
থ্যালিডোমাইট ট্রাজেডির পরে কিছু পরিবর্তন আসে। এর আগে ড্রাগ ট্রায়ালের ব্যাপারটায় খুব একটা রেগুলেশন ছিল না। যেমন উৎপাদনকারী কোম্পানী থ্যালিডোমাইট শুধুমাত্র ইঁদুরের উপর ট্রায়াল দিয়েই ঘোষণা দেয় যে এটা মানুষের জন্যেও নিরাপদ।আমেরিকায় প্রায় বিশহাজার রোগীর উপর থ্যালিডোমাইট ট্রায়াল হয় যেখানে হাজারখানেক ডাক্তার অংশ নেন। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের পরে সেসব রোগীর আর যথাযথ ফলোআপ করা হয় নি। থ্যালিডোমাইট ট্রাজেডির পরে ড্রাগ ট্রায়ালের ব্যাপারটায় আরো অনেক নিয়মনীতি আনা হয়। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টাকে নিশ্চিত করতে এখন আর হুট করে চাইলেই কোন একটা ড্রাগ মানুষের উপর প্রয়োগ করা যায় না। ল্যাবরেটরিতে ট্রায়াল হয়, এনিম্যাল ট্রায়াল হয়, কয়েক ধাপে হিউম্যান ট্রায়াল হয় । তারপর একটা ওষুধ মানুষের জন্য উপযোগী কিনা সেটা ঠিক করা হয়।
থ্যালিডোমাইট এখনো পৃথিবীর অনেক জায়গা ব্যবহৃত হয়। লেপ্রসি বা কুষ্ঠ আর মাল্টিপল মায়েলোমার মত কিছু অসুখে । এই কথাটা বলার উদ্দেশ্য হল আসলে এটা বলা যে একটা ওষুধ একটা রোগের জন্য নিরাপদ হলেই যে সেটা আরেকটা রোগের জন্য কার্যকরী হবে তা আসলে নিশ্চিত করে বলা যায় না। এর জন্য গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণা একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আধুনিক ড্রাগ ট্রায়ালগুলো অনেক সময় ৬-৮ বছর ও লেগে যায়।
এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই করোনাকালে কেন আমি থ্যালিডোমাইটের সুপ্রাচীন গল্প ফেঁদে বসেছি। এর কারণ হল এই গল্প বোধহয় এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।শুধু চিন্তা করুন গোটা দুনিয়া যখন একটা মহামারীতে কাবু হয়ে আছে তখন কেউ যদি কোন ম্যাজিক ড্রাগের দাবি করে তাহলে তার ফলাফল কি হবে? আমাদের দেশের কথাই ধরি। আঠারো কোটির দেশে যদি আট কোটি মানুষ ও সেই ম্যাজিক ড্রাগ কেনেন তাহলে ওষুধ কোম্পানীগুলোর কি পরিমাণ ব্যবসা হবে সেটা চিন্তা করুন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলে যে প্রায় নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে করোনা রোগিরা কিছু উপসর্গের পরে ভাল হয়ে যায়। এখন এই সময়টায় আপনি যদি ঐ ম্যাজিক ড্রাগটা নেন তাহলেও আপনি ভাল হবেন, না নিলেও আপনি ভাল হবেন। ম্যাজিক ড্রাগটা নেয়ার কারণে আপনার আপাতত মনে হতে পারে যে আপনার সুস্থতা ত্বরান্বিত হয়েছে।কিন্তু সেটার কি কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো আছে ? নাহ। এবং যেহেতু কোন নির্ভরযোগ্য রিসার্চ বা ট্রায়াল এখনো নেই , তাই একটু চিন্তা করুন যে যদি সেই ওষুধটার বিন্দুমাত্রও কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে তাহলে তাতে কতজন আক্রান্ত হবে? সংখ্যাটা হবে কোটির ঘরে। আমাদের অনেক চিকিৎসকেরা আপাতত এই যুক্তিতে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টাল ড্রাগ রোগীদের প্রেস্ক্রাইব করছেন যে তারা এটা ট্রায়াল হিসেবে দিচ্ছেন। কিন্তু আউটডোর বেসিসে কিংবা টেলিমেডিসিনে যেসব রোগিকে তারা এসব ড্রাগ দিচ্ছেন তাদের কি কোন রেগুলার ফলো আপ তারা করছেন? এই ওষুধগুলোর কোন লং টার্ম সাইড ইফেক্ট যদি ডেভোলাপ করে তার জন্য তারা কি কোন দায়িত্ব নিবেন? কিংবা ওষুধগুলো দেয়ার সময় এর উপযোগিতার কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য যে এখনো হাতে নেই , এই ওষুধেরও যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এসব রোগীদের জানিয়ে তারা কি কোন ইনফরমরড কন্সেন্ট নিচ্ছেন?
দুনিয়াজুড়েই চিকিৎসকেরা অনেক ড্রাগের অফ-লেভেল প্রেস্ক্রিপশন করে থাকেন।কিছুক্ষেত্রে সেটা বেশ ভাল কাজ করে । কিন্তু সাধারণ সময় আর একটা গ্লোবাল প্যান্ডেমিক কিন্তু এক না। সাধারণ সময়ে অফ-লেভেল প্রেশক্রিপশনে যদি ক্ষতি হয় তবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দুজন-চারজন/ পাঁচজন-দশজন। আর গ্লোবাল প্যান্ডেমিকের সময় যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে হবে কোটি কোটি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




