ভাবনা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করে। এই যে লিখছি, কোন বানানটা কী হবে লিখতে লিখতে এই নিয়েই ভাবছি। আচ্ছা ‘তাড়িত’ বানানটা ঠিক আছে তো! যখন অতীত নিয়ে ভাবি তখন না পাওয়ার বেদনা আমাকে নতুন করে ভাবায়। অতীতে গিয়ে ভুলগুলো শোধরে আসি। আবার ভাবি। এবার নিজের মতো। ভুলহীন। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবি।
এতো এতো ভাবনার মাঝেও বাঁচার যুদ্ধে বেচে দিয়েছি নিজেকে। অফিসে যখন কাজ করি তখন মনেহয় দাসত্তের এই শেকল আমাকে কে পরালো হে। আমি তো শেকল চাইনি।
অথচ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা হয়। নাস্তা হয়। রাস্তার পথ ধরা হয়।
বাসের জানালা দিয়ে রাস্তায় হেটে যাওয়া কোনো উঠতি কিশোরী বা তরুণীর নিতম্বের দোল খাওয়া দেখে মনের ভেতর মাইরি ঠেকুর তুলি। কিংবা উন্নত বযুগলের কম্পমান দৃশ্যে- অদৃশ্য আর্তনাদে নিজের ভেতরের পৌরুষটা জেগে ওঠে। জিহ্বায় তরল কিছুর উপস্থিতি টের পেলে বুঝি এখনো মরিনি আমি। আমার আকাক্সা বেঁচে আছে। ফুরিয়ে যাইনি।
আদমশুমারিতে আমার নাম গোণা হলে বুঝি আমি গণনার বস্তু। রাখাল যেমন তার গরু কিংবা ছাগল গুণে রাখে তেমনি আমাকেও রাষ্ট্র গুণে রাখছে। চাকরির বাজারে জীবন বৃত্তান্ত দেখে চশমার ফাঁক দিয়ে যখন তীর্যক দৃষ্টিতে আমাকে পরখ করা হয়, মূল্য নির্ধারণ করা হয়- তখন বুঝি আমি পণ্যতে পরিণত হয়ে গেছি।
নির্বাচন এলে প্রার্থীরা আমার ঘরের দরজায় এসে কড়া নাড়ে। সালাম দিয়ে বলে- আমি ওমুক মার্কার তমুক। আপনি আপনি করে মুখে ফেণা তুলে চামচা বেষ্টিত মানুষটি। বলে- ভাই ভোটটা দিয়েন। দশের উন্নতি হবে।
তখন বুঝি আমি আসলেই প্রাপ্ত বয়স্ক! বয়স বাড়ছে।
আমি আবার ভাবি। হিসেব কষি। জীবনের ভাবনা। ভবিষ্যতের ভাবনা। জিনজিয়ানের স্যুপ কিংবা চিকেন ফ্রাই, লা ভিঞ্চির গেলাসে-গেলাসে চিয়ার্স। দাম নিয়ে ভাবি। জীবনটাকে আরেকটু সুন্দর করা নিয়ে ভাবি।
রাতে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে একটা আইপিএস কেনার বাড়তি খরচ যোগানোর ভাবনা নিয়ে ঘুমোতে যাই। নিতম্ব দোলানো কোনো তরুণীকে কল্পনায় এনে মনের ভেতর শীতল অনুভূতি জাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
সকালে ঘুম থেকে জেগে হকারের দিয়ে যাওয়া ‘আলো’ কিংবা ‘কালের’ পত্রিকাটা হাতে নিয়েই আবার শুরু করি গলাবাজি। চিৎকার-চেচামেচি, বক্তৃতা। আমার শ্রোতার সংখ্যা কম। শব্দের তীব্রতা কোনো অংশেই যেন কম নয়। কিছুণের জন্য আমিও হয়ে উঠি ওদেরই মতো।
‘আমি হলে এই করতাম, সেই করতাম’।
আসলে করতাম কচু। নিজের আখের গোছাতাম!
সকাল থেকে রাত এবং আবার সকাল- এর মধ্যে রাষ্ট্রের জন্য আমার কন্ট্রিবিউশন কতটুকু এই নিয়ে ভাবি। আমার এই জীবনে কতটুকু দিয়েছি সে হিসেব কষলে হিসাবটা দাঁড়ায় বিয়োগাত্তক। যদি বলেন স্বাধীনতার সুফল আমি ভোগ করছি ঠিকই তবে এতে আমার কোনো অংশগ্রহণ নেই। যে ভাষায় কথা বলছি সেই ভাষার জন্যও আমার অবদান শূন্য।
আসলে এই দেশটা হলো অনেকগুলো শূন্যের সমাহার। লক্ষ্য সবার একই।
‘যতো পারো লুটেপুটে খাও। তবে খেও গোপনে’।
এই লুটোলুটির বিয়োগাত্তক ফল ভোগ করবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। ওরা আমাদের গালি দেবে। এমন এক সময় আসবে যখন ওরা সপ্তাহে একদিন ‘মূত্র দিবস’ পালন করে তাদের উত্তরসূরীদের কথা ‘স্মরণ’ করবে!
আলোচিত ব্লগ
বালুর নিচে সাম্রাজ্য

(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)
ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।
এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার।
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন
জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন
গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।