somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরাবাস্তব

০৬ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিমু পড়েছে ভীষন যন্ত্রনায়। ওর আজকে ভার্সিটিতে কাজ ছিল।ওদের ভার্সিটি এবার রোবটিক্স কম্পিটিশনের আয়োজন করছে। ও আয়োজন কমিটির অন্যতম সদস্য। আজ ওখানে ওর কাজের কোন শেষ নেই। আর ও কিনা যেতে পারছে না। আটকে আছে এই প্যাঁচপ্যাঁচে কাদার মাঝে। গাড়ির জানালা দিয়ে দেখছে বাইরের অঝোর ধারা। আজকেই কিনা বাবার এখানে আসার ইচ্ছা হল!
ওর বাবা ডাঃ প্রিয়ক হাসান।আসলে নিজের বাবা নয়।নিঃসঙ্গ প্রিয়ক অনাথ হিমুকে দত্তক নিয়েছেন। নামটাও বদলিয়ে রেখেছেন। হিমালয়। শেষে কোন হাসান নেই। শুধু হিমালয় আর ডাকনাম হিমু। সেই দিনের ছোট্ট হিমু আজ বড় হয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্সের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে।বাবা ওকে পড়াশুনার বাইরেও অনেক কিছু শিখিয়েছে।যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তা , ভাবালুতা -সব কিছু। প্রিয়কের শরীরটা অনেকদিন ধরেই ভাল যাচ্ছে না। নানা অসুখ এসে দানা বেঁধেছে। আর দিন দিন তার স্মৃতিকাতরতা বাড়ছে। ইদানিং মৃত্যুকে অনেক বেশি স্মরণ করছেন। আর তাই পুরনো জায়গা গুলতে বারবার ফিরে যেতে চান। হিমু ও যতদূর সম্ভব নিয়ে যায়। এই সপ্তাহে ই ওরা ঢাকা মেডিকেলে গেল। হলের ছেলেদের সাথে বসে বাবার সে কি আড্ডা! তিনি যেসব রুমে ছিলেন সব রুমে গেলেন।ডি এম সির আনাচেকানাচে ঘোরাঘুরির সাথে সাথে হিমুর সাথে চলছিল প্রিয়কের কথাবার্তা । বাবা আসলে হিমুর বন্ধুর মত। কলেজ জীবনের ক্রাশ থেকে শুরু করে মধ্যরাতের পাগলামি সব কিছু শোনা আছে হিমুর। বাবার জীবনটা গল্পএর মত করে জানা। আর তাই নিজের ছোটখাটো গোপন কথাগুলো বলার জন্য ও হিমুর প্রথম পছন্দ বাবা। ভার্সিটিতে সিইসি ডিপার্টমেন্টের নতুন ম্যাডামটাকে যে ওর ভালোলাগে , ওরা যে দুদিন কফি খেতে বাইরে গিয়েছিল-সব কিছুই জানা বাবার।
আজকেও যে ভার্সিটিতে প্রোগ্রাম আছে সেটাও বাবার জানা। কিন্তু সকালেই কেন জানি খুব পীড়াপীড়ি করছিলেন এখানে আসতে। এই অবস্থায় একা ও বাবাকে ছাড়া যায় না। তাই নিয়েই এলো এই নদীটার ধারে। হিমু একটু অবাক হয়েছিল প্রথমে।এই জায়গাটায় বাবা আগে কখনো আসতে চাননি।হিমু ফ্লাস্ক থেকে গরম পানি ঢালছিল চা বানাতে। এই ব্র্যান্ডের চা বাবার বেশ প্রিয়। বাইরের দৃশ্যটা যেন পরাবাস্তব জগতের। ছোট্ট নদীটা জলে টুইটম্বুর। ওপারে বিস্তীর্ণ ধানের খেত। আকাশে ঘন কালো মেঘ। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। চাএর কাপ বাবার হাতে ধরিয়ে দিতেই বাবা কথা বলা শুরু করল। চা বাবার প্রিয় পানীয়। চা খোর হিসেবে দুর্নাম প্রিয়কের কলেজ জীবন থেকে ।প্রিয়ক বলতে শুরু করল- আমি তখন কলেজে পড়ছি।সেকেন্ড ইয়ারে।দ্যুতির কথা তো তোকে বলেছিই।একদিন ওকে খুলে বললাম মনের কথা। ও যথারীতি না করে দিল। খুব মন খারাপ ছিল। হাঁটতে হাঁটতে কখন যে এই জায়গাটায় চলে এলাম খেয়াল করি নি। সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম। জ্বর এসেছিল।কিন্তু এসব তো আর তখন খেয়াল নেই। এখানটায় এসেই প্রথমে মন খারাপ হয়ে গেল। ঠিক আজকের মত পরিবেশ ছিল সেদিন। মেঘে-বিদ্যুতে মাখামাখি অবস্থা। ঘন্টাখানেক বসেছিলাম।তারপর হঠাত এক তীব্র আনন্দবোধ আমাকে গ্রাস করল। এক পরাবাস্তব অনুভূতি। মনে হল, এই জীবনটা আসলে অনেক বিশাল। অনেক কিছু করা যায় একে দিয়ে। একজনের জন্য বেঁচে না থেকে অনেকের জন্যই বেঁচে থাকা যায়। সামনের অই বিস্তীর্ণ খেত, বিশাল আকাশ, ঘনকালো মেঘ এদের চেয়েও বিশাল প্রাপ্তি এই জীবনের। সেদিন আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ,বাকিটা সময় নিজের সর্বোচ্চটা করব। আর স্রষ্টার কাছে চেয়েছিলাম, আমার মৃত্যুর সময়টাতেও এমন তীব্র আনন্দবোধ নিয়ে যাতে আমি মরতে পারি। আমি মহাপুরুষ না। কিন্তু ইচ্ছামৃত্যু ধারনাটা বেশ প্রিয় আমার। আজকের এই পরিবেশে আমি মরতে চাই। কথাগুলো বলতে প্রিয়কের খুব কস্ট হচ্ছিল। হিমু দেখল, একটু পরে প্রিয়কের মাথাটা সিটে এলিয়ে পড়েছে। প্রিয়কের চোখ গুলো খোলা ।নিশ্চল চোখগুলো তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে। যেন পরাবাস্তব জগতের কোন পরিবেশে হিমু বশে আছে মৃত বাবাকে নিয়ে।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×