
ঈদ বলে কথা! সেটা যদি হয় ছোট বেলায় যখন পৃথিবীর সব ভালো আর সুন্দর !
ছোটবেলায় নানীবাড়িতে গিয়েছি ঈদের সময় গ্রামে, মামাতো বোন এবং খালাতো বোনও আছে সেবার, তবে তিনজনের এ দলের আমি বয়সে সামান্য বড় তাই দলনেত্রী।
ঈদের দিন সকালে বাচ্চাদের গোসল করিয়ে জামা জুতো পরিয়ে দেয়া হোল। পাশে এক পরিবার থাকে গ্রামের দরিদ্র পরিবার যেমন হয় তেমন। নেত্রী বাকী দুজনকে নিয়ে বেড়াতে বেরুবে তো আম্মা ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন পার্শ্ববর্তী পরিবারে গিয়ে কি কি করতে হবে যেমন সালাম দিতে হবে, যেটা খেতে দেবে ওরা খেয়ে ধন্যবাদ দিতে হবে এবং আসবাব সময় বলতে হবে "আমাদের বাসায় আসবেন"। এটা ঈদের দিন এবং বড় বলে মূল দায়িত্ব আমার।
তিনজন গেলাম এবং শুরুটা ভালোই হোল, এরপর একটা প্লেটে তিনজনের জন্য গাড় সবুজ রঙের খাদ্যবস্তু পরিবেশন করা হোল চামচ সহ, বলা হোল শিন্নী খাও। আমার দুই শিষ্য নীরব চোখে তাকিয়ে আছে আর আমি নেত্রী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য অচেনা বস্তু চামচে করে মুখের ভিতরে দিলাম, মিষ্টি বটে! স্বাদ পুরোপুরি আত্মস্থ করবার আগেই খালাতো বোন বলে উঠল, " এটা কি খেতে দিয়েছেন আমাদের? বিড়ালের হা... নাকি!!
তৎক্ষনাৎ আমি থু করে মুখ থেকে সব ফেলে দিয়ে ভোঁ দৌড় দিলাম, পিছনে ওরা দু'জন! ঐ পরিবারের ওনাদের বলাও হোল না "বেড়াতে যাবেন আমাদের নানীবাড়ী "।
রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে, জুতো ময়লা করে ছুটে চলে এলাম। সবটা বলবার পর জানতে পারলাম সেটা ছিল আসলে আখের গুড়ের পায়েস। রান্না করবার পর রঙ এমন হয়ে যায়!
আমার দলের শিষ্য দু'জন যথেষ্ট বুদ্ধিমতী হয়েছে পরবর্তী জীবনে, সে সময়ে ছিল আস্ত বুদ্ধু ! আমি ছোট বেলা আর বড়বেলায় বিশাল বুদ্ধিমতী! এখন অনেকটা পয়সা খরচ করে প্রবর্তনা থেকে আখের গুড় সংগ্রহ করি এবং উপভোগ করি, তবে কখনও পায়েস নয়।
সেই সব দিনের ঈদের বেহিসেবী আনন্দ আর কোনদিন পাবো বলে মনে হয় না, স্মৃতি সম্বল।
"কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই..... "।
* ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা : গুগল
** লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা : অপসরা (মাঝে মাঝে মাটিতে নেমে এসে গোল বাঁধায়)।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


