somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"এখানেই সব ভালবাসা "

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তামান্নার খুব টেনসন হচ্ছে। বাসা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে । পালানোর
কোন ইচ্ছে ছিল না । শুধুই আগ বাড়িয়ে ঝামেলা করা। কিন্তু
পরিস্থিতি পালিয়ে যেতে বাধ্য করলো । অপূর্বের সাথে সম্পর্কটা বাসা থেকে মেনে নিবে না । ঠিক আছে, কিন্তু তাই বলে জোর
করে আরেকজনের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে । এটা কেমন
কথা । তাই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া । ব্যাগ আগেই গুছিয়ে শেফালীর বাসায় রেখেছিল । কখন পালাবে সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিল ।
রাতে পালানো যেত, তবে বাসায় তখন মানুষ থাকবে । রিস্ক বেশি হয়ে যায় । তাই খুব সকালে বেরিয়ে পড়লো । কারও
ঘুম ভাঙ্গার আগেই । বাসা থেকে বের হয়েছি এটা অপূর্বকে জানানো দরকার । হাঁদারামটা নিশ্চয়ই এখনো ঘুমোচ্ছে ।
আলসেমীর চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত অপূর্ব । কি করে যে এমন বোকা আর কেয়ারলেস ছেলের প্রেমে পড়লো, সে ভেবে পায়
না ।
- হ্যালো
- উহ্ কে? অপূর্ব ঘুমঘুম মুখে বললো।
- " তুমি এখনো ঘুম থেকে উঠোনি?"
রাগান্বিত কন্ঠে তামান্না বললো।
- কে কে? আরে নাহ এই
যে আমি উঠে গেছি। রাস্তায় আছি।
- তোমার এই একই মিথ্যা আর কতদিন
বলবা?
অপূর্ব জিভ কাটলো। আজকের মতো একটা দিনেও বেহুশোর মতো ঘুমিয়েছে। গতরাতে বিয়ে নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করলো । কিছুতে সমস্যার সমাধান খুঁজে পেল না । আজও উঠতে দেরি হয়ে গেল। অবশ্য ওর সবসময়ই এমন দেরি হয়। এটা নতুন কিছু না।
- কোথায় আসবো... বাসস্টপ?
- বাসস্টপ কেন? আগে কাজি অফিসের
সামনে আসো। বিয়ে না করে তোমার
সাথে যাবো না।
- এখন কাজি অফিসে?
- হ্যা, কোন সমস্যা?
- না..মানে সাক্ষীর একটা বিষয় আছে তো।
যোগাড় করতে হবে না?
- আমি উর্মী, সাথী আর শেফালী কে বলছি।
তুমি সৌরভ আর সাকিব কে আসতে বলো।
- আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। আসছি।
কাজী অফিসে চেয়ারে বসে আছে তামান্না। যার সাথে বিয়ে হবার
কথা সে এখনো পৌঁছোয় নি।তামান্নার ভালো লাগছে না। কেমন অস্বস্তি লাগছে। হার্ট বিট বেড়ে গেছে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সামনে এসে পড়েনি । তাই একটু ঘাবড়েও
গেছে। অস্বস্তির আরেকটি কারন শাড়ি । কি মনে করে যে আজ
শাড়ি পরে আসলো । সৌরভ দেখেই ফোঁড়ান কেটে বললো,
"একেবারে বউ সেজে এসেছেন দেখি। ভালোই হলো আসল বিয়ের ফ্লেভারটা একটু পাবেন" তার খুব লজ্জা পাচ্ছিল । শাড়ি পরার বিশেষ কারন আছে । যদি আজ অপূর্বর বাসায়
সরাসরি যাওয়া হয়, তবে শাড়িই সবচে উপযুক্ত পোষাক। নতুন বউ শাড়ি ছাড়া বেমানান লাগে। কিন্তু এই শাড়িই শেষমেষ কাল হয়ে দাঁড়ালো । একে তো ঠিকঠাক
গোছগাছ রাখা কঠিন, অপরদিকে সে আবার আনাড়ি ।
অপূর্ব জোরে জোরে হাটছে ।
হাটছে না বলে দৌড়োচ্ছ বললেও ভুল হবে না ।
তামান্না যে এমন পাগলামী করবে তা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না ।
প্রচন্ড
রোদ । ঘামে ভিজে একাকার । বিয়ে করে সে উঠবে কোথায় ।
এখনও নিজের দায়িত্বই পুরোপুরি নিতে পারেনি।
সে কি করে আর একজনের দায়িত্ব নেবে। বাসায় উঠবে?
তখন কি হবে? নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল । সময়
যতো গড়াচ্ছে চিন্তাগুলো জট
পাকিয়ে যাচ্ছে । আর সমাধানের পথ সরু থেকে সরুতর ।
অপূর্ব আর তামান্না কাজী অফিসে । একটু আগে অপূর্ব ফিরেছে। কাজী সাহেব রেজিস্ট্রি খাতাটা তামান্নার দিকে এগিয়ে দিলেন । তামান্না স্বাক্ষর
করতে গিয়ে থমকে গেল । সে ঠিক করছে তো?
প্রশ্নটা আচমকা মাথায় চলে আসলো । বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-বন্ধু সবাইকে ছেড়ে থাকতে হবে । সে পারবে তো?
নাকি এটি ভুল সিদ্ধান্ত । হুটহাট করে আবেগী সিদ্ধান্ত?
বাবার শরীর ভালো না। তামান্নার
এভাবে পালিয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিবেন না । অনেক কষ্ট পাবেন । কিন্তু প্রকাশ করবেন না।
নীরবে কেঁদে যাবেন। তামান্না পৃথিবীর সবার কষ্ট সহ্য করতে পারবে । তবে বাবার কষ্ট সহ্য করতে পারে না । পৃথিবীর কোন
মেয়েই তার বাবাকে কষ্ট দিতে পারে না। সেই মানুষটিকে কাঁদিয়ে সে আদৌ কি সুখি হতে পারবে? প্রশ্নগুলো কঠিন বাস্তবতার
সামনে এনে ফেলে । এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে । পিছনে ফিরে যাওয়া সম্ভব না । এই পরিণতিই মেনে নিতে হবে। তামান্নার চোঁখ
পানিতে ভিজে আসছে । নিজেকে অন্ধকার ঘরে একা একা লাগছে। সে হাতে আরেকটি হাতের স্পর্শ পেল । অপূর্ব
তার হাত ধরে আছে । সবকিছু মুখে বলতে হয় না । কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।
তামান্না অপূর্বর দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করলো।
মানুষটি তাকে বড্ড ভালবাসে!
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে বাস ছুটছে । অপূর্বের বাসায়
যাচ্ছে। তামান্না নতুন বউদের মতো ঘোমটা দিয়েছে । জানালার
পাশে বসায় চুল আর ঠিক থাকছে না । বাতাসে অবাধ্য
স্বাধীনতা পেয়ে উড়ছে । অপূর্ব অনেকক্ষন
ধরে চুপচাপ আছে । বাসায় কিভাবে নিয়ে উঠবে তাই হয়তো ভাবছে । তামান্না জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে ।
ভেতরে অস্থিরতা এখন আর নেই । কিছুই ঠিক নেই, তবুও সবকিছু ঠিকঠাক লাগছে । এরকম
কেন মনে হচ্ছে? অপূর্ব পাশে আছে, একারনেই?
হয়তো । কিছু মানুষ থাকে, যাদের সান্নিধ্যে থাকলে জগতের সকল বাঁধা-বিপত্তি অতি তুচ্ছ মনে হয় । অপূর্বের সাথে সেই
নিশ্চয়তা আছে, অপূর্বের সাথে নির্ভরতা আছে ।
ভবিষ্যতে কি হবে তামান্না জানে না । সে বর্তমানটা জানে । বর্তমানের
মুহূর্তটা সুন্দর । বাকি সারাটি জীবন মানুষটির
হাতে হাত রেখে, কাধে মাথা রেখে কাটিয়ে দেবার মতোই
সুন্দর । তামান্না অপূর্বের কাঁধে মাথা রাখলো ।
চোঁখদুটি বন্ধ করলো । অদ্ভুত প্রশান্তি আছে ।
হ্যাঁ, এখানেই তার ঠিকানা । এখানেই সব
ভালবাসা ।

(Out view of my friend's upcoming future)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×