাহলে আমাদের কি কোনো ভবিষ্যৎ নেই?
ব্যাকেট: ভবিষ্যৎ একটা আগামীকাল, যা কখনোই আজ হয় না।
আমি: দেশের বুদ্ধিজীবীরা তো অনেক বিশ্লেষণ দিচ্ছেন। তারা বলছেন দেশ পুনর্গঠিত হচ্ছে।
ব্যাকেট: বিশ্লেষকরা হলো সেই লোক যারা একটা ভাঙা ঘড়িকে বর্ণনা করতে গিয়ে পুরো দিন পার করে দেয়, কিন্তু ঘড়িটা সারায় না।
আমি: তাহলে কি সব কিছুই অর্থহীন? এই যে সংস্কারের লড়াই? আমি হতাশ হয়ে পড়ছি। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমরা এক অন্তহীন গোলকধাঁধায় আছি।
ব্যাকেট: হতাশ হওয়াটাও একটা কাজ। অন্তত আজ তোমার করার মতো একটা কিছু আছে।
আরও গোটা বিশেক প্রশ্ন ছিলো, রাস্তা ফাকা দেখে লেগুনা দ্রুতই মিরপুর ২ চলে আসলো। আমাকে নেমে যেতে হলো, মেহেনতি লোক বলে কথা, অফিস ধরতে হবে। না হলে আরও কিছু প্রশ্ন করা যেতো। আমি নেমে গেলাম, ব্যাকেট বললো চলে যাও, ভাড়া আমি দিয়ে দেব?
বললাম, শিওর দেবেন?
ব্যাকেট বললো- দিয়েই দিতাম, কিন্তু তুমি তো যাবা না, আবার আসাব...।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


