![]()
আফ্রিকান সাহিত্যর আলোচনায় প্রথমেই অবধারিতভাবে যে লেখক আর উপন্যাসের নাম এসে যায় তা হল বিখ্যাত “টাইম ম্যাগাজিন” এর দৃষ্টিতে ১৯২৩-২০০৫ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ ইংরেজি উপন্যাসের তালিকায় থাকা বিখ্যাত নাইজেরিয়ান লেখক চিনুয়া আচেবের ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত “থিংস ফল এপার্ট” এর নাম। আচেবের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে ধরা হয় এই উপন্যাসটিকে যা এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৮ মিলিয়ন কপি বিক্রয় হয়েছে এবং ৫০ টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে “আফ্রিকা” বিষয়ক কোর্স গুলোতেও পড়ানো হয় এ উপন্যাসটি। এ বই এ লেখক সনাতন আফ্রিকান ঐতিহ্য সংস্কৃতি এর বিপরীতে দেখিয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দন্ধ যা এ উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটি মোট তিন ভাগে পঁচিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত। উপন্যাসটির শিরোনামটি নেয়া হয়েছে ১৯২০ সালে প্রকাশিত আইরিশ কবি “ডব্লিউ. বি. ইয়েটস” এর “দ্যা সেকেন্ড কামিং” কবিতাটি থেকে।
![]()
![]()
লেখক চিনুয়া আচেবে ১৯৩০ সালের ১৬ ই নভেম্বর নাইজেরিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। এ সময় নাইজেরিয়া ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন গির্জার প্রতিনিধি যিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মিশন স্কুলে পড়াতেন এবং অন্য সময় গ্রামের গির্জায় দায়িত্ব পালন করতেন। চিনুয়া শৈশব ও কৈশোরে এ স্কুলেই পড়াশোনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে ইবাদানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপনা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ২১ শে মার্চ এ লেখক মৃত্যুবরণ করেন।
এই উপন্যাসে তৎকালীন ঔপনিবেশিক পূর্ব আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়া এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সমাজচিত্র, কলহবিবাদ, কায়িক শক্তির আধিপত্যবাদ, ধর্মাচরণ, রহস্যময় আদি ভৌতিক শক্তি, জীবনের উত্থান-পতন এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার প্রভাবে পরিবর্তিত সমাজ এর চিত্র ফুটে উঠেছে উজ্জল ভাবে। সেই সময়ের সমাজ, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি ফুটে উঠেছে উপন্যাসের মূল চরিত্র ওকোনকো, এজিনমা, ইকওয়েফি, ইকেমেফুনা, নাউয়ি, ওবিত্ররিকা, উচেন্দু এর মাধ্যমে।
উপন্যাসটি মুলত এর প্রধান চরিত্র ওকোনকোর জীবন, তার উত্থান আর উপন্যাসের শেষে তার করুন পরিনতিকে কেন্দ্র করে এগিয়ে গিয়েছে। চরিত্র হিসেবে আরও এসেছে এজিনমা, ইকওয়েফি, ইকেমেফুনা, নাউয়ি, ওবিত্ররিকা, উচেন্দু, মিস্টার ব্রাউন সহ অনেকে।
আশ্চর্য এক ভয় ওকোনকোর জীবনকে নিয়ন্ত্রন করেছে। সে তার বাবার দুর্ভাগ্য ও অসফলতার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে। তাই উপন্যাসের শুরু থেকে দেখা যায় সে শক্তিমত্তা প্রকাশে কঠোর থেকেছে তবুও কখনও কখনও ক্ষীণভাবে প্রকাশ পেয়েছে তার মমত্ব এবং স্নেহপ্রবন মন। উপন্যাসের শেষে ওকোনকোর করুন পরিনতি পাঠকের মনে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতার ছায়া রেখে যায়।
বিশ্বসাহিত্য অনন্য অবস্থান করে নেয়া এই উপন্যাসটি আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। উপন্যাসটির শেষে আসলে “ডব্লিউ. বি. ইয়েটস” এর “দ্যা সেকেন্ড কামিং” কবিতাটির যথার্থতাই প্রমানিত হয়ঃ
“Turning and turning in the widening gyre
The falcon cannot hear the falconer;
Things fall apart; the center cannot hold;
Mere anarchy is loosed upon the world.”
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



